খুঁজুন
, ,

চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সারাদেশের ন্যায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভার্চ্যুয়ালি এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো চরভদ্রাসন উপজেলা থেকেও প্রতিনিধিরা সরাসরি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

​উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিনি কনফারেন্স রুমে ভার্চ্যুয়ালি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

​চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহীদ তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান বিন ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, সদস্য মো. কুদ্দুস আলী ও যুবদল সভাপতি মো. মোজাফফর হোসেন জাফর। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও তথ্যসংগ্রহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপের এ কাজে ১৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও দুইজন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য সব ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করা হবে।

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়োজিত তথ্যসংগ্রহকারীরা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন।

​পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সভাপতিত্বে প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস সেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​প্রেস কনফারেন্সে ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর অংশগ্রহণের আহ্বান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর অংশগ্রহণের আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পদ্মা নদীবিধৌত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেলের গোলডাঙ্গীর চরে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘জলবায়ু পরিবর্তন সবার জন্য ঝুঁকি, নারীর জন্য দ্বিগুণ হুমকি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ফরিদপুর জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে।

​জেলা মহিলা পরিষদের সহসভাপতি হাসিনা মোশাররফের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খুশি খন্দকার।

​সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হোসনেআরা খানম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউবি সিকদারসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও চরাঞ্চলের সদস্যরা।

​সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি নারীদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলে। তাই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

​সভা শেষে চরাঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং এ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পদ্মা নদীর গ্রাসে ফরিদপুরে বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
পদ্মা নদীর গ্রাসে ফরিদপুরে বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু

ফরিদপুর সদরে পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় সেতুটি অবস্থিত। পদ্মা নদীর মূল ধারা ও একটি শাখা নদীর মধ্যবর্তী চর এলাকায় নির্মিত এই সেতুটি দিয়ে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মন্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের অধিবাসীরা যাতায়াত করতেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছরাগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ দৈনিক এ পথে চলাচল করতেন।

​এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, গত দুই মাস আগে থেকেই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়, তবে গত ১৫ দিনে তা মারাত্মক রূপ নেয়। গত চার দিন ধরে সেতুটির পূর্ব পাশের সড়ক ভাঙনে বিলীন হচ্ছিল। শনিবার সকালে সেতুর পূর্বের অংশ নদীতে ধসে পড়ে।

​তিনি আরও জানান, গত দুই মাসের নদীভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামের ৫০টি পরিবারসহ মোট ২৫০টি বসতবাড়ি নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, “সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে বসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।”

​ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, কবিরপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতুটি রক্ষায় ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হলেও নদীভাঙন প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত থাকায় এটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমের কারণে তাৎক্ষণিক বড় পদক্ষেপ নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

​ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “গত ৩৫ বছরে ওই এলাকায় এমন তীব্র ভাঙন দেখা যায়নি। নদী তার পুরনো রূপ ও প্রবাহে ফিরে আসছে বলে মনে হচ্ছে।”

​এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, সেতুর দুই পাশেই পদ্মার দুটি ধারা প্রবাহিত এবং উভয় পাশেই ভাঙন চলছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরে চলে এসেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটারজুড়ে এই ভাঙন বিস্তৃত। ভরা বর্ষায় এ অবস্থায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দল এনে পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।