দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন
ফরিদপুরের নগরকান্দায় মসজিদের ভেতরে এক শিশু বালককে বলাৎকার চেষ্টার ঘটনায় হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীনের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন জানান, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
তিনি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও বলাৎকার চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ রায় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার ছাগলদী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন তার নাবালক ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াতেন। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত আলী হোসেনের কাছে যাতায়াত ছিল শিশুটির।
ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ৬ মার্চ সকালে শিশুটি অভিযুক্তের দোকানে গেলে কৌশলে তাকে পাশের একটি মসজিদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে একা পেয়ে বলাৎকারের চেষ্টা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার শিশু সন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুর পাড়ে কুকুরে লাশ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল।
ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা মা ও শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, নিহতদের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— উচমান (৬০), কবির শেখ (৪৫), মোরসালিন শেখ (২৮) ও হুমাই শেখ। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি-জমা নিয়ে চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন
Array