খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

তারেককে বরণে ফরিদপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাবে ৫০ হাজার নেতাকর্মী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৭ এএম
তারেককে বরণে ফরিদপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাবে ৫০ হাজার নেতাকর্মী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রায় ১৮ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো ফরিদপুর থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবে।

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাত্রা শুরু হবে ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মাঠ থেকে। পদ্মা সেতু পার হয়ে নেতাকর্মীরা সরাসরি রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল রোড) এলাকায় নির্মিত বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হবেন। মঞ্চটি ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট আয়তনের এবং চারপাশে আলোকসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে পরিবেশ উৎসবমুখর করা হয়েছে।

ফরিদপুর থেকে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০০টি বড় বাস এবং ২৫০টি বড় মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা থেকে আরও শতাধিক বাস ও মাইক্রোবাস ঢাকায় যাবে। এছাড়া অনেক নেতাকর্মী ব্যক্তিগতভাবে ট্রেনের মাধ্যমে রাজধানীতে পৌঁছাবেন। ফরিদপুর জেলা বিএনপি এ ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো সহায়তা আমাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল এবং দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এটি আমাদের দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে সংবর্ধনা ও স্বাগত আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ফরিদপুর থেকে ঢাকায় নেতাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো হবে।

 

– তথ্য সূত্র : ঢাকা পোস্ট 

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাইয়ের হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হানা, প্রাণনাশের হুমকি

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাইয়ের হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হানা, প্রাণনাশের হুমকি

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মুজাহিদ বেগের ভাই এর হাসপাতালে সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও গালিগালাজ করেছে। তাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষ।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে ডা. মহসিন বেগ এর মালিকানাধীন আনোয়ারা হামিদা চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রোগী দেখা শেষ করে ডা. মহসিন বেগ হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থান করায় সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে তিনি রক্ষা পান। ৬ থেকে ৭ মিনিট হুমকি ধামকি গালি গালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের সন্ত্রাসীর দল হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এ ব্যাপারে ডা. মহসিন বেগ পুলিশ ও জেল রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ডা. মহসিন বেগ বলেন, আমি দুই যুগের বেশি সময় ধরে সারাদেশে সুনামের সাথে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন হুমকি ন্যাক্করজনক। আমি অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। আমার ভাই মুজাহিদ বেগ ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী। তাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষ।

ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের প্রচারণায় বাধা, রিকশার প্রার্থীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের প্রচারণায় বাধা, রিকশার প্রার্থীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে দশ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি আসনটিতে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ (বুড়িদিয়া) বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভোট চাইতে গেলে আকরাম আলীর বহরভুক্ত গাড়ি আটকানো হয় এবং সেখানে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্লাসের বাইরে থেকে কিল-ঘুষি, চর-থাপ্পড় মারার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই দিন রাত ৮টার দিকে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওইদিন গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ এলাকায় প্রচারণা শেষ করে সিংহপ্রতাপের বুড়িদিয়া বাজারে যান। বাজারে গাড়ি থেকে নেমে তিনি দুইটি দোকানে লিফলেট বিতরণ করেন। তৃতীয় দোকানে ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার নেতৃত্বে একদল লোক একত্রিত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “এসময় প্রার্থীর গাড়ি ও আমাদের ব্যবহৃত গাড়ি আটকে রেখে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়িতে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। আমাদের কর্মীদের অপমান করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আকরাম আলী ও তার বহরকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এভাবে যদি ভোট চাইতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সুষ্ঠু ভোট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত। রিকশা প্রতীকের সাধারণ ভোটারদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রিকশায় ভোট দিলে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়া’ হবে।”

তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। চলমান নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে এমন ঘটনার ফলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

ফরিদপুরে পুকুরের নিচে মিলল পিস্তল-গুলিসহ বিপুল অস্ত্র

হারুন-অর-রশীদ ও মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ফরিদপুরে পুকুরের নিচে মিলল পিস্তল-গুলিসহ বিপুল অস্ত্র

ফরিদপুরের সদরের কানাইপুরের আখ সেন্টার এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি পুকুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ ও ধরন দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, এগুলো কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কাজে ব্যবহারের জন্য গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজ। অভিযানে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় পুকুরের পানি সেচে ফেলা হয়। এরপর পানির নিচে তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই তল্লাশি অভিযান, যা এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— ৪টি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি, ২টি কাটা পাইপগান ও ২ রাউন্ড গুলি, ৫টি চাইনিজ কুড়াল, ৬৫টি ছোট-বড় ছেনদা, ৮টি বল্লম, ৬টি ছোট-বড় চাকু, ১০১টি বর্ষার মাথা, ১টি টেটা এবং ৫টি খালি কাঁচের মদের বোতল। অস্ত্রগুলো মাটির নিচে ও পানির তলদেশে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রাথমিকভাবে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা না হলেও অস্ত্রগুলো কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কতদিন ধরে সেখানে মজুত করে রেখেছিল—তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকায় অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অস্ত্র মজুদের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় এমন অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।