খুঁজুন
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে মাদক সেবন করায় তিন যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৪৯ পিএম
ফরিদপুরে মাদক সেবন করায় তিন যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক সেবনের অপরাধে তিন যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বাঁকাইল গ্রাম থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে আদালত বসিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের রবি ঘোষের ছেলে রজত ঘোষ (২৫), বাকাইল গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে মো. জনি (২৮) ও গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হাসিবুল খান (৩৬)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দন্ডপ্রাপ্ত যুবকরা আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বাঁকাইল গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে ইয়াবা সেবন করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। পরে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের তিনজনকে মাদকসেবন অবস্থায় আটক করেন। এরপর অভিযুক্তরা তাদের দোষ স্বীকার করেন ও ভবিষ্যতে মাদকসেবন করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করেন। দোষীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসেবন করার অপরাধে তিনজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। মাদকমুক্ত উপজেলা গড়তে এ ধরণের অভিযান অব্যহত থাকবে।’

ফরিদপুরে ছাদেই স্বপ্নের বাগান, মরুর গোলাপে সাফল্য

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
ফরিদপুরে ছাদেই স্বপ্নের বাগান, মরুর গোলাপে সাফল্য

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাড়ির তিনতলা ছাদে বাগান করেছেন আকাশ সাহা নামে এক তরুণ। তাদের ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট বাড়ির ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন রঙের মরুর গোলাপ অ্যাডোনিয়াম ফুল ফুটেছে। এ ছাড়া বিরল প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছসহ অন্তত কয়েক হাজারের বেশি গাছ আছে। গাছটির আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব মরুভূমি হলেও এটি এখন বাংলাদেশে জন্মাচ্ছে। এর ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’।

সরেজমিনে জানা যায়, আকাশ সাহার ছাদ বাগানে ফুটেছে মরুর গোলাপ নামে খ্যাত অ্যাডোনিয়াম ফুল। সেখানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনসহ নানা রঙের অ্যাডোনিয়াম ফুল রয়েছে। এগুলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই। তার ছাদ বাগানে কাছে-দূরের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকাশ সাহা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত প্রায় ৬ বছর আগে শখের বশে মাত্র ২০টি গাছ দিয়ে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা গাছগুলোয় তার শুরুতে খরচ হয় ২-৩ হাজার টাকা। এরপর ৬ বছর ধরে তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন পুরো বাগান। এখন নিজেই একজন সফল উদ্যোক্তা। এখন তার ছাদ বাগানে আছে কয়েক হাজার গাছ। গাছ থেকে ফুল, ফুল থেকে বীজ এবং বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদ বাগানে এখন প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের ও রঙের ফুল গাছ আছে। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন। প্রতি মাসে তিনি অ্যাডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুল গাছের চারা বিক্রি করে অন্তত ১৫-২০ হাজার টাকা রোজগার করছেন।

আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, ‌‘আমাদের ছাদ বাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা আছে। আমরা এগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ফুল আছে। আমরা সকাল-বিকেল পরিচর্যা করি। নিজেদের খুবই ভালো লাগে। মরুভূমির এসব গাছ ছাদে রোপণ করে মনের দিক থেকে প্রফুল্ল থাকি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসে, চারা কিনতে আসে। এসব গাছে পানি কম লাগে এবং পরিচর্যাও কম করতে হয়। ফুলগুলো দেখতে খুবই চমৎকার।’

আকাশের মা সাধনা সাহা বলেন, ‘আমার ছেলে পাঁচ-ছয় বছর আগে গাছগুলো লাগিয়েছে। আমরা প্রথমে পছন্দ করিনি। পরে লোকজন বাইরে থেকে দেখতে আসছে। তা দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছি। এখন আমাদের খুবই ভালো লাগে।’

গাছের চারা কিনতে আসা ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা স্বপন সাহা বলেন, ‘এখনে মরুভূমির এলাকার অনেক জাতের ফুল গাছ আছে। আমি অনলাইনের মাধ্যমে খোঁজ জানতে পেরে সরাসরি দেখতে এসেছি। দেখতে অনেক ভালো লেগেছে। আমি বেশ কিছু গাছ কিনতে এসেছি। আমিও ছাদ বাগান সাজাবো।’

