খুঁজুন
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ফরিদপুরে কৃষকদলের আনন্দ মিছিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ফরিদপুরে কৃষকদলের আনন্দ মিছিল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জেলা ও মহানগর কৃষক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

ফরিদপুর মহানগর কৃষক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহা. মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরাদ হোসেন, মহানগর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রতন, মহানগর কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু বক্করসহ জেলা ও মহানগর কৃষক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আনন্দ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে আগমন করবেন—এই খবরে দেশবাসীর মাঝে নতুন প্রত্যাশা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তার নেতৃত্বেই আগামী দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক মিছিল বের হয়ে আনন্দ মিছিলে যোগ দেয়। এ সময় তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

ফরিদপুরে কুকুরের ধাক্কায় উল্টে গেল ভ্যান, প্রাণ গেল গৃহবধূর

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কুকুরের ধাক্কায় উল্টে গেল ভ্যান, প্রাণ গেল গৃহবধূর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভ্যান দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কোহিনুর বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রবিবার (১০ মে) দুপুরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহত কোহিনুর বেগম ভাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছিলাধরচর সদরদী বাস্তোখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইব্রাহিম মাতুব্বরের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে কোহিনুর বেগমসহ কয়েকজন যাত্রী ভ্যানে করে ভাঙ্গা বাজার থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ কয়েকটি কুকুর রাস্তার ওপর ছোটাছুটি শুরু করলে একটি কুকুর ভ্যানের নিচে পড়ে যায়। এতে ভ্যানচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে ভ্যানটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে।

দুর্ঘটনায় কোহিনুর বেগমসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কোহিনুর বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, কোহিনুর ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী একজন নারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম বিরাজ করছে। ছোট ছোট সন্তানদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

এদিকে এ দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই গ্রামীণ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল ও প্রাণীর অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনাময় ২৫টি হালাল ব্যবসার ধারণা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সম্ভাবনাময় ২৫টি হালাল ব্যবসার ধারণা

হালাল অর্থনীতি এখন আর কোনো সীমিত ধর্মীয় পরিসরের বিষয় নয়; বর্তমানে এটি একটি বৈশ্বিক, নৈতিকতা-নির্ভর ও আস্থাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। খাদ্য, পোশাক, শিক্ষা, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও সেবা খাত; সব ক্ষেত্রেই হালাল ধারণা আজ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে হালাল ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে মূলত তিনটি কারণে— নৈতিক উৎস নিশ্চিতকরণ, ভোক্তার আস্থা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা। ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে দুনিয়াবি লাভের পাশাপাশি মূল্যবোধ ও ইবাদতের অনুভূতিও যুক্ত থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে বাস্তব চাহিদা, বাজার সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতার আলোকে তুলে ধরা হলো ২০২৬ সালে শুরু করার মতো ২৫টি সম্ভাবনাময় হালাল ব্যবসার ধারণা।

খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাত

১. হালাল বেকারি

হালাল বেকারি এখনো হালাল অর্থনীতিতে প্রবেশের অন্যতম সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলোতে চাহিদা স্থায়ী, পাশাপাশি অমুসলিম ভোক্তারাও পরিচ্ছন্নতা ও নৈতিক প্রস্তুতির কারণে আগ্রহী হচ্ছেন। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন উপকরণের স্বচ্ছতা, মানসম্মত স্বাদ, ন্যায্য মূল্য এবং স্থানীয় আস্থা। আর্টিসান ব্রেড, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন বা স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যে বিশেষায়ন ব্যবসাকে আলাদা পরিচয় দিতে পারে।

২. হালাল ক্যাটারিং ব্যবসা

বিয়ে, করপোরেট অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক আয়োজন— সবখানেই হালাল ক্যাটারিংয়ের চাহিদা রয়েছে। ২০২৬ সালে গ্রাহকরা শুধু হালাল মান নয়, বরং পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা ও মেনুতে বৈচিত্র্য প্রত্যাশা করেন। নির্দিষ্ট রান্নার ধরন বা ডায়েটারি চাহিদায় দক্ষতা গড়ে তুললে সুনাম দ্রুত বাড়ে।

