খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিডি ক্লিন–ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়ক হলেন ফরিদপুরের কৃতি সন্তান এম জয়নাল সবুজ

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
বিডি ক্লিন–ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়ক হলেন ফরিদপুরের কৃতি সন্তান এম জয়নাল সবুজ

একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন–ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদপুরের কৃতি সন্তান এম জয়নাল আবেদীন সবুজ।

“পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৬ সালের ৩ জুন যাত্রা শুরু করা বিডি ক্লিন একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও আদর্শ সুনাগরিক গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিডি ক্লিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় সদস্য।

সম্প্রতি বিডি ক্লিনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে এম জয়নাল আবেদীন সবুজকে বিডি ক্লিন–ঢাকার বিভাগীয় সমন্বয়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, তিনি ২০১৯ সালে বিডি ক্লিনে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তার দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সর্বশেষ বিভাগীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব লাভ করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় এম জয়নাল আবেদীন সবুজ বলেন,“পদ কখনোই ক্ষমতার প্রতীক নয়; পদ হলো দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লাল-সবুজে আবৃত বিডি ক্লিনের টি-শার্ট গায়ে তুলেছি। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করা, নিজে একজন আদর্শ সুনাগরিক হওয়া এবং সবাইকে আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমার ও বিডি ক্লিনের মূল লক্ষ্য। আসুন, একা নয়—এক হয়ে সবাই মিলে গড়ে তুলব পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করার জন্য বিডি ক্লিন পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার দোয়া কামনা করছি। ইনশাআল্লাহ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বিডি ক্লিন–ঢাকাকে একটি আদর্শিক ও শক্তিশালী টিম হিসেবে গড়ে তুলব এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখব।”

এম জয়নাল আবেদীন সবুজ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বালিয়াটি গ্রামের মরহুম হাশমত আলী বেপারীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া মাদ্রাসা, ফরিদপুর থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করেন। পরবর্তীতে সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি ঢাকা জজ কোর্ট ও একটি ল’ ফার্মে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। শৈশবকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতা, মানবিকতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সেবামূলক কাজে তার গভীর আগ্রহ রয়েছে।

তার এই দায়িত্বপ্রাপ্তির ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিডি ক্লিনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসছেন এম জয়নাল আবেদীন সবুজ।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড