খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১২:০৭ পিএম
নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সংবাদ হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ যা আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধের যে কোনোদিনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেঊ কেউ বলছে, দ্রুত সাধারণ নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এবং দেশি-বিদেশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনে করছেন, গত ১৫ বছরের সব জঞ্জাল দূর করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এ হাত দিক, তাতে যদি ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগে তাতেও সমস্যা নেই।

তারা মনে করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেমন বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাহী বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারসহ দেশের যেসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে সাধারণ জনগণের কাছে বিতর্কিত করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করাসহ যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। সেই দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার বেশকিছু সংস্কার কমিটিও গঠন করেছে, ওইসব সংস্কার কমিটির রিপোর্টও ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো তারা সব সংস্কার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে যা জাতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ‘রাষ্ট্র-সংস্কার’ শব্দটি ক্ষুদ্র হলেও এর ব্যাপকতা অনেক বেশি।

তাই দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, লেখক, গবেষক এবং সুশীল সমাজসহ সব পর্যায়ের জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আছে, আছে ’৭২-এর সংবিধান, অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এসবের সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিভিত্তিক ইনপুট এবং পর্যাপ্ত সময়। এমন এমন সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার সংস্কার ৬ মাসে সম্ভব, কোনোটা ১ বছর, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ১ বছরের অধিক সময়ও লাগতে পারে। এসব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে সর্বাগ্রে দরকার সংস্কারের গুরুত্ব অনুযায়ী একটি প্রায়োরিটি লিস্ট করা। অতঃপর সেই প্রায়োরিটি অনুসারে সংস্কার কার্যক্রমে মনোনিবেশ করা। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ফ্যাসিবাদের পতনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এই কাজের জন্য যে যে সংস্কার প্রয়োজন তা দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা। তারা মনে করেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া যা নির্বাচিত সরকার পরবর্তী সময়েও চলমান রাখতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের উচিত একটা রোডম্যাপ প্রস্তুত করে তা জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বরাতে জানা যায়, সংস্কারসহ জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে সংঘটিত নৃশংস ও বর্বরিত হত্যাকাণ্ডের ওপর একটি দলিল যাকে ‘জুলাই সনদ ২০২৪’ নামে প্রস্তুত করে তা সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করা হবে যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এসব করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল পুরনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে নির্বাচন করলেই কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাব এসেছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকার গঠনের একটি নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই কাঠামোর আওতায় গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত পরিষদ গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ভোটিং কাঠামো প্রস্তাব করা যেতে পারে, যেখানে সাধারণ ভোটারের ভোটের ওজন হবে ৭৫% এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভোটের ওজন থাকবে ২৫%। এতে জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি স্থানীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণও সুনিশ্চিত হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ, নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ও কাঠামো নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান। এর জন্য দরকার সময়সীমা নির্ধারণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং আন্তরিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সে পথে হাঁটতে দেখছি না। দেখছি না সেই বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা সংগ্রামী ছাত্রদের, যাদের প্রতিবাদী কণ্ঠে মানুষ দেখেছিল নতুন এক ভোরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছিল মুক্তি, ছিল স্বাধীনতা, ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ছিল একটি ন্যায়ের সমাজ গঠনের প্রত্যাশা।

জাতীয় নির্বাচন, যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের মতপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম, যার জন্য গত ১৫ বছর মানুষ সংগ্রাম করেছে, আজ তার দিন-তারিখ ঠিক করতেই অতিবাহিত হয়েছে ১০ মাস। কবে সেই কাক্সিক্ষত নির্বাচন? আদৌ হবে কী? এরই মধ্যে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, প্রশাসনিক পক্ষপাতÑ সব মিলিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য ক্ষমতাগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার স্বাদ পেতে সব আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনের তাড়াহুড়া, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাম্রাজ্যের দখল নেওয়ায় ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি সব মিলিয়ে বর্তমান তরুণদের অনেকেই এখন রাজনীতিকে দেখছে আজ ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমেই কলুষিত হয়ে পড়ছে। দেশ একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়Ñ এটি একটি নৈতিক সংকট, একটি চেতনার সংকট। সেজন্য প্রয়োজন আদর্শনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি, যা হতে পারে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। ইতিহাস বলে, যে জাতি অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে জানে, তারা কখনও চিরকাল নিপীড়িত থাকে না। তাই আমাদের সামনে এখনও পথ আছে। সেই পথ সংগ্রামের, প্রশ্নের, আত্মজিজ্ঞাসার। স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে, তবে তাকে বাস্তব করতে হলে দরকার একটানা চেষ্টা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সত্যিকারের সাহস। যদি আমরা সেই পথে হাঁটতে পারি, তবে নিশ্চিতভাবেই একদিন মুক্তি আসবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং মানুষ আবার বিশ্বাস করতে পারবেÑ এই দেশটি সত্যিই আমার এবং আমাদের।

কর্নেল মো. ইলিয়াস হোসেন : প্রকৌশলী ও গবেষক

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”