খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধির বাড়িতে চুরির ঘটনায় মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৭ এএম
‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধির বাড়িতে চুরির ঘটনায় মামলা

দৈনিক আমার দেশ ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহিম হুসাইনের বাড়িতে চুরির ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইব্রাহিম হুসাইন বাদী হয়ে থানায় একটি এজহার দায়ের করলে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

এর আগে ২৬ নভেম্বর বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৪টার মধ্যে তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার ফেলাননগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চোর বা চোরেরা দুটি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহিম হুসাইন ২৬ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যার পর তার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। ভোর রাত ৪ টার দিকে অতর্কিত শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে গৃহকর্তা দেখতে পান কয়েকজন মিলে তার শোবার ঘরে রাখা মোটরসাইকেলটি টানাটানি করছে। এসময় চোর চোর বলে চিৎকার করলে চোরেরা মোটরসাইকেলটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে দেখতে পান ঘর থেকে তার নিজের ব্যবহৃত একটি স্যামসং এস টুয়েন্টি থ্রি আলট্রা মডেলের স্মার্ট ফোন এবং তার মায়ের ব্যবহৃত নকিয়া বাটন মোবাইল ফোন, দুইটি লোহার ট্রাংকসহ বেশ কিছু দামি আসবাবপত্র খোয়া গিয়েছে। ঘটনা তৎক্ষনাত বোয়ালমারী থানায় অবগত করলে মধুখালী সার্কেলের এএসপি আজম খান এর নির্দেশনায় বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুরির বিভিন্ন আলামত জব্দ করে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তার বাড়িতে পরপর দুই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় প্রথম রাতে চোরেরা কাসা/পিতলের বেশকিছু আসবাপত্র, ৬টি বিদেশী কম্বল, বিদেশী টর্চ লাইট এবং অন্যান্য আসবাপত্রসহ আনুমানিক ৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় এবং দ্বিতীয় রাতে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল ও ব্যাটারিসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়।

সে সময়ও চুরির ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন চোরাই মালামাল উদ্ধার বা চোরচক্রের কাউকে আটক করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরির ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর শহরের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মায়েসা (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মায়েসা ওই এলাকার বাসিন্দা মাহফুজের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সামনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল মায়েসা। একপর্যায়ে খেলার ছলে দৌড়ে বাড়ির সামনে পাকা সড়কে উঠে পড়ে সে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, মায়েসা ছিল খুবই চঞ্চল ও সবার আদরের। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘাতক যানবাহনটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।