খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

তারেক রহমানকে যে সতর্কবার্তা দিলেন গোলাম মাওলা রনি?

গোলাম মাওলা রনি
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে যে সতর্কবার্তা দিলেন গোলাম মাওলা রনি?

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের পর কী ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে,সে বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেন।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক বার্তা তুলে ধরেছেন।

গোলাম মাওলা বলেন, তারেক রহমানের আশেপাশের লন্ডন থেকে আশা কিছু লোক ঘিরে রেখেছে তাদের কারণে দলের নেতাকর্মীরা তার কাছে ভিড়তে পারছে না এটা এখনই দূর করতে হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন গোলাম মাওলা রনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসা যতটা কঠিন, তার চেয়ে বেশি কঠিন ক্ষমতা ধরে রাখা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে।

রনি বলেন, শুধু সরকারি ব্রিফিংয়ের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং আর্থিক খাতের নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করা প্রয়োজন। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ, রিজার্ভের অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত চিত্র না বুঝলে যেকোনো সরকার শুরুতেই হোঁচট খেতে পারে।

মুদ্রার মান অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট মোকাবিলা এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে প্রথম দিকের অগ্রাধিকার।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে রনি বলেন, ক্ষমতায় এলে দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থা দ্রুত নষ্ট হবে। নিজ দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে সরকার নৈতিক অবস্থান হারাবে।প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে দিতে হবে।

দলীয় ঐক্যের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন রনি। বিদেশভিত্তিক বা কেন্দ্রীয় বলয়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ভেতরে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় রক্ষা হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

প্রশাসন, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রনির মতে, দলীয় বিবেচনার বদলে দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত না হলে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিষয়ে তিনি সংযত ও কৌশলী অবস্থানের পরামর্শ দেন। প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাবের পরিবর্তে আইনের শাসনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সবসময় বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর থাকে, ফলে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা হলো,সম্ভাব্য ক্ষমতার পথ যতই উন্মুক্ত হোক না কেন, সামনে রয়েছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দলীয় ঐক্য ও প্রশাসনিক দক্ষতা—এই চার স্তম্ভ মজবুত করতে না পারলে রাজনৈতিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশ্লেষণ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

লেখক: রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক 

গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

এহসানুল হক মিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকল প্রতিরোধ দীর্ঘদিনের আলোচিত একটি বিষয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বারবার এই ইস্যুকে সামনে আনছেন—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে প্রচলিত সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে আগের মতো সরাসরি নকলের সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ এখন প্রশ্ন মুখস্থনির্ভর নয়; বরং বিশ্লেষণধর্মী ও প্রয়োগভিত্তিক

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—নকল কমলেই কি শিক্ষার মান বেড়েছে? উত্তরটি এতটা সরল নয়।

সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষায় মূল্যায়ন ছিল কঠোর—সঠিক উত্তরে পূর্ণ নম্বর, ভুল হলে শূন্য। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে আংশিক সঠিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নীতিগতভাবে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নম্বর প্রদানে অতিরিক্ত উদারতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মেধা যাচাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভালো ও দুর্বল শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এখন নকল দমন নয়, বরং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করা।

শিক্ষাব্যবস্থার এই পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—

প্রথমত, শিক্ষকদের নিয়মিত ও কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বশীল তদারকি জোরদার করতে হবে, যাতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে।

তৃতীয়ত, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ না করলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

চতুর্থত, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালু করতে হবে। বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারছে না, যার প্রভাব সরাসরি পরীক্ষার ফলাফলে পড়ছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত প্রণোদনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অনুপ্রাণিত শিক্ষকই একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।

নতুন কারিকুলাম নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে গণিতসহ কিছু বিষয়ের বই যথেষ্ট আধুনিক ও সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হঠাৎ করে বাতিল করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপের একটি কার্যকর মাধ্যমকে দুর্বল করে দিয়েছে। উন্নত পাঠ্যবই ও নম্বরভিত্তিক মূল্যায়নের সমন্বয় ঘটানো গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হতে পারত।

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে যে সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই—

– তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক কেউই প্রস্তুত ছিল না

– সব শ্রেণি ও বিষয়ে একযোগে পরিবর্তন আনার অযৌক্তিকতা

– মূল্যায়ন কাঠামোর হঠাৎ পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং সময় নিয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। অতীতে সৃজনশীল পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হওয়ায় তা সহজে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। নতুন কারিকুলামের ক্ষেত্রেও যদি একই কৌশল অনুসরণ করা হতো, তাহলে হয়তো আজকের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র নকল দমন দিয়ে শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও ধীরস্থির পরিকল্পনা, যেখানে মূল্যায়নের ন্যায্যতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সক্ষমতা—সবকিছুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নইলে ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ অর্জন হলেও ‘মানসম্মত শিক্ষা’ অধরাই থেকে যাবে।

লেখক:

সহকারী শিক্ষক (গণিত),

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদপুর।

সাংবাদিক :

দৈনিক আজকালের খবর ও বিডি২৪লাইভ.কম।

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম।

ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল।

মুখবন্ধে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান সবুজে ঘেরা লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৫৭ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক উত্তরসূরি বিরোধী আন্দোলনের কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। এই নিয়তি তিনি ফেব্রুয়ারিতে বাস্তবে রূপ দেন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর নির্বাচন ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই মারা যান খালেদা জিয়া। জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও তিনি শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই শোককে কাজে লাগিয়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।

এতে আরও বলা হয়, শূন্য দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলো (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করেছে) তার সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’-কে অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।’

১০০ প্রভাবশালী তালিকায় আরও আছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, পোপ লিও চতুর্দশ, ভারতের অভিনেতা রণবীর কাপুর, অভিনেত্রী ডকোটা জনসন, ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং প্রমুখ।

সূত্র : ডেইলি স্টার

ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিদর্শন শেষে তিনি এ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি পৌরসভার নির্ধারিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কার্যক্রমের বিস্তারিত অগ্রগতি, প্রযুক্তি ব্যবহার ও উৎপাদিত পণ্যের বিষয়ে ধারণা নেন। পরিদর্শন শেষে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছাসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। নদী-নালা ও খালে বর্জ্য মিশে পানি দূষিত হচ্ছে, যার ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। ফরিদপুরে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডিজেল উৎপাদনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই জ্বালানি কৃষিকাজে, বিশেষ করে পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে এটি ভারী যানবাহনের জন্য উপযোগী নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া বর্জ্য থেকে জৈব সার, নির্মাণসামগ্রী, টাইলস, এমনকি আসবাবপত্র তৈরির বিষয়টিও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তিনি।

ড. হায়দার বলেন, “বর্জ্যকে সমস্যা না ভেবে সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

পরিদর্শন শেষে তিনি সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।