৩. হালাল ফুড ট্রাক

কম বিনিয়োগে শুরু করা যায় এমন জনপ্রিয় মডেল হলো হালাল ফুড ট্রাক। অফিস এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ইভেন্টকেন্দ্রিক এলাকায় এটি বিশেষভাবে কার্যকর। সঠিক লোকেশন, সীমিত কিন্তু মানসম্মত মেনু, দ্রুত সেবা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিতি এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।

৪. হালাল মিল প্রেপ সার্ভিস

ব্যস্ত পেশাজীবী ও পরিবারগুলোর কাছে হালাল মিল প্রেপ সার্ভিস দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক মডেল নিয়মিত আয় নিশ্চিত করে। ফিটনেস মিল বা পারিবারিক প্যাকের মতো বিশেষায়ন গ্রাহক ধরে রাখতে সহায়ক। তবে প্যাকেজিং, ডেলিভারি ও খাদ্য নিরাপত্তা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. হালাল কসাইখানা (অনলাইন বা অফলাইন)

হালাল মাংস একটি আস্থাভিত্তিক ব্যবসা। আধুনিক কসাইখানাগুলো যদি যাচাইকৃত উৎস, পরিষ্কার প্রক্রিয়াকরণ এবং অনলাইন অর্ডার, কাটিং বা ম্যারিনেশনের মতো বাড়তি সেবা দিতে পারে— তবে কম পরিসরেও শক্ত অবস্থান তৈরি সম্ভব।

ফ্যাশন, সৌন্দর্য ও লাইফস্টাইল

৬. মডেস্ট ফ্যাশন ই-কমার্স

মডেস্ট ফ্যাশন এখন বৈশ্বিক ট্রেন্ড। অনলাইন স্টোরগুলো সফল হয় তখনই, যখন মানসম্মত ডিজাইন, সঠিক সাইজিং, পেশাদার ছবি ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি নিশ্চিত করা যায়। শক্ত ব্র্যান্ডিং ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।

৭. হালাল কসমেটিকস ব্র্যান্ড

অ্যালকোহলমুক্ত ও নৈতিকভাবে উৎপাদিত সৌন্দর্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। হালাল সার্টিফিকেশনের পাশাপাশি কসমেটিকস নিরাপত্তা আইন মেনে চলা ও উপাদানের উৎস স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। ভোক্তা শিক্ষাই এখানে আস্থার ভিত্তি।

৮. হিজাব ও অ্যাকসেসরিজ ব্র্যান্ড

হিজাব ব্যবসায় সাফল্য আসে তখন, যখন সাধারণ পণ্যের বাইরে গিয়ে কাপড়ের উদ্ভাবন, স্টাইলিং গাইড ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডিং করা যায়। বান্ডেল পণ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট বিক্রি বাড়াতে সহায়ক।

৯. টেকসই মডেস্ট পোশাক

বর্তমানে টেকসই উৎপাদন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। ন্যায্য শ্রম, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও নৈতিক উৎপাদন দেখাতে পারলে তরুণ প্রজন্মের আস্থা ও আনুগত্য পাওয়া সহজ হয়।

১০. ইসলামিক গয়না ও উপহার

ইসলামিক গয়না আত্মিক অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। তাই কারুশিল্প ও গল্প বলার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। রমজান, ঈদ ও বিয়ের মৌসুমে চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে।

শিক্ষা, দক্ষতা ও সেবা

১১. অনলাইন কোরআন শিক্ষা

অনলাইন কোরআন শিক্ষার চাহিদা আন্তর্জাতিকভাবে বাড়ছে। সুসংগঠিত কারিকুলাম, যোগ্য শিক্ষক ও সময়ের নমনীয়তা অপরিহার্য। সাবস্ক্রিপশন মডেল স্থিতিশীলতা আনে।

