খুঁজুন
, ,

ডায়াবেটিস রোগীরা যেভাবে রোজা রাখলে ক্ষতি হবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ডায়াবেটিস রোগীরা যেভাবে রোজা রাখলে ক্ষতি হবে না

কিছু নিয়ম মেনে এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে ডায়াবেটিসের রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন। রমজান শুরুর কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে লাইফ স্টাইল রুটিন ঠিক করতে হবে ডায়াবেটিক রোগীদের।

রমজান সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে (এসেডবি) ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ একথা জানায়।

পরীবাগের মোতালেব টাওয়ারে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসেডবির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া যেতে পারে। আলিমগণের কাছ থেকে আমরা জেনেছি এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। সন্দেহ থাকলে অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তার কিংবা হাক্কানী আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ। তাই রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য অবশ্যই করণীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রেখে থাকেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন তারা বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে (১) রক্তে সুগারের স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) (২) রক্তে সুগারের আধিক্য (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) (৩) ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস এবং (৪) পানি শুন্যতা বা ডিহাইড্রেসনে ভোগেন।

এসেডবি (অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অফ বাংলাদেশ) জানায়, ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ডায়াবেটিস এমন কোন বাধা নয়। প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। ডায়াবেটিস রোগীরা রমজানের কমপক্ষে ২-৩ মাস (রজব) পূর্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নেবেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রমজানের পূর্বে প্রস্তুতি নিয়ে যারা রোজা রাখেন তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা রমজানের পূর্বের চেয়েও অনেক কম হয়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সহজে এবং নিরাপদে রোজা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

অনুষ্ঠানে এসেডবির বিশেষজ্ঞরা জানান, রোজা মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে। সুশৃঙ্খল জীবন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অপরিহার্য। ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আগে থেকে পরামর্শ করে সুগার কন্ট্রোল এর মাধ্যমে রোজা রাখলে আরও বেশি সুবিধা হবে। সুতরাং এ কথা বলা অত্যুক্তি হবেনা যে রোজা রাখার আকাঙ্ক্ষা ডায়াবেটিক রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আরও বেশি উদ্যোগী করবে।

তারা আরও জানান, নিরাপদে ডায়াবেটিক রোগীর রোজা পালনের ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি ডিপার্টমেন্ট সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। রমজানের আগে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন এই হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজিস্টরা। বাংলাদেশের এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের সংগঠন এসেডবি (ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য রজব মাসকে ‘ডায়াবেটিস ও রমজান সচেতনতা’ মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও এসেডবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মীর মোশাররফ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. মো. মাহমুদ হাসান।

 

নগরকান্দায় ক্যাবের নতুন কমিটির সভাপতি এহসানুল হক, সম্পাদক মশিউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ক্যাবের নতুন কমিটির সভাপতি এহসানুল হক, সম্পাদক মশিউর রহমান

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নতুন উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে এহসানুল হক মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মশিউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে ক্যাবের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। এ সময় ক্যাবের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান তুহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামরুজ্জামান মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ফয়সাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক হিসেবে সুলতানা ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট জাকারিয়া এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রোজিনা আক্তারের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সাইয়্যাদুর রহমান বাবলু, শামছুল হুদা হুদু, এ এফ এম সিদ্দিকুল আলম বাবলু, শওকত আলী শরীফ, মিজানুর রহমান মুকুল, আসলাম হোসেন নাহিদ, মাহফুজুর রহমান, বলরাম কর্মকার, মুফতী হেদায়েত উল্লাহ, মো. কামাল হোসেন (পলাশ) ও মোশাররফের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য, ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার মতো বিষয়গুলো প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্যাবের উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, Consumers Association of Bangladesh—সংক্ষেপে ক্যাব—বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকারভিত্তিক একটি বেসরকারি, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন। সংগঠনটি ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে সংগঠনটি ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছে।

নগরকান্দায় নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাজারে অনিয়ম ও ভোক্তাদের হয়রানি কমাতে জনসচেতনতা তৈরিতে কমিটিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

তানভীর তুহিন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

দীর্ঘ ৩১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পাকা ভবনের অভাবে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরাঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য দূর-দূরান্তের বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও নিজস্ব একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অবশেষে চলতি বছরে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল চারতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ভবনের প্রথম তলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। খুব শিগগিরই আধুনিক পরিবেশে পাঠদান শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চরমানাইর ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এতদিন টিনশেড ভবনে সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তানজিমুল হাসান কায়েস।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বজলুর রশিদ মাস্টার, অবসরপ্রাপ্ত সার্জন আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক সঞ্জয় চাকলাদার, ইসরাফিল বেপারী এবং তোরাব আলী।

