খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে ব্যবসায়ী দুলু হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ব্যবসায়ী দুলু হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দেলোয়ার হোসেন দুলু (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫), মেয়ে মারিয়া (১০) ও ছেলে মোহাম্মদ আলী মোল্যাসহ (৮) কয়েকশ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে জেলার বোয়ালমারী পৌরসদরের ওয়াপদা মোড়ে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধরা। সড়ক অবরোধ করার সময় এলাকাবাসী সড়ক জুড়ে বসে পড়ে। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসানের উপস্থিতিতে হত্যাকান্ডের সঠিক বিচারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় তারা।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন দুলু মোল্যা মারা যাওয়ায় আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর ও আরো দুই আসামীকে এজাহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান অবরোধকারীরা।
মানবন্ধনে নিহতের দুই শিশু সন্তান চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী মোল্যা, স্ত্রী খাদিজা বেগম, বড় বোন সাহিদা বেগম, রোকেয়া বেগম, ভাগ্নী রহিমা খানম, ভাই খোকন মোল্যা, রোকন মোল্যা, আমীর হোসেন মোল্যা, আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুর রহমান, বাদশা মৃধা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
থানা সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ মার্চ প্রতিবেশী চাচাতো ভাইয়ের ছুরির আঘাতে মারাত্মক আহত হন বোয়ালমারী পৌরসদরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বকামারগ্রামের বাসিন্দা মৃত নুরুল হক মোল্যার ছেলে স্যানেটারী ব্যবসায়ী দুলু মোল্যা। মারাত্বক আহত অবস্থায় নিহতের স্বজনরা স্থানীয় বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান দুলু মোল্যার অবস্থা আরো খারাপ হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৭ মার্চ দুলু মোল্যার সেজো ভাই আ. মান্নান মোল্যা বাদি হয়ে বোয়ালমারী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। আহত ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর হত্যা চেষ্টা মামলাটি ধারা যোগ হয়ে হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই মো. কাশেম মোল্যা, সিদ্দিক মোল্যাদের সঙ্গে নিহত দেলোয়ার হোসেন দুলু মোল্যার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২১ মার্চ ঘটনার দিন সকালে বিরোধ সৃষ্ট জমি থেকে দুলু মোল্যার ছোট ভাই মোহাম্মদ আমির হোসেন মোল্যা মাটি কাটতে গেলে বিবাদী কাশেম মোল্যা, সিদ্দিক মোল্যা, লুৎফার মোল্যা, নজরুল মোল্যা, তাহিদ মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন বাঁধা প্রদান করেন। এ নিয়ে বাক-বিত-ার এক পর্যায়ে আসামিরা নিহতের ভাই আমির হোসেনকে মারধর শুরু করলে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন নিহত দুলু মোল্যা। এ সময় কাশেম মোল্যার ঘরে ভাড়াটিয়া টাইলস ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মফিজুল কাদের খান মিল্টন দুলু মোল্যার জামা ধরে আটকিয়ে রাখে। এ সময় অভিযুক্তরা দুলু মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র (ছুড়া) দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক আহত দুলু মোল্যাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঘটনার ১৬দিন পর গত ৬ এপ্রিল মারা যান তিনি।
মানববন্ধনে নিহত দেলোয়ার হোসেনের শিশু কন্যা মারিয়া (১০) কাঁদতে কাঁদতে জানায়, ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন, বাবাকে কয়েকদিন কেন দেখছি না’। ‘তা না হলে বাবার খুনিদের ফাসি দিন, আমরা দুই ভাই-বোন বাবাকে আর কোনদিন দেখবো না’।
নিহত দুলু মোল্যার বড় ভাই মামলার বাদী আব্দুল মান্নান মোল্যা বলেন, পরিকল্পিত ও নৃশংস ভাবে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। আমরা থানায় বারবার হত্যায় জড়িত আরো দুটি নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লিখিত দিলেও অজ্ঞাত কারনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। এমনকি মামলায় ১ নম্বর আসামি কাশেম মোল্যা ও ৬ নম্বর আসামী ফজলু তালুকদার গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তারা জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে এসে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ^াস্ত করেন। এ সময় ওসি বলেন, হত্যা চেষ্টা মামলাটি ধারা যোগ হয়ে হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হয়েছে। নতুন করে এজাহার নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তের সময় নতুন কোন আসামীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবেন। মামলার সব আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।