১২. ইসলামিক ফাইন্যান্স শিক্ষা

হালাল বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। সহজ ভাষায় বাস্তব উদাহরণভিত্তিক কোর্সগুলো এই শূন্যতা পূরণ করছে।

১৩. অনলাইন টিউটরিং ও মেন্টরিং

বিশ্বাস ও সুনামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেবায় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ফলাফল প্রমাণ করা জরুরি।

১৪. আরবি ভাষা শিক্ষা

ছাত্র, পেশাজীবী ও পরিবার—সবার মধ্যেই আরবি শেখার আগ্রহ রয়েছে। অনলাইন মডুলার কোর্স বিশ্বব্যাপী পৌঁছাতে সহায়ক।

১৫. হালাল রান্নার ক্লাস

সংস্কৃতি ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটায় এই উদ্যোগ। থিমভিত্তিক ও ইন্টার‌্যাকটিভ ক্লাস জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবসা

১৬. হালাল ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস

একটি নির্ভরযোগ্য মার্কেটপ্লেস ভোক্তার আস্থা বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ব্র্যান্ডকে সুযোগ দেয়। বিক্রেতা যাচাই ও লজিস্টিকস এখানে মূল চ্যালেঞ্জ।

১৭. ইসলামিক মোবাইল অ্যাপ

নামাজের সময়, হালাল লোকেশন বা শিক্ষামূলক অ্যাপ। বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে পারলেই অ্যাপ টিকে থাকে।

১৮. হালাল ব্যবসার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং

সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বোঝা মার্কেটিং এজেন্সির চাহিদা বাড়ছে।

১৯. হালাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন

ব্লগ, পডকাস্ট বা ভিডিও— ধীরে আয় এলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব তৈরি হয়। ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে মুখ্য।

২০. এআই-ভিত্তিক হালাল সমাধান

শিক্ষা, কাস্টমার সাপোর্ট বা কনটেন্ট ব্যবস্থাপনায় নৈতিক এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভ্রমণ, কমিউনিটি ও অর্থনীতি

২১. হালাল ট্রাভেল এজেন্সি

মুসলিমবান্ধব ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে। নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতাই এখানে সাফল্যের ভিত্তি।

২২. ওমরাহ ও হজ সহায়তা সেবা

নৈতিকতা, দক্ষতা ও পরিষ্কার যোগাযোগ ছাড়া এই খাতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ভ্রমণের আগের প্রশিক্ষণমূলক সেবা বাড়তি মূল্য যোগ করে।

২৩. ইসলামিক বিবাহ ও ম্যাচমেকিং সেবা

গোপনীয়তা, যাচাই ও আস্থা নিশ্চিত করাই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ।

২৪. জাকাত ও দাতব্য ব্যবস্থাপনা টুল

ডিজিটাল জাকাত টুল হিসাব ও বণ্টন সহজ করে। বিশ্বস্ত সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

২৫. ইসলামিক ইভেন্ট প্ল্যানিং

বিয়ে, সম্মেলন ও কমিউনিটি ইভেন্টে ইসলামি শালীনতা বজায় রেখে পরিকল্পনা করাই এই পেশার মূল দায়িত্ব।

কোন হালাল ব্যবসাটি আপনার জন্য উপযুক্ত?

২০২৬ সালের হালাল অর্থনীতি সেই উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করে, যারা নৈতিক দৃঢ়তা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনাকে একত্রে ধারণ করতে পারেন। কেবল ট্রেন্ড অনুকরণ নয়, চাহিদা বোঝা, আস্থা গড়া এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নই সাফল্যের চাবিকাঠি।

উল্লিখিত ২৫টি হালাল ব্যবসার ধারণা কোনো শর্টকাট নয়। তবে এগুলো এমন বাস্তব ও পরীক্ষিত পথ, যা ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতা ও বৈশ্বিক প্রভাবসম্পন্ন একটি অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।

সূত্র : দ্য হালাল টাইমস

মাখন নাকি ঘি, কোনটি বেশি উপকারী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মাখন নাকি ঘি, কোনটি বেশি উপকারী?

