খুঁজুন
, ,

‘অর্থকষ্টে’ সরকার!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
‘অর্থকষ্টে’ সরকার!

কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় নেই। ফলে বাড়ছে ঘাটতির অঙ্ক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমফের ঋণের কিস্তিও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না শর্ত পূরণে ব্যর্থতায়। সরকারের তহবিলে ‘হাতখুলে’ খরচের টাকা নেই।

 

তাই ধারকর্জই এখন ভরসা। এরই মধ্যে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছেও চাওয়া হয়েছে সোয়া তিন বিলিয়ন ডলারের ঋণ। এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাগামহীন বাড়তে থাকায় সরকারের পক্ষে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রির সুযোগ কমে আসায় বাধ্য হয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে।

এরই মধ্যে আসছে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী বাজেটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু আয় না থাকলেও ঠিকই সরকারকে খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ঋণের সুদও দিতে হচ্ছে কড়ায়গণ্ডায়। তথ্য-উপাত্ত বলছে, সব মিলিয়ে সরকার ‘মধ্যবিত্তের সংসার’ চালানোর মতো এখন অনেকটাই ‘অর্থকষ্টে’ আছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআরের চলতি অর্থবছরের আট মাসের তথ্য বলছে, রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে রাজস্ব আয়। বাকি চার মাসে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা আদায়ের প্রয়োজন হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত কোনো মাসেই ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়নি। অথচ লক্ষ্য পূরণে প্রতি মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় করার কথা।

আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক—তিনটি প্রধান খাতেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বিশেষ করে আয়কর খাতে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। করদাতাদের বড় অংশ এখনো কর নেটের বাইরে রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টিআইএন-ধারীর মধ্যে মাত্র ৪৬ লাখ রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা কর ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে। এর বাইরেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আমদানি শুল্ক না পাওয়া, ব্যবসা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্লথগতির জন্য ভ্যাট আদায় কম হওয়ার কারণেও এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে।

কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো সরকারের আয় কমে গেলেও খরচ ঠিকই করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানান খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের পরও মোটা টাকাই খরচ হয়। যেহেতু রাজস্ব আয় ঠিকমতো হচ্ছে না, তাই সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ধার করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঘাটতি মেটাতে সরকার ক্রমেই ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অর্থবছরের ৯ মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ প্রায় এক লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসেই নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও হবে না। পরিণামে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরো কমিয়ে দেবে।

শুধু সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকেই ঋণ নিচ্ছে তা নয়; ইআরডি বলছে, বর্তমানে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। এমন অবস্থায়ও নতুন করে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিদেশি ঋণ চাওয়া হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে।

অথচ আয় না থাকলেও এসব ঋণ সময়মতোই শোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। সূত্র জানায়, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

আইএমএফ থেকে সরকার ৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিলেও এখন সংস্থাটি শর্ত পূরণের ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করে পরবর্তী কিস্তি নিয়ে টালবাহানা করছে। ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি নিশ্চয়তা দেয়নি নতুন কিস্তি ছাড়ের। এর ফলে বাজেট বাস্তবায়নে আরো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হলো। যদিও সরকার বারবারই বলছে, আপাতত জ্বালানির দাম বাড়াবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ক্রমাগত বাড়তি দামে জ্বালানি কিনে দাম কম দামে ভোক্তার কাছে বিক্রির কারণে সরকারকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এটিই কমিয়ে আনতে চাপ দিচ্ছিল আইএমএফ। এখন সরকারের যেহেতু বাজেট বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে এবং দেশ চালাতে টাকার প্রয়োজন। তাই সাতপাঁচ না ভেবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। এটি কিছুটা হলেও সরকারকে আর্থিকভাবে স্বস্তি দেবে। তবে তা সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা, যা পরিণামে সরকারের আরেক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

এ অবস্থায় সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সোয়া ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি আকারের বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নতুন বেতন-কাঠামো এবং ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। তবে রাজস্ব আয় সেই হারে না বাড়ায় বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

ব্যয়ের বড় অংশই এখন ঋণের সুদ ও ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল প্রায় এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী বছর আরো বাড়তে পারে। জ্বালানি খাতে ভর্তুকিও বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, যা সামগ্রিক ব্যয়চাপকে আরো তীব্র করছে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সঠিক নীতি গ্রহণ না করলে দেশ ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তারা রাজস্ব আয় বাড়ানো, করব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কর ফাঁকি রোধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ে সতর্কতা এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার যদি এ রকম ব্যাংক থেকে ঋণ বেশি নেয়, সেটা কিন্তু আলটিমেটলি রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এত যে ঋণ নিচ্ছে, তা পরিশোধ করা নিয়েও দেখা যাবে যে সরকার সংকটে পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাতে একটা ঋণ ফাঁদের মধ্যে না পড়ি, এটা মূল টার্গেট হতে হবে এই সরকারের। বোঝলাম যে এখন তাদের জ্বালানিসহ বিভিন্ন কারণে ঋণ নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন কিছু সামাল দিতে হচ্ছে। তাদের ইলেকশনে দেওয়া আশ্বাস যেগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তাদের একটা বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে সম্পদ আহরণ, রাজস্ব কিভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি, সেদিকে।’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রদান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাহিদা বাড়লেও শুধু ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যালান্স অব পেমেন্টসহ সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কোথায় কী চাপ তৈরি হচ্ছে, তার স্পষ্ট মূল্যায়ন জরুরি। তিনি জানান, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমা ও রেমিট্যান্স ঝুঁকির কারণে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি, ভর্তুকি বৃদ্ধি ও সামাজিক ব্যয়ও বাড়বে। এসব মোকাবেলায় সমন্বিত সংকট ব্যবস্থাপনা, সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।