খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে তিন দেশের স্বীকৃতির তাৎপর্য কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:২১ এএম
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে তিন দেশের স্বীকৃতির তাৎপর্য কী

অবশেষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। একটি পরাশক্তিসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দেশের এ ঐতিহাসিক স্বীকৃতির আসলে তাৎপর্য কী, তা নিয়ে নানা পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার রসদ যোগাল। একই সঙ্গে এই অঞ্চল ঘিরে স্থিতিশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।

 

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য-কানাডা-অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি বলেন, আজ আমরা শান্তির আশা ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে পুনরুজ্জীবিত করতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মানে হচ্ছে, একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ইসরায়েল এবং একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র– যা বর্তমানে নেই।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিস তার ঘোষণায় বলেছেন, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ, যা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আনতে সহায়ক হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমাদের অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের এমন স্বীকৃতি বিশ্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের আশা জাগাচ্ছে না, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও গ্লোবাল ৭ (জি-সেভেন) দেশগুলোর মধ্যবর্তী সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে।

প্রথমত এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন একটি স্বীকৃত রাষ্ট্রের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ফিলিস্তিনকে বৈধ রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থান দিতে সহায়ক হবে।

দ্বিতীয়ত, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর একটি যৌথ উদ্যোগের বার্তা যাচ্ছে। এতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপের জন্য ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে।

তৃতীয়ত, স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জি-সেভেন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া প্রথম দুই জি-সেভেন দেশ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও দেশকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অনুপ্রাণিত করবে।

এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন সহজতর হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে জোরদার করবে।

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অত্যাচার-নিপীড়নের পঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায় স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এর পর ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ অভিযান শুরু করে। তারা হামাস দমনের কথা বললেও নির্বিচারে বেসামরিক এলাকায় চালাতে থাকা ওই হামলায় অর্ধ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, তখন থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনকে ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে। গত বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে এই স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনের কোনো সুনির্দিষ্ট সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। তাই এই স্বীকৃতি মূলত প্রতীকী।

ফিলিস্তিন এক সময় ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদী, যারা ছিল সংখ্যালঘু।

ওই সময় ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেন ইহুদী জনগোষ্ঠীর জন্য ফিলিস্তিনে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগে রসদ পেয়ে ইহুদীরা ওই অঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি বলে দাবি করে। আরবরাও দাবি করে এই ভূমি তাদের।

এরপর ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার বাহিনীর হাতে ইহুদী নিধনযজ্ঞের পর সেখান থেকে পালিয়ে তারা ফিলিস্তিনে ঘাঁটি গাড়ে।

১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনকে দুই ভাগ করে দুটি পৃথক ইহুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি। ব্রিটিশরা এই সমস্যার কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে। ইহুদী নেতারা এরপর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।

এরপর জল গড়ায় বহুদূর। আরবদের সঙ্গে যুদ্ধেও জড়ায় ইসরায়েল। এতে ফিলিস্তিনিদের অনেক জমির দখলে চলে যায় ইসরায়েলের। তারপর নানা সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল।

এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ভিত্তিক অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। ওই চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়েছিল যে- ফিলিস্তিনিরা স্বশাসনের আংশিক অধিকার পাবে এবং ইসরায়েল প্রথমে পশ্চিম তীরের জেরিকো এবং তারপর গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে। এর পরিবর্তে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের বৈধতা স্বীকার করে নেবে পিএলও।

কিন্তু পরে ইহুদিবাদী দেশটি তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে ফিরে আসে। বারবার ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ করে এবং সামরিক আগ্রাসন চালায়। বর্তমানে পশ্চিম তীর ও গাজা—দুটিই ইসরায়েলের দখলে, ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিজেদের ভূমি ও জনগণের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

সম্প্রতি পশ্চিম তীরে একটি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছি যে ফিলিস্তিন বলে কোনো রাষ্ট্র থাকবে না। এই ভূমি আমাদেরই। ’

ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম
ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়।

শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।

 

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।