খুঁজুন
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, আয়াকে শোকজ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৩৯ পিএম
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, আয়াকে শোকজ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালটির আরিফা আক্তার নামের এক আয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই আয়ার বিরুদ্ধে হাসপাতালে ডিউটি না করেও সরকারি বেতন তোলার অভিযোগ উঠেছিল।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে একইদিন সকালে আরিফা আক্তার নামের ওই আয়াকে শোকজ করা হয়।
জয়দেব কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আয়া আরিফা আক্তারকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অন্যন্য অভিযোগের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাসপাতালে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে ডিউটি না করেও বেতন তোলার অভিযোগে আরিফা আক্তার নামের এক আয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে। এছাড়া ওই হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল ‘অনিয়ম-অবহেলায় চলছে নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
এদিকে, হাসপাতালে নতুন ভবন নির্মাণাধীন থাকায় শৌচাগার সংকট দেখা দেয়। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে হাসপাতালটির রোগী ও স্বজনদের পড়তে হতো বিড়ম্বনায়। এ খবর পেয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সচেতন সমাজ” সালথা-নগরকান্দার আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. গোলাম হায়দারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবকে সাথে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবহার অনুপযোগী শৌচাগার সংস্কার এবং নিচ তলায় আউটডোর রোগীদের জন্য দুইটি নতুন শৌচাগার নির্মাণের জন্য স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নগরকান্দা শাখার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ফরিদপুরে আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

দীর্ঘ ১৮ মাস পর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতা—সেখ সৌরভ ও মো. শাওনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলনের পর উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়ে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করে পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী কাওসার টিটো বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। হাজারো চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা সুযোগ পেলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ এখনও লক্ষ্য করা যায়নি। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ নিয়ে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ আইনগত প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলফাডাঙ্গা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল-সমাবেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় শামা ওবায়েদকে ঘিরে বিএনপির উচ্ছ্বাস

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল-সমাবেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় শামা ওবায়েদকে ঘিরে বিএনপির উচ্ছ্বাস

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরের জেলখানার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীরা শামা ওবায়েদের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মিছিল শেষে জনতা ব্যাংক মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শামা ওবায়েদ ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।

সমাবেশে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শামা ওবায়েদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ফরিদপুরের রাজনীতি যেমন শক্তিশালী করেছেন, তেমনি ঢাকার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় অবদান রেখেছেন। তার মতো একজন যোগ্য নেত্রীর হাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করায় আমরা গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “ফরিদপুর বিভাগ থেকে এই প্রথম এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর নতুন দায়িত্বে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করবেন এবং উন্নয়ন ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

সমাবেশে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আত্মশুদ্ধি, সংযম আর রহমতের বার্তায় পবিত্র রমজান

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
আত্মশুদ্ধি, সংযম আর রহমতের বার্তায় পবিত্র রমজান

রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে রহমত ও বরকতের বার্তা নিয়ে আসে। আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সময়। রমজান মাসে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা করে, ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য, পবিত্র রমজান মাস হলো প্রতিফলন এবং প্রার্থনার একটি পবিত্র সময়। রমজান আশা, রহমত এবং বরকত এর এক মহৎ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে। এ মাস হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য আত্মচিন্তা ও প্রার্থনার এক পবিত্র সময়, আশা ও এক মহৎ দর্শনের প্রতীক।

এই পবিত্র মাসে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের জন্য আরও সুন্দর, উদার ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু মানব পরিবারের অনেক সদস্যের কাছে এই দৃষ্টিভঙ্গি দূরবর্তী থেকে যায়।

রমজানের রহমত ও বরকত:

আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল করেন। এই মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য হেদায়েত ও পথনির্দেশিকা।

ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সুর:

রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সুর বয়ে যায়। এ মাসে মুসলমানরা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে, একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে। এই মাসে মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজের জন্য মুসলমানরা একত্রিত হয় এবং একসাথে ইবাদত করে। এই সম্মিলিত ইবাদত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি জাগ্রত করে।

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খোলা থাকে। অথচ আফগানিস্তান থেকে ইয়েমেন, গাজা থেকে সুদান এবং তারও বাইরে সংঘাত, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্যসহ নানান দুর্ভোগে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বিভেদ দূর করতে ও দুঃখ কষ্টে থাকা মানুষের কাছে সহায়তা ও আশা পৌঁছে দিতে এবং প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে এই কঠিন ও বিভক্ত সময়ে রমজানের চিরন্তন বার্তা স্মরণ করা প্রয়োজন।

আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ:

রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য অনেক সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এই মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, তা হলো লাইলাতুল কদর। রমজান মাসে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন…ইনশাআল্লাহ। এই মাসে দান-সদকা ও ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়।

সহমর্মিতা ও সহানুভূতি:

রমজান মাসে মুসলমানরা সহমর্মিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানরা ক্ষুধার্ত ও দরিদ্রদের কষ্ট অনুভব করে এবং তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারা দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের সাহায্য করে এবং তাদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করে। এই সহমর্মিতা ও সহানুভূতি মুসলিম সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনে।

রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য:

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেয়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তারা তাদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। মুসলমানরা এই মাসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং বিশ্ববাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির দোয়া করে।রমজান মাসে, অনেক শিশু রাতের নামাজের জন্য একত্রিত হওয়া, একসাথে ইফতার করা এবং শিল্প, খেলাধুলার মতো কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে আনন্দ খুঁজে পায় যা উৎসবের সময় তাদের বিনোদন দিতে সাহায্য করে।

রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে শান্তি, বরকত, ও রহমতের বার্তা বয়ে আনে। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত নাজিল করেন। মুসলমানরা এই মাসে সিয়াম সাধনা, ইবাদত-বন্দেগি এর পাশাপাশি দান-সদকা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। রমজানের এই পবিত্র মাসে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা, এবং শান্তির সুর বয়ে যাক, এই কামনা করি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের বরকত দান করুন এবং আমাদের মধ্যে মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করুন। বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সহমর্মিতার সুর বয়ে যাক এবং পৃথিবীতে শান্তি বর্ষণ করুক, আমিন।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।