খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে পশু হাসপাতালে জনবল সংকট, ব্যাহত সেবা কার্যক্রম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পশু হাসপাতালে জনবল সংকট, ব্যাহত সেবা কার্যক্রম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে চলছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি শূন্য। এর মধ্যে আবার তিনবছরের জন্য অন্যত্র প্রশিক্ষণে রয়েছেন একজন। বর্তমানে এই কার্যালয়ে কাগজে-কলমে পাঁচজন থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। ফলে অল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে উপজেলার একমাত্র সরকারি পশু হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চরম ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১২১টি গ্রামের লাখো মানুষের ৫৮ হাজার ৭৭৬টি গবাদি পশু ও দুই লাখ ৯০ হাজার ৫০১টির বেশি হাঁস মুরগীসহ বিভিন্ন প্রাণি রয়েছে। তাই প্রতিদিন অনেক গবাদি পশু পালনকারী সেবা ও পরামর্শ নিতে আসেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। কিন্তু ভেটোরিনারি সার্জনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল না থাকায় চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ নিতে আসা লোকদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তেমনি হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে। ফলে খামার মালিকরা বিভিন্ন গবাদি পশুর অপারেশনের জন্য ছুটছেন বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি উপজেলায় একজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন ভেটেরোনারি সার্জন, একজন উপজেলা লাইফ স্টক অ্যাসিসটেন্ট (ইউএলএ), তিনজন ভেটেরেনারি ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট (ডিএফএ), একজন কম্পাউন্ডার, একজন ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট (এফএ/এআই), একজন অফিস সহকারী, একজন ড্রেসার ও একজন অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদ রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বর্তমানে একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন উপজেলা লাইফ স্টক অ্যাসিসটেন্ট, একজন ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট, একজন ড্রেসার ও একজন অফিস সহায়ক আছেন। অর্থাৎ ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্থলে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারি আছেন। ছয়টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। এদিকে এই পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আবার ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট তিন বছরের জন্য অন্যত্র প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে এই কার্যালয়ে মাত্র চারজন কর্মরত আছেন।

দপ্তর থেকে জানা গেছে, কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, পশুপাখিকে টিকাদান, চিকিৎসাদান, মাঠ পরিদর্শন, খামারিদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি বিতরণ, পশুপাখির সুস্থতার সনদ দেওয়া, উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ, খামার নিবন্ধন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সেবাদানের কাজগুলো এই দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু জনবলসংকট থাকায় বাকিদেরই সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে পশু পালনকারীরা চাহিদামতো সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

উপজেলার জাটিগ্রামের কৃষক মাহাবুর মোল্যা জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে একজন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ হাসপাতাল। চিকিৎসার জন্য গবাদি পশু নিয়ে আসলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালে অনেক ভিড় থাকে। এ হাসপাতালে আরেকজন ডাক্তারের খুবই প্রয়োজন।’

উপজেলা ডেইরি এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ‘হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে যথাসময়ে সেবা দিতে পারছে না। আমরা চাই দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি করা হোক।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন বলেন, ‘ভেটেরিনারি সার্জনসহ ছয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক বিভিন্ন গবাদিপশু নিয়ে আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে। আমাকে দৈনন্দিন অফিসিয়াল কাজকর্ম করতে হয়। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কাজের জন্য যেতে হয়। সরকারি বিভিন্ন সভায় যেতে হয়। প্রতিদিন আমাকে একাই সব সামলাতে হচ্ছে। জনবল সংকটের মধ্যেও সেবা প্রদানে কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে না। তবে কাজ করতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলার মাসিক সভায় বারবার অবহিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শূন্য পদে পদায়ন না হওয়ায় প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট অন্য যারা আছেন, তাদের সহযোগিতায় সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেসব পদে লোক নেই, সেসব পদে লোকবল দেওয়া হলে আমাদের সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলফাডাঙ্গায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে ক্যাব সদস্যদের মতবিনিময়

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে ক্যাব সদস্যদের মতবিনিময়

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাজারে ব্যবসায়ীদের অনিয়ম প্রতিরোধ, জনসাধারণের ভোগান্তি কমানো এবং আলফাডাঙ্গা বাজারের যানজট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ক্যাব নেতারা।

​মতবিনিময় সভায় ক্যাব আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেকেন্দার আলম বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে ক্যাব ওতপ্রোতভাবে কাজ করছে। আলফাডাঙ্গায় কোনো ব্যবসায়ী যাতে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা ক্যাব প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা দেবে।”

​তিনি আরও বলেন, “আলফাডাঙ্গা বাজারের পরিসর তুলনামূলক ছোট হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে কাঁচাবাজার, ভ্যানস্ট্যান্ড ও মাছবাজার নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

​নবাগত ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, “ক্যাব সদস্যদের দেওয়া প্রতিটি পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আলফাডাঙ্গা উপজেলার মানুষের কল্যাণে আমি ভালো কিছু করতে চাই। জনস্বার্থে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপে ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা ক্যাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল বাশার, দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক তাইজুল ইসলাম টিটন, সিনিয়র সদস্য আজিজুর রহমান দুলাল, নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক মো. কামরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আসাদুজ্জামান টুনু, আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক হারুনুর রশীদ, সাংবাদিক এস এম কোবাদ হোসেন, উপজেলা ক্যাবের আইসিটি সম্পাদক মো. শাহিনুর রহমান, সিনিয়র সদস্য সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান এবং ক্যাব সদস্য রাজিব ভূঁইয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

চরভদ্রাসনে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

“কৃষক কার্ড থাকলে হাতে, সেবা পাবেন সাথে সাথে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফেনী থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রদর্শন করা হয়।

​উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লাসহ অনেকে।

​এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, প্রান্তিক কৃষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিএসডাঙ্গী ব্লকের ৮৪৮ জন কৃষকের মধ্যে উদ্বোধনী দিনেই ৬০২ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কৃষি উপকরণ সহায়তা বাবদ আড়াই হাজার (২,৫০০) টাকা করে স্থানান্তর করা হয়েছে।