ছাদ বাগান সম্পর্কে জানতে কথা হয় আকাশ সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম শুরু করি; আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনেরা অনেকটা পাগলামি বলতেন। শখ থেকে করলেও এখন বাণিজ্যিক আকারে রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম, ভালোবাসা দিয়ে তিলে তিলে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে বাগান দেখতে, চারা কিনতে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ হাজার টাকার গাছের চারা বিক্রি করে থাকি। নিজের গাছে বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। আমার বাগানে এখন ১০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার গাছও আছে। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এখন একটু ফুল কম হলেও গরম যত পড়বে, গাছগুলো তত ফুলে ফুলে ভরে থাকবে।’

আকাশ সাহা বলেন, ‘সারাবছরই ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। সব পাতা ঝরে যায়। বৃষ্টি ও বেশি পানিতে ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাডোনিয়াম গাছগুলোয় রিপোর্ট ও পুলিং করা হয়েছে। এ কারণে এবার প্রচুর ফুল আসবে। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অ্যাডোনিয়াম ভালোভাবে মিশে গেছে। এ কারণে প্রচণ্ড গরমে গাছগুলোয় প্রচুর ফুল ফুটবে।’

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ‘আকাশ সাহা তার ছাদ বাগানে মরুর গোলাপ চাষ করেছেন। যেটাকে আমরা অ্যাডোনিয়াম নামে চিনি। তিনি আড়াইশ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকারও বেশি দামে গাছ বিক্রি করছেন। তার ছাদ বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফুল আমরা দেখতে পাই।’

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘এটি একটি ভালো খবর। মরুভূমি এলাকার গাছ আমাদের বোয়ালমারীতে চাষ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।’

স্মৃতির টানে প্রাণের মিলন—ফরিদপুর জেলা স্কুলে ঈদ পুনর্মিলনীতে আনন্দের ঢেউ

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
স্মৃতির টানে প্রাণের মিলন—ফরিদপুর জেলা স্কুলে ঈদ পুনর্মিলনীতে আনন্দের ঢেউ

“স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন প্রাণের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্বের বন্ধন আর স্মৃতির আবেগে মুখরিত করে তোলে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হন বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, পুরনো দিনের গল্প, শিক্ষক-সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিকেল ৩টায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে। ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি ব্যাচের অংশগ্রহণে ১২টি দল লিগ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আগামী ২৫ মার্চ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়াড়, সাবেক অধিনায়ক ও কোচ মাহাবুব হারুন, যিনি তার বক্তব্যে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান।

বিকেল ৫টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “অনুরণন” নামে বই আকৃতির একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। করিম গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শহীদুল হাসান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এই ভাস্কর্য শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের শিকড় ও শিক্ষাজীবনের প্রতীক।”

সন্ধ্যায় ১৮৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে গত ডিসেম্বর মাসে সফলভাবে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ব্যাচ প্রধানদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই সম্মাননা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও জোরদার করবে।

ঈদ পুনর্মিলনীকে ঘিরে গত ১৮ মার্চ শুরু হওয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ফলও ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় ১৬টি ব্যাচ অংশ নেয়। এতে ১৮ ব্যাচ চ্যাম্পিয়ন এবং ১৭ ব্যাচ রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন ১৮ ব্যাচের রাজ। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া, ঈদ পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও সদস্য সচিব নিয়ামতউল্লাহ। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর কাওয়ালি সংগীত পরিবেশনা। “সুফি” কাওয়ালি দলের পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন, যা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে।

সব মিলিয়ে, এই ঈদ পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠানই নয়—এটি ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মিলনমেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১২ এএম
ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা ছাত্রদল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (অনু) ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েসের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত বহিষ্কারের দিন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের পর থেকে সোহেল মুন্সির কোনো বক্তব্য, কার্যক্রম কিংবা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার সংক্রান্ত দায়ভার ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল বহন করবে না। সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ছাত্রদল একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন বড়। কেউ যদি সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা অমান্য করে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় আমরা সবসময় আপসহীন। যারা সংগঠনের নিয়মনীতি মেনে চলবে না, তাদের জন্য ছাত্রদলে কোনো স্থান নেই।”

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শেখ এনামুল করিম (রেজা) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।