খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ভাইরাল অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর পচন ধরা হাত কেটে জীবন বাঁচালেন চিকিৎসকরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর পচন ধরা হাত কেটে জীবন বাঁচালেন চিকিৎসকরা
গত ২৫ এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ভাইরাল পোস্ট ফরিদপুরের স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মর্মান্তিক অবস্থার দিকে। তার একটি হাতে পচন ধরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিল। তবে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতা এবং চিকিৎসকদের নিবিড় প্রচেষ্টায় সেই নারীর জীবন রক্ষা পেয়েছে, যা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
‘ফরিদপুর লাইভ’ ফেসবুক পেজে ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি পোস্টে নারীর শোচনীয় শারীরিক অবস্থার বিবরণ প্রকাশ পায়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, নারীর একটি হাত মারাত্মকভাবে পচে গিয়েছিল এবং পোকায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। এই হৃদয়বিদারক তথ্য জানার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। শয়ন, রাইয়ান আহমেদ সৌরভ, বৈশাখী, আর. এম. হৃদয়, নাজমুল, নাইস, আনিসুর, সজল, ওয়ালিদসহ একদল তরুণ তাকে খুঁজে বের করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, নারীর হাতের সংক্রমণ এতটাই গুরুতর যে জরুরি অপারেশন ছাড়া তার জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহীন জোদ্দারের নেতৃত্বে ৪ মে ২০২৫ তারিখে একটি চিকিৎসক দল জরুরি অপারেশনের মাধ্যমে তার আক্রান্ত হাতটি কেটে ফেলেন।
ডা. শাহীন জোদ্দার বলেন, “রোগীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সময়মতো অপারেশন না হলে তার মৃত্যু অনিবার্য ছিল। এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দ্রুত উদ্যোগ এবং মানবিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা নিয়মিত হাসপাতালে এসে রোগীর দেখাশোনা করছেন, যা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তবে, তার মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘমেয়াদী মনোসামাজিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪ মে অপারেশনের পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণে নারীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশা করছেন, শিগগিরই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে।
উদ্ধারকারী তরুণদের মধ্যে সৌরভ, বৈশাখী ও হৃদয় বলেন, “‘ফরিদপুর লাইভ’ পেজের পোস্ট দেখে আমরা তাকে খুঁজতে বেরিয়েছিলাম। তার হাতের অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পেরে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।”
নারীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ফরিদপুরবাসীর মাঝে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তবে, নারীর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবিকতার শক্তি যেকোনো সংকটে আশার আলো জ্বালাতে পারে। ফরিদপুরের চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে এই নারীর জীবন রক্ষা পাওয়া মানবতার এক অম্লান বিজয়।

দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

আন্তর্জাতিক ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির দীর্ঘ কয়েক মাসের সফর শেষে এবার নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট থেকে লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উজবেকিস্তানের বুখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। উজবেকিস্তানে পৌঁছানোর পর, তিনি পবিত্র বুখারী শরীফের রচয়িতা হযরত ইমাম বুখারী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সমরকন্দে গমন করবেন। উজবেকিস্তানে তিন দিন অবস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

​উজবেকিস্তান সফর শেষে তিনি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাত্রা করবেন। এই সফরের একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে—ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আবি আহমেদের পিতা, মরহুম আলী আহমেদের কবর জিয়ারত করা।

উল্লেখ্য, মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বিরের জীবনে মরহুম আলী আহমেদের অবদান অপরিসীম; তিনি এক সময় নিজের জীবন বাজি রেখে মাওলানা করিম ইবনে মছব্বিরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকার করেছিলেন। এই কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে যাচ্ছেন।

​মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে পড়ে মিলন মাতুব্বর (২৭) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবী গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিলন মাতুব্বর ওই গ্রামের আব্দুর রব মাতুব্বরের ছেলে। আহতরা হলেন মিলনের ভাই মিঠু মাতুব্বর (৩০), মিঠুর স্ত্রী হেনা বেগম (২৪) এবং প্রতিবেশী ওবায়দুর শেখ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের প্রধান বিদ্যুত লাইনের একটি তার ছিঁড়ে পাশের একটি গোয়ালঘরের ওপর পড়ে। এতে গোয়ালঘর থেকে কাপড় শুকানো জন্য ব্যবহার করা জিই তারের (ধাতব তার) মাধ্যমে তিনটি বসতঘরসহ তিনটি ঘরে বিদ্যুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোসল শেষে ভেজা কাপড় শুকাতে বাড়ির উঠানে টানানো জিআই তারে কাপড় মেলতে গেলে মিলন মাতুব্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন।

তার চিৎকার শুনে তার ভাই মিঠু মাতুব্বর উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে একে একে হেনা বেগম ও ওবায়দুর শেখও বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা সদরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর চারজনকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন ঝড় বৃষ্টি ছাড়াই একা একা কিভাবে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পরে?, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কারণেই এ প্রণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজনের মৃত্যু ও তিনজন আহত হওয়ার দায় কি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নেবে?

এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলতে তার অফিসে গেলে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিক বার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভি করেননি।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনাস্থলে আমাদের ফোর্স পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ পুলিশ হেফাজতে নেন। তিনি জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৪০ বছর ধরে দখলে থাকা খালটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত সরকারি খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজার এলাকার সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নিচে থাকা কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং হাটের দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় সরকারি খাল উদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, “সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা ও চলাচলে ভোগান্তি ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হলো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং বাজার ও আশপাশের এলাকার পরিবেশও উন্নত হবে।