খুঁজুন
, ,

বোয়ালমারীতে জোর করে জমি লিখে নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে জোর করে জমি লিখে নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জোর করে জমি লিখে নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বোয়ালমারী প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয় বার্তা টাওয়ারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মোমেন উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মো. মোস্তফা বিশ্বাসকে এক বছর পূর্বে তার বড় বোন চন্দনা বেগম পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেন। জমি না নিলে অন্য লোকের নিকট জমিটি বিক্রি করে দেবে বলে জানান। ফলে নিরূপায় হয়ে বসতবাড়ির সাথের জমির কথা চিন্তা করে বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মো. মোস্তফা বিশ্বাস বোনের ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর মোস্তফা বিশ্বাসের ছোট মেয়ের দুর্ঘটনা এবং সপত্নীক অসুস্থতাজনিত কারণে অভাব-অনটনে পরে বসতবাড়ি থেকে ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করতে চান। পাশের চালিনগর গ্রামের রশিদ শেখের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর শেখ শতক প্রতি ৩ লাখ টাকা বলেন। অপরদিকে সৈয়দপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম শতক প্রতি ৬ লাখ টাকা দাম বললে তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দখল বুঝে দেন। জাহাঙ্গীরের কাছে কম দামে জমি বিক্রি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ও তার আরও দুই ভাই আলমগীর ও হেমায়েত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় মোস্তফা বিশ্বাসকে খুন জখমের হুমকি দেয়। গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবনে এনিয়ে সালিশ বসে। সালিশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস শেখ। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনায়েত হোসেন মেম্বার, আহাদ মেম্বার, মুশা মেম্বার প্রমুখ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালিশের এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর শেখ গংদের হুমকি ধামকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে সালিশ পণ্ড হয়ে যায়। এরপর মোস্তফা বিশ্বাসকে একা পেয়ে জাহাঙ্গীর শেখ গংরা তাকে হুমকি দিয়ে ৫ শতাংশ জমি লিখে দিতে বলে। এ সময় মোস্তফা বিশ্বাস জমি বিক্রি করতে না চাইলে জাহাঙ্গীর শেখ গংরা তাকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সেই সাথে মোস্তফার ঘরবাড়ি, দোকানপাট জ্বালিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতাবোধ করায় মোস্তফা বিশ্বাস সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোয়ালমারী থানায় শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে ওই দিন দুপুরে বোয়ালমারী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগী মোস্তফা বিশ্বাস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদপুরে পালকিতে চড়ে বরযাত্রা, ফিরিয়ে আনা হলো গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পালকিতে চড়ে বরযাত্রা, ফিরিয়ে আনা হলো গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার রূপসী রূপ ও আবহমান ঐতিহ্য যখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে, তখন নতুন প্রজন্মকে পুরোনো দিনের আবহ মনে করিয়ে দিতে এক ব্যতিক্রমী বরযাত্রার আয়োজন করা হলো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। মাইক্রোবাস বা বিলাসবহুল গাড়ি বাদ দিয়ে লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী পালকিতে চড়ে কনের বাড়িতে গিয়েছেন বর।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বিলপুটিয়া গ্রামে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণীয় করে রাখতে এভাবে পালকিতে বরযাত্রার আয়োজন করেন বিলপুটিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে বর সাব্বির ইসলাম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলপুটিয়া গ্রামের সাব্বির ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার সোহরাব মোল্লার মেয়ে স্মৃতি পারভিনের বিয়ে নির্ধারিত হয়। বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখা এবং বাঙালির হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছে থেকেই সাব্বির আধুনিক যানবাহনের বদলে পালকি বেছে নেন। কাঁচা রাস্তার আঁকাবাঁকা পথ ধরে পালকি নিয়ে বরযাত্রীদের যাওয়ার দৃশ্য দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান উৎসুক গ্রামবাসী।

​বোরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বরের চাচা ইমরান মোল্লা বলেন, “একসময় গ্রামবাংলার বিয়েতে পালকি ছাড়া বরযাত্রার কথা ভাবাই যেত না। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে। ভাতিজা সাব্বিরের এই উদ্যোগে আমরা যেন এক মুহূর্তের জন্য হলেও পুরোনো দিনে ফিরে গিয়েছিলাম।”

​কনের বাবা সোহরাব মোল্লা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “পালকিতে করে বর আসার পর পুরো বিয়েবাড়িতে এক ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আগত অতিথি ও প্রতিবেশীরা পুরোনো স্মৃতি মনে করে দারুণ আনন্দ পেয়েছেন।”

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো স্মৃতি জাগানো এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা এলাকা জুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে উৎসাহ যোগাবে।

ফরিদপুরে এনসিপি নেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে এনসিপি নেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত ওই নেতার মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় এ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় বসবাস করছেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধভাবে কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযানে শিশুদের বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ আয়ুর্বেদিক ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

​অভিযান পরিচালনাকারী ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন জানান, অন্যায়ের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই। দলীয় কেউ যদি অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’