খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মধুমতি তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মধুমতি তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে গেছে মধুমতি নদীর ডান-তীর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশ। এতে নদীর তীরে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং যথাযথ ডাম্পিং না করে সিসি ব্লক বসানোর কারণে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধসে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা এখনো কাজ বুঝে পাননি। কাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থল চর আজমপুর এলাকায় ডান-তীর রক্ষায় ৩০০ মিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন মল্লিক। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পানিতে বাঁধের আনুমানিক ৩০ মিটার ধ্বসে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। এতে সিসি ব্লকগুলো পর্যায়ক্রমে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী মধুমতি নদীর পূর্বপাড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি, স্কুল, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদী পাড়ের অনেক বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে কয়েকবার বসতি স্থাপনা পাল্টিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গত সরকারের আমলে এলাকাবাসীর দাবির পেক্ষিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টায় মধুমতি পাড়ে সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। যা ‘মধুমতি নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ নামে ২০২৩ সালের ৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে ২৮টি প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মধুমতি নদীর ডান তীর রক্ষায় ২৮টি প্যাকেজের মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের আওতায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর এলাকায় ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ পায় মেসার্স লিটন মল্লিক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের কাজটি প্রায় শেষের দিকে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নির্মাণ কাজের কয়েক জায়গা ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কাজটি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শরীফ (৬৩) নামে এক ব্যক্তি বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধ্বসে পড়েছে। দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত না করা হলে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেফালী বেগম (৫৫) নামে এক বাসিন্দা জানান, স্থায়ী বাঁধ হওয়ার কারণে গত দুই মাস আগে ধারদেনা করে বাড়িতে একটা ঘর দিয়েছি। কিন্তু সেই স্থায়ী বাঁধও নদীতে যদি ভেঙে যায়। তাহলে তো আর কোথাও বলার জায়গা থাকলো না। আমরা এই এলাকায় বসবাস যাতে করতে পারি, সেই অনুযায়ী বাঁধটি যেন সরকার করেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেসার্স লিটন মল্লিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বার্ধীকারী লিটন মল্লিককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।
তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধের কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ওই অংশে বালু ভর্তি জিও ব‍্যাগ ফেলানো হচ্ছে। পরবর্তীতে নদীর পানি কমলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে। আমাদের বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ধসে যাওয়া বাঁধ নির্মাণ কাজটির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুর রহমান জানান, আমি সবেমাত্র ফরিদপুরে নতুন যোগদান করেছি। বাঁধ নির্মাণ কাজটি স্যারের (নির্বাহী প্রকৌশলী) সাথে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাঁধের ধ্বসে যাওয়া অংশের কাজ পুণরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম আছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘এসো জ্ঞান অন্বেষণে, বের হও সেবা দানে’—স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ। সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহাদত হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী শায়লা শারমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ বলেন, নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ ও ক্যাডেট কলেজগুলো শৃঙ্খলার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ঝরে পড়ে। কলেজে ওঠার পর নিয়মশৃঙ্খলা মেনে না চলা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না; সফলতার জন্য নিয়মশৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দায়িত্ববোধের চর্চা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালিত হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নিম্নমাধ্যমিক এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। ২০১৫ সালে ডাবল শিফট চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শৃঙ্খলা, যা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে চলা, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনটা ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচের মতো। এখানে কখনো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে, আবার যেকোনো সময় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থেকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় অন্যান্য বক্তারাও নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার (৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবলু শেখকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকার শংকরপাশা বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে এসআরবি।

​এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এসআরবি-৬-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দার তারাকান্দি এলাকার ইদ্রিস আলী মোল্যার মেয়ে মাহফুজা আক্তারকে আসামিরা তাঁদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে মাহফুজা নিখোঁজ ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রধান আসামি বাবলু শেখের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

​এসআরবি আরও জানায়, পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে ওই দিন বিকেল থেকে রাতের কোনো একসময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

​এ ঘটনায় নিহত মাহফুজার বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-১০। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

​গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত ১০টি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে তালবীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের শফির ঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ৫০০টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

​ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা শামিম হোসেন এবং নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ফরিদপুরের ৩টি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার তালবীজ ও ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। বজ্রপাতের কারণে প্রতি বছর দেশে অনেক প্রাণহানি ঘটে। এই ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানান।

​আলোচনা সভা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক যক্ষ্মাব্যাধি (ভক্ষব্যাধি) হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে তালবীজ রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।