খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ভালো নেই সবার প্রিয় শিক্ষক ‘বকুল আপা’, শরীরে বেঁধেছে নানা রোগ!

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৩৩ এএম
ভালো নেই সবার প্রিয় শিক্ষক ‘বকুল আপা’, শরীরে বেঁধেছে নানা রোগ!

‘একসময় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নেচে-গেয়ে পাঠদান করাতেন। আনন্দ আর বিনোদনের মাধ্যমে আয়ত্ত করাতেন পড়ালেখা। তাইতো সবার মুখে মুখে বকুল আপার কথা শুনা যেত। মাঝেমধ্যে অন্য শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দিলেও বকুল আপার ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতোনা কোনো শিক্ষার্থী। ভালোবাসা আর আদর দিয়ে পড়াতেন কোমলমতি শিশুদের। তাইতো, তার সুনাম গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা স্কুলমুখী হতে শুরু করে। অবসরে যাওয়ার পর এখন টাকার অভাবে দু’টি চোখ হারাতে বসেছে এই শিক্ষক। শরীরও তার ভালো নেই, বেঁধেছে নানা রোগ।’

এতক্ষণ যার কথা বলছি তিনি হলেন- ফহমিদা খাতুন বকুল (৬৪)। যিনি ফরিদপুর শহরের ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ২০২০ সালে তিনি অবসরে যান। তবে, তিনি বকুল আপা নামেই অধিক পরিচিত। যাকে, সবাই বকুল আপা নামেই ডাকেন। কিন্তু, অবসরে যাওয়ার পর এ শিক্ষিকা পেনশনের ১৬ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৮ লাখ টাকা। অদৃশ্য কারণে বাকী ৮লাখ টাকা আজও ভাগ্যে জুটেনি।’

জানা যায়, ‘১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৮২টি ঘর নিয়ে ‘ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম’ প্রতিষ্ঠিত করেন। অবহেলিত ও শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি শিশুদের জন্য সে বছরই ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরু থেকেই এই স্কুলটিতে শিক্ষকতা করছেন ফাহমিদা খাতুন বকুল। এরপর ২০১৩ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ করে সরকার। এরপর ২০২০ সালে অবসরে যান শিক্ষিকা বকুল।’

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ‘শিক্ষিকা বকুল আপা খুবই আন্তরিক একজন মানুষ। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। তাইতো শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যন্য সহকর্মীদেরও কাছে ছিলেন জনপ্রিয়। কখনো ক্লাস ফাঁকি দিতেন না তিনি। কোমলমতি শিশুরা আগ্রহের সঙ্গে তার ক্লাস করতেন। গান, নাচ আর গজলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন। যার, কারণে তিনি অন্যন্য শিক্ষকদের তুলনায় ভিন্ন ছিলেন।’

এসব বিষয়ে কথা হয় স্কুল শিক্ষিকা ফহমিদা খাতুন বকুলের সাথে।

তিনি বলেন, ‘একসময় ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেচে, গান গেয়ে ও গজলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে পাঠদান করেছি। আমি অবসরে যাওয়ার পর সেই স্মৃতি এখনও মনে পড়ে। দু’টো চোখে ছানি পড়ায় প্রাণের স্কুলটা দেখতেও যেতে পারিনা। খুব কষ্ট হয়। এখন দ্রুত চোখের অপারেশন করাতে না পারলে আমি হয়তো চিরতরে অন্ধ হয়ে যাবো। তাইতো কেউ যদি আমার চোখের ছানি অপারেশন করে দিতো, তবে আমি আবার চোখে দেখতে পারতাম।’

এই স্কুল শিক্ষিকা বলেন, ‘আমার পুরো শরীরে নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। হয়তো যে কোনো সময় চলে যাব। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পেনশনে যাওয়ার পর কাগজ-কলমে ১৬ লাখ টাকা দেখানো হলেও আমাকে দিয়েছে মাত্র ৮ লাখ টাকা। আমার বাকি টাকা মেরে দিয়েছি। সেই টাকার হিসেব আজও পাইনি। আমি সরকারের কাছে পেনশনের বাকী ৮ লাখ টাকা চাই, যাতে চিকিৎসা করাতে পারি।’

ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, ‘বকুলের মতো স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এ বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমিও জড়িত। ৮০ ঘর গুচ্ছগ্রামের এলাকায় স্কুলটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বকুল আপা একজন জলি মাইন্ডের শিক্ষক। নাচ-গানসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীদের তিনি ক্লাসে আনন্দ দিতেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্কুল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল তার। তার ক্লাসের ধরণ দেখে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়তো।’

ফরিদপুর সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার পে স্কেলের কারণে কম পেনশন পেতে পারে। এ ছাড়া স্কুলটি বেসরকারি ছিল, পরে জাতীয়করণ হয়। এ জন্য তিনি কম পেয়েছেন কি-না সেটা যাচাই-বাছাই করে জানাতে পারবো।’

ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পেনশন নিয়ে ওই শিক্ষিকার কোনো জটিলতা রয়েছে কি-না বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।’

 

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।