খুঁজুন
, ,

আমেরিকান ক্রীড়া রুচিকে প্রভাবিত করছেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
আমেরিকান ক্রীড়া রুচিকে প্রভাবিত করছেন মেসি

ফুটবলের মাধ্যমে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে গর্বিত করে চলেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার আমেরিকান ক্রীড়াজগতে এমন এক বিপ্লব ঘটাতে চলেছেন, যা পেলেও পারেননি। আমেরিকার সংবাদপত্র ক্লারিন সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক সংবাদ প্রকাশ করেছে, যার আলোকে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিবেদন।

৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আমেরিকাকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন। উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর সঙ্গে ‘সকারকে’ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে সাহায্য করছেন। আড়াই বছর আগে মেসি ইন্টার মায়ামিকে বাজি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অনেকে বলছিলেন, বিলাসবহুল অবসরের জন্য মেসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। লিওনেল মেসির পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। এ কিংবদন্তি আসলে ইতিহাস গড়তে চেয়েছিলেন, নিজেকে আরও দৃঢ় করতে চেয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি ঠিক এটাই করেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার উত্তর আমেরিকায় পায়ের জাদু দিয়ে প্রায়ই অবমূল্যায়িত ‘সকার’ খেলাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দিচ্ছেন। এটা ঠিক যে, খ্যাতি ও মানের দিক থেকে এমএলএস ইউরোপের প্রধান লিগগুলোর পর্যায়ে নেই। এটি প্রিমিয়ার লিগের উন্মত্ত গতি বা লা লিগার তারকাদের উজ্জ্বলতা থেকে অনেক দূরে। ইতালির পুনরুত্থিত সিরি-এ এবং প্রায়শই অবমূল্যায়িত বুন্দেসলিগা থেকে ততটা দূরেও নয়। এমনকি এতে ফ্রান্সের লিগ-ওয়ানের মতো তীব্রতাও নেই। মেসি এমন একটি লিগে এসেছেন, যা ক্রমাগত প্রসারিত এবং বিকশিত হচ্ছে। এখানে জেতাটা মোটেও সহজ নয়।

গত মৌসুমে জেরার্দো মার্তিনোর অধীনে ইন্টার মায়ামি প্লে-অফের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে গিয়েছিল। ব্যতিক্রমী নিয়মিত মৌসুমের পরে ক্লাবটি সাপোর্টার্স শিল্ড জিতেছিল। নিশ্চিত করেছিল ক্লাব বিশ্বকাপ। ক্লাবটির যখন কাঙ্ক্ষিত এমএলএস কাপের দিকে প্রথম ধাপ নেওয়ার পালা, তখন আটলান্টা ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। মেসি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। টাটা মার্তিনোর পর হাভিয়ের মাশ্চেরানোকে এমন একজন কোচ হিসেবে খুঁজে পান, যিনি সেরাটা বের করে এনেছেন। এজন্য তিনি মেসির বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে বেঞ্চে বসাতে দ্বিধা করেননি। আক্রমণভাগে আরও বেশি পাসিং বিকল্প এবং গতির খোঁজেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ৩৮ বছর বয়সে মেসির অভাবনীয় পরিসংখ্যান নিয়ে মৌসুম শেষ করার ক্ষেত্রে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মেসি ৩৪ ম্যাচের ৩২টিতে শুরু থেকে খেলেছেন। ৩৫ গোল করেছেন—নিয়মিত মৌসুমে ১৯ এবং ২৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন; প্লে-অফের আগে করেছেন ১৬টি। পুরো অভিযানে হেরনসদের মোট ১০১ গোলের মধ্যে ৫৮টিতে জড়িত ছিলেন মেসি।

সব মিলিয়ে পুরো মৌসুমে মেসি ৫৪ ম্যাচে ৪৬ গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২৮। যা ১ হাজার ১৩৭ ক্যারিয়ার ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ৮৯৬-এ উন্নীত করেছে। সঙ্গে ছিল ৪০৭ অ্যাসিস্ট। অবিশ্বাস্য ৪৭ শিরোপার সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দিয়েছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার আরও তিন মৌসুম বাকি আছে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। আসরে মেসি নিজেকে স্থানীয় মনে করবেন।

হাঙ্গেরির কিংবদন্তি পুসকাসের সর্বকালের অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে হাজার গোল করার রেকর্ডের দিকে ছুটছেন মেসি। ফুটবল ইতিহাসের শীর্ষ স্কোরার হওয়ার দৌড়ে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেছনে থাকা মেসি উত্তর আমেরিকার খেলাধুলায়ও নিজের ছাপ ফেলছেন। শুধু খেলোয়াড় সত্তা দিয়ে নয়, মেজর লিগ সকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং অ্যাপল ও অ্যাডিডাসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আমেরিকান ক্রীড়া রুচিকে প্রভাবিত করে চলেছেন মেসি। ভ্যানকুভার হোয়াইট ক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারানোর পর তিনি যে উদযাপন করেছেন, তা ১৯৭০-এর দশকে পেলে নিউইয়র্ক কসমসে গিয়ে করতে পারেননি।

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরের সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে কারণ জানালেন অভিভাবকেরা

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে কারণ জানালেন অভিভাবকেরা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩০শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক মুন্নাফ শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করায় তিনি ও তাঁর ছেলে বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছেন। তাই বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।

আরেক অভিভাবক মো. আকল শেখ বলেন, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

অভিভাবক মাকসুদা বেগমও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করানোর জন্যই অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন ও স্থানীয় মাতুব্বরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, আমি অবসর গ্রহণে পর বিদ্যালয়েই যাই না। একটি মহল তাদের স্বার্থে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান জানান, আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সাথে জড়িত। তবে স্কুল বাদ দিয়ে না। স্কুল টাইমে আমি ক্লাসেই থাকি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাই।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার কথা চিন্তা করেই আমরা তাদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। আমরা চাই, আমাদের সন্তানসহ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।