খুঁজুন
, ,

নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ফরিদপুর-২ আসনে গাছে গাছে পোস্টার, নীরব প্রশাসন?

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ফরিদপুর-২ আসনে গাছে গাছে পোস্টার, নীরব প্রশাসন?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে। আচরণবিধি অনুযায়ী গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুন টাঙানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন গাছে একাধিক নির্বাচনী পোস্টার টাঙানো রয়েছে। এসব পোস্টারে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম, ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচনী প্রচারণার আওতায় পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পোস্টার টাঙানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে শাফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তিনি খোয়াড় গ্রামের জহুর ফকিরের ছেলে এবং ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ রিংকুর অনুসারী বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া শাফিকুল ইসলাম বিএনপির প্রাথী শামা ওবায়েদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন। তাইতো তার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এভাবে গাছে পোস্টার লাগানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

খোয়াড় গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আচরণবিধি সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন শিথিল। গাছে গাছে পোস্টার লাগানো পরিবেশেরও ক্ষতি করছে।”

এ ব্যাপারে সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এ বিষয়ে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। তারা বিষয়টি দেখছেন। আমি বিষয়টি তাদের অভিহিত করবো। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। কেউ আচরণবিধি ভাঙলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে এখনো পর্যন্ত ওই পোস্টারগুলো অপসারণ বা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই কঠোর নজরদারি ও সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

 

ফরিদপুরে স্কাপ সিরাপসহ নারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কাপ সিরাপসহ নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪৫ বোতল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য স্কাপ সিরাপসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের শহরের গোয়ালচামট এলাকায় লিজা বিউটি পার্লারের সম্মুখে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে হালিমা খাতুন (৩৩) নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে হালিমা খাতুন (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছে একটি লাল রংয়ের কাপড়ের ব্যাগের ভেতর থেকে স্কাফ কফ সিরাপের ৪৫ বোতল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি বোতলে ১০০ মি.লি. হিসেবে সর্বমোট ৪.৫ লিটার স্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।গ্রেফপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, ‘‘উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে ইতোমধ্যে ফরিদপুর কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’’

মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

মানুষ ভুল করে। অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। কারণ, ভুল করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই জীবনের নানা পর্যায়ে জেনে বা না জেনে মানুষ বিভিন্ন ভুল ও গোনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহানবী (সা.) বলেছেন, গোনাহ করে তাতে অটল থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ মৃত্যু কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই তওবার সুযোগ থাকা অবস্থাতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৩)

এর পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তওবার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগে।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৪)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন সাতটি গোনাহের কথা বলেছেন, যেগুলোকে তিনি ‘ধ্বংসাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো থেকে প্রত্যেককে বেঁচে থাকার উপদেশ দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে সেই প্রাণ হত্যা করা যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া।’ (বোখারি: ২৭৬৬)

আলোচিত এই সাত গোনাহ হলো:

১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

শিরক হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বিশেষ অধিকার বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে শরিক করা। এটি ইসলামে সবচেয়ে গুরুতর গোনাহগুলোর একটি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্য গোনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা আন-নিসা: ৪৮)

তবে এর অর্থ এই নয় যে জীবিত অবস্থায় শিরক থেকে তওবা করলে ক্ষমার দরজা বন্ধ। বরং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে এসে ঈমান গ্রহণ ও তওবা করলে ক্ষমার আশা রয়েছে। সুরা আল-ফুরকানের ৬৮ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে শিরকসহ গুরুতর গোনাহের উল্লেখের পর তওবাকারীদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার কথা বলা হয়েছে।

২. জাদু করা

জাদু ইসলামে মারাত্মক গোনাহ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, তার মধ্যে জাদুর কথাও রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

জাদুর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা, প্রতারণা করা কিংবা মানুষের বিশ্বাস ও জীবনকে বিপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা গুরুতর অপরাধ। তাই কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা জরুরি।

৩. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা

অন্যায়ভাবে শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া মানুষের প্রাণ নেওয়া ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত সাত ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যেও এটি রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন, ন্যায্য কারণ ছাড়া তা হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।’ এরপর এসব কাজের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কথা ভিন্ন।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৬৮-৭০)

অতএব, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে শুধু মুখে তওবা করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের অধিকার ও সংশ্লিষ্ট দায়দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে।

৪. সুদ খাওয়া

সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যে সুদ খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

সুদের লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি যদি এ গোনাহ থেকে মুক্ত হতে চান, তাহলে তাকে হারাম লেনদেন পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। একই সঙ্গে কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাও রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। (বোখারি: ২৭৬৬)

এতিম ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পদ আত্মসাৎ করা তাই শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং গুরুতর জুলুমও। কেউ এ গোনাহে জড়িয়ে পড়লে আন্তরিক তওবার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সম্পদ যথাযথ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

হাদিসে বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের একটি হলো যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা থেকে পলায়ন করা। (বোখারি: ২৭৬৬)

এটি মূলত শরিয়তসম্মত যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিধান। তাই সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতে বিপদ থেকে সরে আসা বা নিজেকে রক্ষা করাকে এই হাদিসের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। বরং ইসলামী বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে অন্যায়ভাবে পলায়নের বিষয়টি এখানে বোঝানো হয়েছে।

৭. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া

কোনো নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ভয়াবহ গোনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকেও সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা সতী নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এরপরই আল্লাহ তওবার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। (সুরা আন-নুর: ৪-৫)

তওবার সুযোগ থাকা অবস্থায় ফিরে আসা জরুরি

ইসলামে গোনাহ যত বড়ই হোক, বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে। তাই উল্লিখিত গোনাহগুলো করে থাকলে মৃত্যু আসার আগে এখনই তওবা করা জরুরি। তবে তওবা শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার নাম নয়। গোনাহ ছেড়ে দেওয়া, নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গোনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আর গোনাহের সঙ্গে যদি মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে সমাধান করাও জরুরি। কারও সম্পদ আত্মসাৎ, কারও ওপর জুলুম বা কারও সম্মানহানি করা হলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৭০)

তাই মৃত্যু আসার অপেক্ষা না করে জীবিত থাকতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা উচিত। কারণ তওবার সুযোগ থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা শাস্তি আসার আগেই তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। (সুরা আজ-জুমার: ৫৩-৫৪)

ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

বাজারে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। রাসায়নিক দেওয়া মাছ খেলে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা, যকৃতের সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এমনকি ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে। 

মাছে ফরমালিন দেওয়া হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

ফরমালিন ব্যবহার করলে তীব্র গন্ধ হয়। এ কারণে মাছিরা ফরমালিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাছ এড়িয়ে চলে। তাই মাছের ওপর মাছি না বসলে, সেই মাছ তাজা ভেবে ভুল করবেন না। হতে পারে সে মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাছে ফরমালিন থাকলে এর মাংস স্বাভাবিকভাবে নরম ও স্থিতিস্থাপক না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হয়। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে না। এর পরিবর্তে একটি ক্ষীণ, তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়। মাছটি পরিণত হলেও এর ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে। তাছাড়া এই রাসায়নিক থাকলে মাছের আঁশ শক্ত হয়।

মাছের ফরমালিন দূর করার উপায়

আজকাল বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে মাছ বিক্রয় করে। যদি বুঝতে পারেন মাছ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিন। ফরমালিন দূর করতে ১০-১২ মিনিট কল ছেড়ে চলমান পানিতে মাছ ধুয়ে নিন। পারলে মাছগুলো হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয় এবং ভালোভাবে ধুলে এর পরিমাণ কমে যায়।

রাসায়নিক দূষণের সন্দেহ থাকলে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার খাবেন না। উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করে খান।

সূত্র : নিউজ১৮