খুঁজুন
, ,

পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

খিল ভদ্র,
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২১ অপরাহ্ণ
পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা কমছে না। সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পথশিশুদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে।

আর মাদকাসক্ত পথশিশুরা চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি বলে বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পথশিশুদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এই অবস্থায় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পথশিশুরা।

তাদের বিষয়ে নানা সুপারিশ তুলে ধরা হবে। কিন্তু সেই সুপারিশ ও প্রস্তাব বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পথশিশুর সংখ্যা। রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০ লাখ পথশিশুর জন্য মাত্র দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।

একটি কমলাপুরে, আরেকটি কারওয়ান বাজারে। কেন্দ্র দুটিতে রয়েছে ১৫২ শিশুর থাকার ব্যবস্থা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ পরিচালিত ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ, ফেইজ-২’ প্রকল্পের ২০২৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি পথশিশু রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে এসব শিশুকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দারিদ্র্যের চক্রে স্থায়ী করে রাখা হয়েছে।

মা-বাবার অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও সামাজিক নিগ্রহসহ নানা বিরূপ পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গবেষণায় বলা হয়, দেশে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত। ১৪ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সের আগেই মাদক সেবন করে। তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় পথশিশুদের মধ্যে ৩১.৭ শতাংশ গাঁজা সেবন করে। ড্যান্ডি মাদকে আসক্ত ১৫.২ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া রাজধানীতেই ড্যান্ডিতে আসক্ত পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২’ প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের পথশিশুর ৪৮.৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২.৭ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮.৩ শতাংশের বসবাস। সবচেয়ে কম পথশিশু সিলেট বিভাগে, ৪ শতাংশ। পথশিশুর ৮২ শতাংশ ছেলে ও ১৮ শতাংশ মেয়ে। আর অর্ধেকের বেশি পথশিশুর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। প্রতি তিন পথশিশুর মধ্যে প্রায় একটি (৩৩ শতাংশের বেশি) জীবনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। প্রায় অর্ধেক শিশু পাটের ব্যাগ, শক্ত কাগজ, প্লাস্টিকের টুকরা বা পাতলা কম্বল নিয়ে মাটিতে ঘুমায়।

বিবিএসের তথ্য বলছে, প্রতি ১০ পথশিশুর মধ্যে ৯টি বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এর মধ্যে ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকের সহায়তাকারী ১৮.৪ শতাংশ। ময়লা কুড়িয়ে (টোকাই) জীবন যাপন করছে ২০.৯ শতাংশ। তা ছাড়া যৌনকর্মী হিসেবে যুক্ত হচ্ছে মেয়ে পথশিশুরা। ঝাড়ু দেওয়া ও পরিচ্ছন্নতা কাজে যুক্ত ০.৫ শতাংশ পথশিশু। আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন খাত ও নির্মাণকাজে যুক্ত ১৬ শতাংশ পথশিশু। চায়ের দোকান, কারখানা ও ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৪.৮ শতাংশ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ফুটপাতে, রেলস্টেশন, বাস কাউন্টার, টার্মিনাল, ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজের নিচে, এমনকি সড়ক বিভাজকের ওপর পথশিশুরা অবস্থান করে। কারওয়ান বাজার, কমলাপুর, পল্টন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সদরঘাট এলাকায় এদের তৎপরতা বেশি। এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের কারণে নানা অপরাধেও জড়াচ্ছে তারা। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া পথশিশুর সংখ্যা ৪৪ শতাংশ। ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ পথশিশু। আবার এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে পথশিশুরা। ঢাকার বাইরেও ছোট-বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সড়কে পথশিশুদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ এভাবেই গড়াগড়ি খাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কের (স্ক্যান) সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, পথশিশুদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। যেসব সংস্থা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশে তার সংখ্যাও অনেক কম। পথশিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে পুনর্বাসনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি মাদক বিক্রিতেও তারা ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার একটি বড় অংশ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত। ভিক্ষাবৃত্তি ও মাদকাসক্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হবে। এ জন্য ১০ বছরের নিচের পথশিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের নন-ফরমাল এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে।

পথশিশুদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুরা যেন পথে না আসে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে পথে থাকা শিশুদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রথমে পথশিশুদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। সংখ্যা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের সুরক্ষায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়ালে পথশিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, পথশিশুদের পারিবারিক শৃঙ্খলা, শাসন ও আদর না থাকায় তারা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবনের পাশাপাশি কন্যাশিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় তাদের পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক আনিচুর রহমানসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে আসা একটি পরিবহন বাসের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে টেকেরহাটগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এতে দুই বাসের অন্তত ১৩ যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক আনিচুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​একই সময়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের উল্টো পথে ঢুকে পড়ে একটি অটোরিকশা। অটোরিকশাটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের চালক ও সহকারীসহ ৩ জন আহত হন।

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

​ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের পর জানানো হবে।

হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

জীবনটা যেন এক পলকেই থমকে গিয়েছিল। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল শরীরের শক্তি, কেড়ে নিয়েছিল ডান পা-টি। তবে জীবনের কাছে হার মানেননি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসান বিশ্বাস (৪৫)। এক হাতের কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর এক পা কেটে বাদ দেওয়ার পরও ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি তিনি। হুইলচেয়ারে বসেই চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের আত্মসম্মান ও স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।

​১২ বছর আগের কথা। নসিমন চালিয়ে স্ত্রী, সন্তান আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল হাসানের সংসার। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেটে ফেলতে হয় একটি পা, অবশ হয়ে যায় শরীরের এক পাশ। স্বাভাবিক চলাফেরার পথ বন্ধ হয়ে চিরতরে ঠাঁই হয় হুইলচেয়ারে।

​প্রতিদিনের গোসল, খাওয়া থেকে শুরু করে বিছানায় ওঠা-নামার মতো দৈনন্দিন কাজেও এখন পরিবারটির ভরসা হতে হয় হাসানকে। যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব একা কাঁধে সামলেছেন, তাঁকেই আজ অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।

​তবে অন্তরের অদম্য তেজ ও আত্মমর্যাদাবোধ তাঁকে দমাতে পারেনি। ভিক্ষা না করে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেই শুরু করেন ছোট্ট এক ব্যবসা। বোয়ালমারী পৌরসভার সোতাশী রহমানির আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে প্রতিদিন হুইলচেয়ারে বসে চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। চাকার ওপর ভর করেই মেলে ধরেন বেঁচে থাকার নতুন লড়াই।

​আবেগপ্লুত কণ্ঠে হাসান বিশ্বাস বলেন, “দুর্ঘটনার পর জীবনটা পুরো বদলে গেছে। এখন নিজের অনেক কাজও একা করতে পারি না, স্ত্রী-সন্তানের সাহায্য লাগে। কিন্তু আমি কারও বোঝা হতে চাই না। অল্প আয়ে যতটুকু পারি, দোকানটা চালিয়ে খাই। ভিক্ষা না করে নিজের পরিশ্রমে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।”

​বাবার এই আত্মমর্যাদার লড়াই দেখে বড় হওয়া হাসানের সন্তান জানান, “বাবা অনেক কষ্ট করেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই বাবাকে এমন দেখে আসছি। অনেক কাজে আমাদের সাহায্য করতে হলেও বাবা কখনো হাত পাততে চাননি। এই ছোট্ট দোকানটাই বাবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বড় চেষ্টা।”

​দোকানের অল্প বেচাকেনায় সংসার চালানো কঠিন হলেও প্রতিদিন দোকান খোলার মধ্যেই নতুন করে বাঁচার সাহস পান বোয়ালমারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা।

​নিজের ব্যবসার পুঁজি বাড়িয়ে দোকানটি একটু ভালোভাবে পরিচালনা করতে চান হাসান। তাই কোনো বড় দাবি নয়, বরং কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও সামান্য পুঁজির সহায়তার জন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।

​হুইলচেয়ারের ওপর সাজিয়ে রাখা কয়েকটি চানাচুর আর বিস্কুটের প্যাকেট যেন আজ হাসানের জীবনের এক বড় সত্য প্রকাশ করে—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছে ও আত্মসম্মানকে থমকে দিতে পারে না।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. রকিবুল হাসান বলেন, ​“হাসান বিশ্বাসের এই আত্মমর্যাদাবোধ ও অদম্য ইচ্ছা সত্যিই অনুকরণীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ এড়িয়ে নিজের পরিশ্রমে বেঁচে থাকার এই লড়াই সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত তাঁর খোঁজখবর নেব।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে সরকারি কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হলে তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর এই ছোট ব্যবসাটিকে আরও গতিশীল করতে কীভাবে সরকারি সহায়তা বা প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে শামিম খান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, গজগাহ চ্যাম্পিয়ন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে শামিম খান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, গজগাহ চ্যাম্পিয়ন

জমকালো ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘শামিম খান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গজগাহ ফুটবল একাদশ। চার গ্রামের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের সমাপনী ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-২ গোল ব্যবধানে তারা পরাজিত করে রাধানগর ফুটবল একাদশকে।

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত এই টানটান উত্তেজনার খেলায় শুরু থেকেই উভয় দলই দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে মাঠের উপস্থিত ক্রীড়ামোদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে আরও ১০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়। তবে অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে।

​টাইব্রেকারে গজগাহ ফুটবল একাদশের ‘স্পেশালিস্ট’ গোলকিপার বিএম নিজাম প্রতিপক্ষের দুটি দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে দিয়ে দলকে জয় এনে দেন।

​বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার পুরুষ ও নারী দর্শক মাঠের চারপাশে উপস্থিত থেকে খেলাটি উপভোগ করেন।

​ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা আফরিন। খেলায় সভাপতিত্ব করেন রামনগর ইউনিয়নের সমাজসেবক আব্দুল মান্নান মন্ডল।

​এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মুকুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল কোচ ও রাজশাহী বিভাগের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক ডেপুটি ডাইরেক্টর এস এইচ এম শামসুদ্দোহা চাঁদ।

​ম্যাচটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুমোদিত ও ২০২১ সালের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা রেফারি সাইফ দোহা। ধারাবিবরণীতে ছিলেন চরভদ্রাসনের শেখ সাজু ও ইঞ্জিনিয়ার বিএম নাইম।

​খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে স্মার্ট টেলিভিশন তুলে দেন তরুণ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মো. ফিরোজুল হক মোল্লা। অন্যদিকে রানার্সআপ দলের স্মার্ট টেলিভিশন পুরস্কারটি প্রদান করা হয় কুঞ্জনগর স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে।

​রামনগর স্পোর্টিং ক্লাব ও কুঞ্জনগর বাজারের সদস্যদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে টুর্নামেন্টটির সফল আয়োজনে ভূমিকা রাখেন আব্দুল হান্নান মাতব্বর, সালাম ব্যাপারী, বিল্লাল হোসেন রানা, মুরাদ মাতুব্বর, রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানুজ্জামান চৌধুরী, কৃষ্ণডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ মোল্লা, সুমন মুন্সী, মুসা মুন্সী, পিন্টু মোল্যা, সাঈম হোসেন, সিরাজ মিয়া, শামীম হাচান, ফরিদ মোল্যা, মেহেদী খান, পারভেজ খান, রমিজ খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুম শামিম খানের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

​প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি সফলভাবে বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন বাপ্পি।