সালথায় তীব্র গরমে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন জ্যোতির্বিদরা। তারা জানিয়েছেন, এ বছর রোজা ৩০টি পূর্ণ হতে পারে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, আশা করা হচ্ছে যে এই বছর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ উদযাপিত হবে।
এমিরেটস জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সমাজের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, ১৮ মার্চ আকাশে চাঁদ দেখা যাবে না। তাই পরের দিন নতুন মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, শাওয়ালের চাঁদ ১৯ মার্চ সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে জন্ম নেবে এবং সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট আকাশে থাকবে। আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতার উপযুক্ত অবস্থায় চাঁদ দেখা গেলে রমজান শেষ এবং শাওয়াল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
আল জারওয়ান জানান, এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সূচকের ভিত্তিতে বেশিরভাগ ইসলামিক দেশ রমজান শেষ এবং শাওয়াল শুরু সম্পর্কে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ঘোষণা সবসময় সরকারি চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে আসবে। তারা ধর্মীয় ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করবে।
সূত্র : গালফ নিউজ
সৃষ্টিকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহ তায়ালা বড় ভালোবাসেন তার এই সৃষ্টিকে। তিনি চান, বান্দা তার অভিমুখী হোক। তার প্রতি থাকুক চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু মানুষের প্রকৃতি ভিন্ন। কখনো আল্লাহর প্রতি থাকে ধাববান। কখনো ভুলে যায় স্রষ্টাকে। কেউ তার ইবাদতে রত থাকে।
ভুলে যায় অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ। কেউ নাফরমানিতে ডুবে যায়। ভারি করে তোলে নূরানি পরিবেশ। ফলে মাঝে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা লাগাম টেনে ধরেন। শাস্তি দেন কোনো জাতিকে। আবারো কাউকে সুযোগের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। সতর্ক করে দেন নিজের বিশেষ কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে। ভূমিকম্প এমনি একটি নিদর্শন।
আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্পের মাধ্যমে বান্দাকে সতর্ক করেন। বান্দা যেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। নাফরমানি থেকে যেন নিবৃত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি ভীতিপ্রদর্শনের জন্যই আমার নিদর্শনাবলী প্রেরণ করি। (সুরা ইসরা, আয়াত : ৫৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি তোমার পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি, (কিন্তু নবীগণকে অমান্য করার কারণে) আমি তাদের প্রতি ক্ষুধা, দারিদ্র্য রোগ-ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা নম্রতা প্রকাশ করে আমার সামনে নতি স্বীকার করে।
সুতরাং তাদের প্রতি যখন আমার শাস্তি পৌঁছল, তখন তারা কেন নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করল না? বরং তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে পড়ল, আর শয়তান তাদের কাজকে তাদের চোখের সামনে শোভাময় করে দেখাল। অতঃপর তাদের যা কিছু উপদেশ ও নসীহত করা হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল তখন আমি তাদের জন্যে প্রতিটি বস্তুর দরজা উম্মুক্ত করে দিলাম, শেষ পর্যন্ত যখন তারা তাদেরকে দানকৃত বস্তু লাভ করে খুব আনন্দিত ও উল্লসিত হল, তখন হঠাৎ একদিন আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম, আর তারা সেই অবস্থায় নিরাশ হয়ে পড়ল। অতপর অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কেটে ফেলা হল। (সুরা আনআম, আয়াত ৪২-৪৫)
ভূমিকম্পের মাধ্যমে কখনো আজাবও দেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা হজরত শুয়াইব আ.-এর সম্প্রদায়কে ভূমিকম্পের মাধ্যমেই শাস্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন শরীফে এর বিবরণে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। যেন শোয়াইবকে অস্বীকারকারীরা সেখানে কোনো দিন বসবাসই করেনি। যারা শোয়াইবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯১-৯২)
ভূমিকম্পকে কেবল সতর্কবার্তা হিসেবেই পাঠ করা যথেষ্ট নয়। একে কিয়ামতের আলামত হিসেবেও পাঠ করতে হবে। আল্লাহর রাসুল সা. বারবার ভূমিকম্প হওয়াকে কিয়ামতের আলামত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং খুনখারাবি বাড়বে, তোমাদের সম্পদ এতো বাড়বে যে উপচে পড়বে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১০৩৬)।
জাগতিক বিজ্ঞানে ভূমিকম্পের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। তবে ওসব ব্যাখ্যার উপরের সত্য হলো, মানুষের পাপের কারণে আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্প ঘটান। হাদিসে এসেছে, ভূমিকম্পের মাধ্যমেও যদি বান্দা সতর্ক না হয়, গুনাহের মাধ্যমে পরিবেশ যদি ভয়াবহ করে তোলে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি আরো কঠোর হবে। এক হাদিসে নবীজি সা. বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথরবর্ষণের মুখোমুখি হবে। এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কখন হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানে সয়লাব হবে।’ (সহিহ তিরমিজি, হাদিস : ২২১২)
সুতরাং ভূমিকম্পে আমাদের সতর্ক হতে হবে। গুনাহের জীবন থেকে মোড় ঘুরিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে মনোনিবেশ করতে হবে। তাওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। যাবতীয় নাফরমানি থেকে নিবৃত হতে হবে। তবেই হতে পারে ভূমিকম্পের সঠিক পাঠ। অবশ্য কেউ দুর্যোগে আক্রান্ত হলে কিংবা মারা গেলে দোষারোপ করা যাবে না। বরং নিজে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। দোয়া করতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্যও। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আমিন।
সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)
অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)
কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?
হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।
আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)
সেহরি খাওয়ার দোয়া
সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}
অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন
Array