বক্তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, প্রধান ফটক স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়কে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।

আপনার সঙ্গে কি সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
আপনার সঙ্গে কি সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

একসময় যে সন্তান দিনের প্রতিটি গল্প মা-বাবার সঙ্গে ভাগাভাগি করত, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তানই যেন নিজের চারপাশে অদৃশ্য এক দেয়াল তুলে দেয়। পরিবারের চেয়ে বন্ধুরা হয়ে ওঠে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখে, এমনকি একসঙ্গে সময় কাটাতেও অনীহা প্রকাশ করে। অনেক মা-বাবাই তখন ভাবতে শুরু করেন, ‘আমার সন্তান কি আর আগের মতো নেই?’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধিকাল ও কৈশোরে সন্তানদের মধ্যে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে কিছু আচরণ ও পারিবারিক পরিবেশ এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে পারলে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক করা সম্ভব।

কেন দূরত্ব তৈরি হয়?

অতিরিক্ত শাসন ও নজরদারি

সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা, বারবার বকাঝকা করা বা গোপনে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে সে নিজের ব্যক্তিগত পরিসর হারানোর অনুভূতি পায়। ফলে ধীরে ধীরে মা-বাবার কাছ থেকে মানসিকভাবে দূরে সরে যেতে পারে।

অন্যের সঙ্গে তুলনা

‘ওর মতো হতে পারো না?’—এ ধরনের তুলনা সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বারবার তুলনার শিকার হলে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি হয়।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব

সন্তানকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের মতবিরোধ বা ঘন ঘন ঝগড়া তার মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। তখন সে নিজের অনুভূতি প্রকাশের বদলে নীরব হয়ে যায়।

বন্ধুদের প্রভাব

কৈশোরে বন্ধুদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময় ‘স্মার্ট’ বা স্বাধীন প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিবার থেকে দূরে সরে যায়।

গোপনীয়তা রক্ষা

মা-বাবা অপছন্দ করেন এমন কোনো কাজে জড়িয়ে পড়লে বা এমন কিছু লুকানোর প্রয়োজন হলে সন্তান স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে।

নিজের আলাদা জগৎ

কৈশোরে নিজের চিন্তা, আগ্রহ ও সামাজিক পরিসর তৈরি হয়। তখন অনেকের কাছে বন্ধুদের গুরুত্ব পরিবারকে ছাড়িয়ে যায়। এই মানসিক পরিবর্তনও দূরত্বের একটি কারণ।

মানসিক চাপ বা আসক্তি

পড়াশোনা, সম্পর্ক, ব্যর্থতা কিংবা অন্য কোনো মানসিক চাপে থাকলে সন্তানের আচরণ বদলে যেতে পারে। একইভাবে মাদকাসক্তি বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

মা-বাবার আচরণ

মা-বাবার নিজেদের মধ্যে সমস্যা, পারিবারিক অস্থিরতা বা সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। শুধু আর্থিক চাহিদা পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রয়োজন মানসম্মত সময় ও আন্তরিক যোগাযোগ।

কীভাবে কমবে দূরত্ব?

সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে ছোটবেলা থেকেই ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ জরুরি। বয়ঃসন্ধিকালে তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, আবার প্রয়োজন হলে পাশে থাকার আশ্বাসও দিতে হবে।

মা-বাবা ও সন্তান উভয়ের আন্তরিক চেষ্টা থাকলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

মা-বাবার জন্য করণীয়

প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটান।

নিজের মতামত বা সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।

গোপনে সন্তানের ব্যাগ, মোবাইল বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি না করে সরাসরি কথা বলুন।

অযথা তর্ক বা বাদানুবাদ এড়িয়ে চলুন।

সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান, একসঙ্গে সিনেমা দেখুন বা বাইরে খেতে যান।

সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবেন না।

জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা বিশেষ দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

সন্তানের বন্ধুদের নিয়ে অযথা নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। তবে খারাপ সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন করুন।

সন্তানেরও দায়িত্ব আছে

শুধু মা-বাবার নয়, সন্তানেরও দায়িত্ব রয়েছে সম্পর্ককে সুন্দর রাখার। জীবনের প্রতিটি বিষয় না হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুভূতি, সমস্যা বা সিদ্ধান্ত মা-বাবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা উচিত। কারণ, বন্ধুরা জীবনের অংশ হলেও সংকটের সময়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় পরিবারই।

মনে রাখুন

কৈশোরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই দূরত্ব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা সন্তানের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা এবং খোলামেলা যোগাযোগ। একটি আন্তরিক কথোপকথনই অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারে।

সূত্র : কালবেলা