গরম ভাতে এক চামচ ঘি আর সকালের নাশতায় টোস্ট বিস্কুটে মাখনের প্রলেপ— দুটিই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের পরিচিত অনুষঙ্গ। তবে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘি নাকি মাখন, কোনটি রাখা বেশি নিরাপদ ও উপকারী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটোরই উৎস দুধ হলেও এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের ওপর প্রভাব কিন্তু একেবারেই আলাদা।

চলুন জেনে নিন, ২০২৬ সালের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের নিরিখে কোনটি কোথায় এগিয়ে—

ঘি বনাম মাখন : পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ঘি ও মাখনের মূল পার্থক্য তৈরি হয় এদের প্রস্তুত প্রণালি ও উপাদানের ঘনত্বে।

১. ল্যাকটোজ ও ক্যাসিনমুক্ত ঘি

মাখন গরম করে এর জলীয় অংশ ও দুধের কঠিন অংশ আলাদা করে তৈরি করা হয় ঘি। ফলে এতে ল্যাকটোজ ও ক্যাসিন থাকে না। যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাদের জন্য ঘি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে, মাখনে অল্প পরিমাণে ল্যাকটোজ থেকে যায়।

২. স্মোক পয়েন্টে ঘি অনেক এগিয়ে

রান্নার নিরাপত্তার দিক থেকে ঘি নিঃসন্দেহে এগিয়ে। ঘি-এর স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০° সেলসিয়াস, অর্থাৎ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও এটি সহজে পুড়ে গিয়ে ক্ষতিকর ধোঁয়া তৈরি করে না।

অপরদিকে, মাখনের স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলক কম, প্রায় ১৫০° সেলসিয়াস। ফলে কড়াই বা প্যানে মাখন দিলে দ্রুত পুড়ে কালো হয়ে যেতে পারে এবং এতে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. হজম ক্ষমতা ও মেটাবলিজম

ঘিতে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও ঘিকে শরীরের ‘অগ্নি’ বা মেটাবলিজম বৃদ্ধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাখনও শরীরে শক্তি জোগায়, তবে এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি চর্বি হিসেবে জমার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

৪. ভিটামিনের ভাণ্ডার

ঘিতে ভিটামিন A, D, E ও K— এই চারটি ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা এবং হাড় মজবুত করতে সহায়ক। মাখনেও এই ভিটামিনগুলো রয়েছে, তবে জলীয় অংশ থাকার কারণে এর ঘনত্ব তুলনামূলক কম।

কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে?

এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আপনার জীবনযাপন ও শারীরিক অবস্থার ওপর—

ওজন কমাতে চাইলে

অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, পরিমিত পরিমাণে ঘি ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি শরীরের জমে থাকা চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, নুনযুক্ত মাখন (Salted Butter) শরীরে জল ধরে রাখতে পারে, যা ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে

যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ঘি বা মাখন— দুটিই খুব সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে সরাসরি মাখনের তুলনায় রান্নায় অল্প ঘি ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য

প্রতিদিন ১-২ চা চামচ ঘি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। মাখন মাঝেমধ্যে নাশতা বা জলখাবারে খাওয়া যেতে পারে, তবে রোজকার রান্নায় ঘি-ই বেশি উপযোগী।

শেষ কথা

শুদ্ধতা ও পুষ্টিগুণের বিচারে ঘি মাখনের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘির মান। বাড়িতে তৈরি বা খাঁটি গাওয়া ঘি হলে তবেই উপকার মিলবে। বাজারের ভেজাল বা ডালডা-মিশ্রিত ঘি শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস