খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরান ইউএনও রাসেল ইকবাল

মিয়া রাকিবুল, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরান ইউএনও রাসেল ইকবাল

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার এই ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে এসে অধ্যয়ন করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলমুখী করতে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও সামগ্রী বিতরণসহ নানা আয়োজন করছেন তিনি। ইউএনও’র এই সক্রিয় ভূমিকায় অভিভাবক ও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

​সরেজমিন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউএনও রাসেল ইকবাল আলফাডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের চেষ্টা শুরু করেন। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও ঝরে পড়ার হার রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সাথে নিয়ে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, মা সমাবেশ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। এলাকার সুধীজন, অভিভাবক, শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে গ্রহণ করেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।​​ইউএনও তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষকদের মাসিক সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করে তুলেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতেও দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। উপজেলায় বিভিন্ন সাব-ক্লাস্টারে আয়োজিত পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে শিক্ষকদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মনিটরিং শুরু করেছেন। আকস্মিক স্কুল পরিদর্শন করে ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে যুগোপযোগী পাঠদানের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও রাসেল ইকবাল গত ২১ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার চরাঞ্চলের দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া টেলিভিশন, তিনটি ল্যাপটপ ও পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়াল ঘড়ি বিতরণ করেন। এরপর গত ২০ মে মধুমতী নদীর ওপারে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ, খাতা-কলম ও পরীক্ষার ফোল্ডার বিতরণ করেন। নদী ভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শতাধিক শিক্ষার্থীকে জুতাসহ স্কুল ড্রেস এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের কমপক্ষে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে খাতা-কলম ও ছাতা বিতরণ করেছেন। এছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও আইসিটির দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অন্তত এগারোটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিন্টার বিতরণ করা হয়। গত চারমাসে সবমিলিয়ে উপজেলার কমপক্ষে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০০-৮০০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করেছেন ইউএনও রাসেল ইকবাল।

​ইউএনও’র এই উদ্যোগ সম্পর্কে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে আসছিল। কিন্তু ইউএনও স্যার নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি শিক্ষা উপকরণ তুলে দিচ্ছেন। তার এই সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষকদেরও দায়িত্ববোধ অনেক বেড়েছে। এই উদ্যোগ আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে সত্যিই পাল্টে দিয়েছে।’

​ইউএনও’র এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগগুলো সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শমসের উদ্দীন টিটো বলেন, ‘আলফাডাঙ্গায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইউএনও মহোদয়ের নানামুখী কর্মসূচি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইতোপূর্বে কোনো ইউএনওকে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখিনি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুরা এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসায় উপস্থিতির হারও বাড়ছে।’

​জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘একটি জাতিকে উন্নত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, তাই শিক্ষার উপর বিশেষ নজর দিয়েছি আমি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষার বুনিয়াদ শুরু হয় প্রাথমিক স্তরে। যদি সফলভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় তবেই টেকসই উন্নয়ন সাধিত হবে।’

ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম (৩৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার মাতৃকুঞ্জ নামে একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামে। তিনি নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাসায় ফোন করেন। এ সময় তার মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার (প্রায় ৪ বছর) জানায়, কিছুক্ষণ আগে তার বাবা তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে পাশে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে এখনো নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।”

অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, “হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।”

এলাকার চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, “ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি।”

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এত মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”

চটপটি বিক্রেতা মো. হায়দার মন্ডল বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো নজর নেই—এটা খুবই দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।”

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”