খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে এ.কে. আজাদের গাড়ীবহরে হামলার অভিযোগ 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এ.কে. আজাদের গাড়ীবহরে হামলার অভিযোগ 

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ গণসংযোগকালে স্থানীয় যুবদল বিক্ষোভ করে ও নায়াব ইউসুফের পক্ষে স্লোগান দিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় এ.কে. আজাদের গাড়ি বহরের মধ্যে দুটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

তবে পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে বড় কোন অঘটন ঘটা ছাড়াই এ.কে আজাদ তার বহর নিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

গণ সংযোগের উদ্দেশ্যে রবিবার (১৯ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণ নগর ইউনিয়নের পমানন্দপুর বাজার এলাকায়।

বিকেল ৪টার দিকে এ কে আজাদ পরমানন্দপুর বাজারে যান। প্রথমে তিনি পরমানন্দপুর বাজার সংলগ্ন জামে মসজিতে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাজার এলাকায় এসে গণসংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর রহমান ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি নান্নু মোল্লার নেতেৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। মিছিলকারীরা এ. কে. আজাদকে উদ্দেশ্য করে শ্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মিছিলকারীরা ‘একশন একশন ডাইরেক্ট একশন’ শ্লোগান দিয়ে এ.কে আজাদকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় মিছিলকারীদের নায়াবা ইউসুফের পক্ষে শ্লোগান দিতে দেখা যায়। নায়াব কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির একাংশের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী।

ওই সময় এ. কে. আজাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী এ.কে আজাদকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে পুলিশের অনুরোধে এ.কে আজাদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পরমানন্দপুর মাঠে অবস্থান নেওয়া এ.কে আজাদের গাড়ি বহর পুলিশ প্রহরায় একে একে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে শেষের দুটি গাড়িতে আখ দিয়ে আঘাত করে কাচ ভাংচুর করে যুবদলের নেতাকর্মীরা।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়নে যুবদলের কোন কমিটি নেই। পরমানন্দপুরে আমার কোন লোক এ ঘটনা ঘটায়নি।

ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ.কে আজাদ বলেন, রাজনীতির এ সহিংসতার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকও এ জাতীয় আচরণ করেননি। নায়াব ইউসুফের কাছ থেকে এ জাতীয় আচরণ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেনি। এ সব ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে ঘণিভূত করবে।

এ.কে আজাদ বলেন, তিনি এ ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি এই সবের মধ্যে নাই। আমি আমার নেতাকর্মীদের দৃঢ়তার সাথে বলেছি, এ জাতীয় কোন কাজ না করতে।

নায়াব ইউসুফ বলেন, এ.কে আজাদ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন তার কোন ভিত্তি নেই, তিনি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এসব কথা বলছেন যাতে আমার ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, তার বহরের সাথে আওয়ামী লীগ পদধারী নেতারা থাকেন। এদের দেখে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, পরমানন্দপুরে আজ ছিল হাঁটের দিন। সেখানে এ.কে আজাদ গণ সংযোগ করতে গিয়েছিলেন। অপরদিকে যুবদলের লোকজনও গণসংযোগ করছিল। এসময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় চলে এলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ওসি বলেন, এসময় পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ.কে আজাদের গাড়ি বহর নির্বিঘ্নে পার করিয়ে দেয়।

দুটি গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, একটি এ.কে আজাদের বহরের এবং অন্যটি আইনশৃঙ্খলাবাহীনীর। এঘটনায় অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পুলিশ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান শুরু করেছে সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে দুদক কার্যালয়ের একটি চৌকস টিম হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করে।

​দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না দিয়ে হয়রানি করা, দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার ও বিক্রি করার মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান শুরু করে।

​অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্রশাসনিক শাখা ও ফার্মেসি ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেজিস্টার যাচাই-বাছাই করেন।

​অন্যদিকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাক ও কর্মকর্তারা জানান, দুদকের তদন্ত কাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের দাপ্তরিক তথ্য দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজ জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হচ্ছে।

​তিনি আরও জানান, অভিযান এখনো চলছে। তদন্ত শেষে যেসব অনিয়ম বা তথ্য পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পর্যবেক্ষণ শেষ হলেই সামগ্রিক বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সারাদেশের ন্যায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভার্চ্যুয়ালি এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো চরভদ্রাসন উপজেলা থেকেও প্রতিনিধিরা সরাসরি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

​উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিনি কনফারেন্স রুমে ভার্চ্যুয়ালি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

​চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহীদ তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান বিন ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, সদস্য মো. কুদ্দুস আলী ও যুবদল সভাপতি মো. মোজাফফর হোসেন জাফর। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও তথ্যসংগ্রহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপের এ কাজে ১৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও দুইজন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য সব ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করা হবে।

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়োজিত তথ্যসংগ্রহকারীরা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন।

​পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সভাপতিত্বে প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস সেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​প্রেস কনফারেন্সে ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।