খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত

আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে এবং পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কনস্যুলার অফিসারদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, কুয়েত, সোমালিয়া, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ব্রাজিলসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার বহু দেশ।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন নির্দেশনার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘পাবলিক চার্জ’ আইন প্রয়োগ করে ভিসা আবেদন বাতিল করার অধিক ক্ষমতা পাবেন। এই আইন অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন ধারণা হলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা যাবে।

নতুন নীতিমালায় ভিসা আবেদনকারীদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন,“আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে মূল্যায়ন করব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কিনা। যাদের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কা থাকবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।”

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘পাবলিক চার্জ’ বিবেচনায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। পরে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে আরও কঠোর করে তোলে। যদিও বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে এর কিছু অংশ শিথিল করেছিল। এবার পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে নতুন করে ৭৫টি দেশের ওপর এই ভিসা স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।

যেসব দেশের জন্য স্থগিতাদেশ কার্যকর:

এই তালিকায় রয়েছে—
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

তানভীর তুহিন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

দীর্ঘ ৩১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পাকা ভবনের অভাবে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরাঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য দূর-দূরান্তের বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও নিজস্ব একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অবশেষে চলতি বছরে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল চারতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ভবনের প্রথম তলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। খুব শিগগিরই আধুনিক পরিবেশে পাঠদান শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চরমানাইর ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এতদিন টিনশেড ভবনে সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তানজিমুল হাসান কায়েস।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বজলুর রশিদ মাস্টার, অবসরপ্রাপ্ত সার্জন আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক সঞ্জয় চাকলাদার, ইসরাফিল বেপারী এবং তোরাব আলী।

বক্তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, প্রধান ফটক স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়কে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।

আপনার সঙ্গে কি সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
আপনার সঙ্গে কি সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

একসময় যে সন্তান দিনের প্রতিটি গল্প মা-বাবার সঙ্গে ভাগাভাগি করত, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তানই যেন নিজের চারপাশে অদৃশ্য এক দেয়াল তুলে দেয়। পরিবারের চেয়ে বন্ধুরা হয়ে ওঠে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখে, এমনকি একসঙ্গে সময় কাটাতেও অনীহা প্রকাশ করে। অনেক মা-বাবাই তখন ভাবতে শুরু করেন, ‘আমার সন্তান কি আর আগের মতো নেই?’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধিকাল ও কৈশোরে সন্তানদের মধ্যে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে কিছু আচরণ ও পারিবারিক পরিবেশ এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে পারলে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক করা সম্ভব।

কেন দূরত্ব তৈরি হয়?

অতিরিক্ত শাসন ও নজরদারি

সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা, বারবার বকাঝকা করা বা গোপনে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে সে নিজের ব্যক্তিগত পরিসর হারানোর অনুভূতি পায়। ফলে ধীরে ধীরে মা-বাবার কাছ থেকে মানসিকভাবে দূরে সরে যেতে পারে।

অন্যের সঙ্গে তুলনা

‘ওর মতো হতে পারো না?’—এ ধরনের তুলনা সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বারবার তুলনার শিকার হলে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি হয়।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব

সন্তানকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের মতবিরোধ বা ঘন ঘন ঝগড়া তার মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। তখন সে নিজের অনুভূতি প্রকাশের বদলে নীরব হয়ে যায়।

বন্ধুদের প্রভাব

কৈশোরে বন্ধুদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময় ‘স্মার্ট’ বা স্বাধীন প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিবার থেকে দূরে সরে যায়।

গোপনীয়তা রক্ষা

মা-বাবা অপছন্দ করেন এমন কোনো কাজে জড়িয়ে পড়লে বা এমন কিছু লুকানোর প্রয়োজন হলে সন্তান স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে।

নিজের আলাদা জগৎ

কৈশোরে নিজের চিন্তা, আগ্রহ ও সামাজিক পরিসর তৈরি হয়। তখন অনেকের কাছে বন্ধুদের গুরুত্ব পরিবারকে ছাড়িয়ে যায়। এই মানসিক পরিবর্তনও দূরত্বের একটি কারণ।

মানসিক চাপ বা আসক্তি

পড়াশোনা, সম্পর্ক, ব্যর্থতা কিংবা অন্য কোনো মানসিক চাপে থাকলে সন্তানের আচরণ বদলে যেতে পারে। একইভাবে মাদকাসক্তি বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

মা-বাবার আচরণ

মা-বাবার নিজেদের মধ্যে সমস্যা, পারিবারিক অস্থিরতা বা সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। শুধু আর্থিক চাহিদা পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রয়োজন মানসম্মত সময় ও আন্তরিক যোগাযোগ।

কীভাবে কমবে দূরত্ব?

সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে ছোটবেলা থেকেই ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ জরুরি। বয়ঃসন্ধিকালে তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, আবার প্রয়োজন হলে পাশে থাকার আশ্বাসও দিতে হবে।

মা-বাবা ও সন্তান উভয়ের আন্তরিক চেষ্টা থাকলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

মা-বাবার জন্য করণীয়

প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটান।

নিজের মতামত বা সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।

গোপনে সন্তানের ব্যাগ, মোবাইল বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি না করে সরাসরি কথা বলুন।

অযথা তর্ক বা বাদানুবাদ এড়িয়ে চলুন।

সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান, একসঙ্গে সিনেমা দেখুন বা বাইরে খেতে যান।

সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবেন না।

জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা বিশেষ দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

সন্তানের বন্ধুদের নিয়ে অযথা নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। তবে খারাপ সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন করুন।

সন্তানেরও দায়িত্ব আছে

শুধু মা-বাবার নয়, সন্তানেরও দায়িত্ব রয়েছে সম্পর্ককে সুন্দর রাখার। জীবনের প্রতিটি বিষয় না হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুভূতি, সমস্যা বা সিদ্ধান্ত মা-বাবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা উচিত। কারণ, বন্ধুরা জীবনের অংশ হলেও সংকটের সময়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় পরিবারই।

মনে রাখুন

কৈশোরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই দূরত্ব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা সন্তানের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা এবং খোলামেলা যোগাযোগ। একটি আন্তরিক কথোপকথনই অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ভবনের সাটারিং খুলতে গিয়ে চাপা পড়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভবনের সাটারিং খুলতে গিয়ে চাপা পড়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের সাটারিং খুলতে গিয়ে নিচে চাপা পড়ে হয়রত আলী (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারপাড় গ্রামে কাউসার শেখের নির্মাণাধীন বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হয়রত আলীর বাড়ি রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনি দুই সন্তানের জনক। জীবিকার তাগিদে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে ভাঙ্গায় নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চার থেকে পাঁচজন নির্মাণশ্রমিক ওই বাড়িতে ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন। শুক্রবার বিকেলে ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের সাটারিং খোলার সময় হঠাৎ ভারী কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে হয়রত আলী সাটারিংয়ের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও ভারী সাটারিং সরানো সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতের দিকে সাটারিংয়ের নিচ থেকে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বাড়ির মালিক কাউসার শেখ এবং সেখানে কর্মরত অন্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভারী সাটারিং অপসারণ করে প্রায় চার ঘণ্টা পর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।