খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আ.লীগ নেত্রীর মেয়ে, কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আ.লীগ নেত্রীর মেয়ে, কমিটি নিয়ে ক্ষোভ
ফরিদপুরে সদ্য ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘উল্টে যাচ্ছে গণেশ… সাপের ডিম সাপেই খাবে।’
২৩ সদস্যের এই কমিটিতে ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা মুখোশধারীদের’ স্থান দেওয়ায় তিনি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনসিপি ছিল শহীদদের রক্ত ও বীরদের ত্যাগে নির্মিত। কিন্তু আজ সেই দলে জায়গা পাচ্ছে তারা, যারা সেই সময় বিরোধিতা করেছিল।
ফরিদপুর জেলা শাখার ঘোষিত সমন্বয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফরিদপুরের ছাত্রজনতার বুকে গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি সৈয়দা নীলিমা দোলা। যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন এসএম জাহিদ, সাইফ হাসান খান, জিল্লুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসেন ও মো. কামাল হোসাইন। এছাড়া ১৭ জন সদস্য রয়েছেন যারা জেলার বিভিন্ন পেশা ও পটভূমি থেকে এসেছেন।
গত ৫ জুন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে এ কমিটি ঘোষণা করেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত।
এছাড়া গত ৩ জুন এনসিপির শ্রমিক উইংসের ৩৬ সদস্যের আরেকটি জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠিত হয়। যার প্রধান সমন্বয়কারী এসএম জুনায়েদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের সদস্যসচিব সোহেল রানা ফেসবুকে তার নিজস্ব আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন।
ওই মন্তব্যে সোহেল রানা লেখেন, ‘উল্টে যাচ্ছে গণেশ। জুলাই- গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। শদীদের রক্ত, হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বীরদের ত্যাগের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। দেখতে পাচ্ছি আমরা তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের সম্মানিত দালালরা, ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা দোসররা মুখ লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যায়গা নিচ্ছেন এই দলে। বাদ যাচ্ছে না সহযোগী সংগঠন গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন- ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার আগে কখনো খতিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন নাই, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা ছিল। কার অবস্থান কি ছিল! জুলাইয়ের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যাদের পদ/পদবি দিবেন, তারা কি চায়! মানুষের জন্য রাজনীতি নাকি, টেন্ডারবাজি, দখলদারী, করে নিজের পকেট ভারী। সময় ভালো চলছে…বসন্তের কোকিল আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে, সময় খারাপ হলে, এদের কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে? রীতিমতো অবাক করে দিচ্ছেন  আমাদের! যেটার ফলাফল হবে- সাপের ডিম সাপেই খাবে!’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, রাজনীতিতে কিছু বিতর্ক থাকবেই। আমরা ছবির রাজনীতি করি না। কারও আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ছবি থাকলে সেটাই সব নয়। তবে কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতেও নানান মাইন্ডের অনেকে রয়েছে। তাই কারও পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পর্কের ভিত্তিতে না দেখে আমরা তার বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা দেখছি।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।