খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৩৬ বছর ধরে চলছে টিনের ঘরে পাঠদান, সরকারি হলেও জুটেনি ভবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩৬ বছর ধরে চলছে টিনের ঘরে পাঠদান, সরকারি হলেও জুটেনি ভবন

ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাজনডাঙ্গা এলাকায় ১৯৮৯ সালে ৮২টি ঘর বসতি নিয়ে গঠিত হয় গুচ্ছগ্রাম। যে গুচ্ছগ্রামটি ১৯৯০ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই গুচ্ছগ্রামের অবহেলিত ও শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি ছেলেমেয়েদের শিক্ষামুখী করতে ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলা হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার নাম রাখা হয় ‘ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এরপর এ বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবুও বিদ্যালয়টিতে মিলেনি ভবন, টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার মধ্যে গুচ্ছগ্রামের মানুষের জন্য একমাত্র বিদ্যাপীঠ ‘১১৯ নং ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টিনের ঘর দিয়ে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম। এখনো ওই ঘরেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্বের টিনের ঘরেই ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নেই, তাইতো কোমলমতি শিশুরা সবসময় আতঙ্ক আর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনগ্রসর গুচ্ছগ্রামের কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও টিনের জরাজীর্ণ ঘরে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। বৃষ্টি আসলে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। কখনো-বা ভাঙাচোরা জিনিসপত্র মাথায় এসে পড়ে শিক্ষার্থীদের। ভয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে চায়না স্কুলে। তাইতো কমে গেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আশেপাশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত একমাত্র এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে একসময় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও জরাজীর্ণ টিনের ঘর আর সাথে ভবন না থাকায় বর্তমানে মাত্র শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। নানা কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে নিয়মিত।

অভিভাবক হানিফ হোসেন জানান, ‘ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে হচ্ছে। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যাবে।’

ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, ‘ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে। ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কাজ হচ্ছে না। এ ছাড়া ২০২৪ সালে সরকার থেকে একটি ভবন বরাদ্দ হলেও অদৃশ্য কারণে সেটা বাতিল হয়ে গেছে। অতিশ্রীঘ্রই বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণ করা সময়ের দাবি হয়ে গেছে।’

ফরিদপুর সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ওই স্কুলের ভবন নিয়ে বারবার উপর মহলে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু, এখনও ভবন হয়নি। তবে, এর আগে গত বছর ওই স্কুলের জন্য একটি ভবন পাশ হলেও ঠিকাদার কাজ না করায় ভবনটি অন্য জায়গায় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত এক মাস আগে ওই স্কুলের ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রচুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে, ওই স্কুলের ভবন এখনও না হওয়া দুঃখজনক। আমাদের পিডিপি-০৪ ফাইল আগামী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তখন আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই স্কুলের ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নিব।’

ফরিদপুরে একইদিনে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একইদিনে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একই দিনে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদরপুর থানা পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিজগ্রাম এলাকার ওবায়দুল মুন্সীর স্ত্রী লিপি আক্তার (৪২) ও একইদিন বিকেলে ভাষাণচর ইউনিয়নের ছমির হাজী কান্দি গ্রামের বুলু মুন্সীর মানসিক ভারসাম্যহীন কন্যা নাছরীন আক্তারের (১৩) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, লিপি আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সাথে গলায় উড়না পেচানো ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। অপরদিকে নাছরিন আক্তার ছোটবেলা থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল বলে জানা গেছে। বিকেলে খাবার না খেয়ে নিজঘরে দরজা বন্ধ করে শুয়ে ছিল। তার মা নাজমা বেগম মেয়ের সাড়া শব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করে। পরে পরিবারের অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান রিপন জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। আইনগত ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সদরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবনে মিলল শিশুর মরদেহ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
সদরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবনে মিলল শিশুর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু শাহাদাত বেপারীর গলিত মরদেহ তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার চর নাছিরপুর ইউনিয়নের কাশবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহাদাত বেপারী উপজেলার মধ্য চন্দ্রপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারীর ছেলে।

অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এক দোলনা কর্মী নিজেই ফোন করে শিশুটির বোনকে মরদেহের অবস্থান জানিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক পলাতক রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) মহরম উপলক্ষে চন্দ্রপাড়া দরবার সংলগ্ন ট্রলারঘাটে আয়োজিত মেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহাদাত। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

সোমবার দুপুরে মেলায় কর্মরত ইয়াছিন (১৮) নামে এক যুবক শাহাদাতের বোন রওশনারার মোবাইল ফোনে কল করে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবনে মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শিশুটির গলিত মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলায় থাকা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ। ওসি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক মূল সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয়ের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া রমিজা সুলতানা আন্না মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের কামালদিয়া গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর রাত প্রায় ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের এক প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন বাদী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্প্রতি দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ওই প্রবাসী সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর রমিজা সুলতানা আন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের আলোকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।