খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরের কুমার নদে গভীর রাতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মফিজুর রহমান শিপন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১:২২ পিএম
ফরিদপুরের কুমার নদে গভীর রাতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আদেশ অমান্য করে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের কুমার নদের উৎসমুখ মদনখালী এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী মহল।
সরেজমিনে রোববার (১৬ ফেব্রয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের এম এম ভাটা সংলগ্ন এলাকায় কুমার নদ থেকে একাধিক ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন এম এম ব্রিংকসের মালিক শাহজাহান মিয়া। তার লোকজন দিয়ে রাতে ৩টি বেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটিগুলো ১০টি ট্রাকে নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নির্দেশ অমান্য করে এম এম ব্রিংকের মালিক শাহজাহান মিয়া গভীর রাতে তাদের নির্দেশ অমান্য করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। তারা প্রভাবশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে কেউ রাজি হয়নি।
 স্থানীয় বাসিন্দা আরো জানান, শাহজাহান স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু উত্তোলন করছে, আমরা যারা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা রয়েছি তাদের জন্য এখানে বসবাস হুমকির মুখে।
তারা জানান, বালু উত্তোলনে অনেক ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। আমরা যারা নদী তীরে বসবাস করছি এভাবে বালু উত্তোলন করায় আমরা বসবাস করতে পারবো না। এছাড়া রাতে বালু উত্তোলন করে শহর রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে তারা ট্রাকে করে বালু নিয়ে যায়। শহর রক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে রয়েছে। ধুলায় নদী তীরের বাসিন্দারাও আক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইরশাত জাহান জানান, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার স্যার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন শেষে স্যাররা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন। স্যারদের নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা বালু উত্তোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সে যেই হোক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ০২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান মোল্লা ও পুলিশ সুপার মো: আব্দুল জলিল সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বালু উত্তোলনের স্থানগুলো ও শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং নদী তীরের বাসিন্দারের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শুনেন। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেন। এসময় তারা জানান, আজকের পর থেকে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে পারবে না। যদি কেউ দু:সাহস দেখায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে যারা বালু উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও এখনো অবৈধভাবে সূর্য্যর আলো অস্তমিত হওয়ার পরেই বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
গত ২০১০-১১ অর্থবছরে ১শ ৬৫ কোটি টাকা ব্যায়ে সাড়ে ১০ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কাজটি সম্পন্ন হয় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে, অবৈধভাবে বালু উত্তোল করায় হুমুকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।