খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের চারলেন বাস্তবায়নের দাবি, ‘সড়ক অবরোধের হুশিয়ারি’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ৪:২২ পিএম
ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের চারলেন বাস্তবায়নের দাবি, ‘সড়ক অবরোধের হুশিয়ারি’

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে চারলেন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ফরিদপুরবাসী। এ সময় দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নিতে সড়কটি অবরোধের আল্টিমেটাম দেয়া হয়৷ এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১৩ জুলাই) বেলা ১১ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে “ভাঙ্গা-ফরিদপুর চারলেন দ্রুত বাস্তবায়ন” কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সহ ২৮ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৫ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ মানববন্ধনে ও পরবর্তী সকল আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন জেলা বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জেলা বাস মালিক সমিতি ও মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলার শিকার হয়েছে প্রাচীনতম জেলা ফরিদপুর। বিগতদিনে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম হয়নি এই ফরিদপুরে। ফরিদপুর থেকে সকল অফিস নিয়ে গোপালগঞ্জে স্থাপন করা হয়েছে। আমরা আর অবহেলার শিকার হতে চাই না।

তাঁরা আরও বলেন- একটি জেলার উন্নয়নের চাবিকাঠি যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু সেই যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আজ দীর্ঘদিন যাবৎ ফরিদপুর-মহাসড়কটি অবহেলায় পড়ে আছে। বর্তমানে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে উঠেছে। সড়কটি চারলেন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও আজও কোনো দৃশ্যমান কাজ করা হয়নি। এমনকি ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা এলেও এখন পর্যন্ত ১ শতাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন বা সড়ক বিভাগ কেন জমি অধিগ্রহণ করেনি, সেই টাকা কোথায় আছে, সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে হবে।

এ সময় তাঁরা সড়কটিতে মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সড়কটিতে দুর্ঘটনা ও খানাখন্দের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাঁরা অতিদ্রুত চারলেন কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।

এতে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ প্রফেসর আলতাফ হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক মফিজ ইমাম মিলন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সুরা কমিটির সদস্য প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব, ফরিদপুর ড্যাবের সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, সদস্য সচিব সোহেল রানা, ভাঙ্গা-ফরিদপুর চারলেন দ্রুত বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও তরুণ সংগঠক আবরাব নাদিম ইতু প্রমুখ।

এ সময় আল্টিমেটামের ঘোষণা দেন ভাঙ্গা-ফরিদপুর চারলেন দ্রুত বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান ওয়ালিদ। তিনি বলেন- এই সড়কে আমার পিতাকে হারিয়েছি। আমাদের একদফা, একদাবি, দ্রুত চারলেন বাস্তবায়ন করা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হলে ২৩ জুলাই সড়কটি অবরোধ করা হবে। ওইদিন মানুষের ভোগান্তি হলে জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়ভার নিতে হবে।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।