খুঁজুন
, ,

চরভদ্রাসনের পদ্মা নদীতে অভিযান: ৬ বাঁধ, ২ ভেসাল অপসারণ

আসলাম বেপারী, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনের পদ্মা নদীতে অভিযান: ৬ বাঁধ, ২ ভেসাল অপসারণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে নির্মিত ৬টি আড়াআড়ি বাঁধ এবং ২টি ভেসাল অপসারণসহ ১০টি চায়না দুয়ারি ও ১০ কেজি মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ বসিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহযোগিতায় ছিল চরভদ্রাসন থানার চৌকস পুলিশ টিম এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সকল কর্মকর্তা–কর্মচারী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুটি প্রভাবশালী মহলসহ কয়েকটি জেলে গোষ্ঠী নদীতে এসব বাঁধ নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ আয় করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানে পদ্মা নদী থেকে ৬টি আড়াআড়ি বাঁধ ও ২টি ভেসাল অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে একটি বাঁধের প্রস্থ ছিল প্রায় ১ কিলোমিটার এবং বাকি ৫টি ছিল ৫০০ মিটার করে, মোট ৩.৫ কিলোমিটার। এছাড়া জব্দ করা হয় ১০টি চায়না দুয়ারি ও ১০ কেজি মাছ। নিষিদ্ধ জাল ও দুয়ারি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধার করা মাছ বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, পদ্মা নদীর মৎস্য সম্পদ ও প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদীতে মাছের অবাধ চলাচল ও প্রজনন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ফরিদপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রকে টেঁটাবিদ্ধ করল মাদকসেবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রকে টেঁটাবিদ্ধ করল মাদকসেবী

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়া ও গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানানোর জেরে জাবির আল মীর (২২) নামে সরকারি মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে এক মাদকসেবী।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের বাউতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​আহত জাবির আল মীর বাউতিপাড়া গ্রামের হেদায়েত আলী মীরের ছেলে এবং সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়ের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

​এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে জাবির গ্রামের ভেসালে (মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ) মাছ শিকার করতে যান। এসময় একই এলাকার সাখাওয়াত মোল্লার ছেলে ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত মুবিন মোল্যা হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র টেঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত মুবিন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে আসছিল। জাবির তার এই অপকর্মের বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান এবং মাদক সেবনে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুবিন তাকে বিভিন্ন সময় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার একা পেয়ে মাছ শিকারের সময় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মুবিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসি, সবাই মিলে নিরাপদে বাঁচি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের মধুখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় মধুখালী আব্দুল কাদের মেমোরিয়াল হাসপাতালের হলরুমে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উপ-স্বাস্থ্য পরিষদ, মধুখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মধুখালী উপজেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি সুরাইয়া সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চিকিৎসক ডা. শাপলা কুন্ডু। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

​কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের লিগ্যাল এইড সম্পাদক মোশের্দা আক্তার মিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শুকলা ভৌমিক, আন্দোলন সম্পাদক মিলি ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেশমা আক্তার এবং প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ জেসমিন ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ফরিদপুরে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরগোপালপুর ও চরকল্যাণপুর মোল্লাডাঙ্গী এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, ফরিদপুর’-এর সহযোগিতায় স্থানীয়দের মধ্যে ৫০০টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ এবং ৬০০টি তালবীজ রোপণ করা হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদুরুজ্জামান বদু মৃধার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রাথমিকভাবে পদ্মা নদীবেষ্টিত তিনটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।”

​তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর বজ্রপাতে দেশের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ প্রাণ হারান। বজ্রপাতের এই ঝুঁকি কমাতে উঁচু গাছ হিসেবে চরাঞ্চলে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাণহানি কমাতে সবাইকে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং তার যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হাসান, মো. জহিরুল ইসলাম, ইরা নাহার দিপা, লিয়াকত আলী, জাহিদ হোসেন, মামুনুর রশিদ বাবু, ফজলুল রহমান খান, ফারুক মেম্বার, কুদ্দুস ও ইয়াসিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।