খুঁজুন
, ,

মুদ্রাস্ফীতির জন্য কারা দায়ী

কাজী জীশান হাসান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
মুদ্রাস্ফীতির জন্য কারা দায়ী

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ভোক্তারা চরম মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছে। বিগত সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বারবার কথিত ‘সিন্ডিকেটকে’ দোষারোপ করেছেন মুরগি, ডিম এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বেশ কয়েকটি বড় পোলট্রি কোম্পানিকে জরিমানা করার নির্দেশ দেয়। যদিও হাইকোর্ট সেই আদেশ স্থগিত করেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু যে কোনো শিল্পে দাম বেঁধে দেওয়া হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। কারণ, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির অভাবে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম উচ্চ পর্যায়েই থেকে যায়।

এই সার্বিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ হয়নি। অথচ মূল্যস্ফীতি একটি সুপরিচিত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া, যার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। সেগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতির প্রথম কারণ হতে পারে ঘাটতি ৷ যখন কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে যায়, তখন ভোক্তারা সেটি পাওয়ার জন্য বেশি মূল্য দিতে বাধ্য হয়, ফলে বাজারমূল্য বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিবিদরা একে ‘সরবরাহজনিত ধাক্কা’ (supply shock) বলে থাকেন । ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য ও জ্বালানির রপ্তানি বাধ্যগ্রস্ত হয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে এই পণ্যগুলোর সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম বেড়ে যায়; যা পোলট্রি, মাছ ও গবাদি পশুর খাদ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে । তাই ২০২২ সালে পোলট্রি খাদ্যব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ সিন্ডিকেট নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সরবরাহসংকট । দ্বিতীয় কারণটি অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। যখন সরকার মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রা ছাপায়, তখন সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। অতিরিক্ত টাকা ছাপানো হলে টাকার মূল্য কমে যায় এবং পণ্যের মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণস্বরূপ, যদি বাজারে থাকা টাকার পরিমাণ হঠাৎ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে একটি ৮ টাকার ডিমের দাম ১২ টাকায় উঠে যেতে পারে। এটিকে বলা হয় monetary inflation বা মুদ্রাস্ফীতি, যা কোনো সিন্ডিকেটের কারণে হয় না, বরং এটি অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফল। সাধারণত, সরকার রাজস্ব আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় করলে এবং সেই ঘাটতি (যাকে বাজেট ঘাটতি বলা হয়) পুষিয়ে নিতে মাত্রাতিরিক্ত টাকা ছাপালে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ প্রকাশিত Monthly Economic Trends (অক্টোবর ২০২৪) থেকে জানা যায় যে, ২০২০ সালের জুন মাসে দেশে প্রচলিত মুদ্রার (Currency in Circulation) পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৪ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রচলিত মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকায়। মাত্র তিন বছরে বাজারে প্রচলিত মুদ্রার পরিমাণ ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ৮ টাকার ডিমের দাম ১২ টাকায় ওঠা স্বাভাবিক। একইভাবে চাল, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও এই সময়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থাৎ সার্বিক মূল্যস্ফীতির মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, যা সাধারণ জনগণকে গরিব
করেছে।

প্রশ্ন হলো- বিগত সরকার কেন অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিল? এর উত্তর খুবই স্পষ্ট। বিগত সরকারের সময় ব্যাংক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রক্ষার জন্য সরকার নির্বিচারে টাকা ছাপিয়েছে। যদি এটি না করা হতো, তাহলে এসব ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেত, যার ফলে লাখ লাখ পরিবার তাদের সঞ্চয় হারাত এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদে মন্দার কবলে পড়ত। যেসব রাজনীতিবিদ ব্যাংক খাতের এই দুরবস্থার জন্য দায়ী, তারা কখনোই স্বীকার করবেন না যে তারা অর্থনীতির এমন ক্ষতি করেছেন। বরং তারা মূল্যস্ফীতির জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ করার সহজ উপায় খুঁজেছেন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তারা পোলট্রি শিল্পকে সেই বলির পাঠা বানিয়েছে। ডিম ও ব্রয়লার মুরগি সাধারণ মানুষের প্রধান প্রাণিজ প্রোটিন, তাই এই খাতকে দোষারোপ করা সহজ হয়েছে। প্রতিযোগিতা কমিশনের কর্মকর্তারাও মন্ত্রীদের পথ অনুসরণ করেছেন। এর ফলে পোলট্রি খাতে একপ্রকার ‘ব্যবসায় বিরোধী’ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সংকট কীভাবে সমাধান করা হবে? অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুসারে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি করতে হয়, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে করেছে। তবে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার জন্য টাকা ছাপানোও বন্ধ করতে হবে৷ পোলট্রি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতা কমিশনের অন্যায্য মামলা প্রত্যাহার করা উচিত৷ একই সঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যসীমা বাড়ানো বা পুরোপুরি তুলে দেওয়া দরকার, যাতে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, এবং অর্থনীতির সরবরাহ ও চাহিদার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী দাম কমে আসবে৷ এটি যে কোনো সরকারি হস্তক্ষেপের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং টেকসই সমাধান হবে।

লেখক: পরিচালক, কাজী ফার্মস লিমিটেড

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।

ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি জেলা বিএনপির উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে অবস্থিত ‘শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সর্বপ্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকারীদের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বন বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নির্বাচন অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় যুব শক্তি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন দিলা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ পতন দিবস (৫ আগস্ট) উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের থানা রোড়ে (ফলপট্রি) এক বিশাল গন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের মো. বাপ্পি নামে এক সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা শারমীন আক্তার। ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার কোনো খোঁজ। শেষ আশ্রয় হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তানকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির মা।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় বুধবার (৫ আগস্ট) করা জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু মো. বাপ্পির (৩) গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সিংহ প্রতাপ গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর (কি পাইলাম মোড়) এলাকায় বসবাস করছিল সে।

শিশুটির মা শারমীন আক্তার বনানী জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে তার একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিডিতে শিশুটির শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখম-ল গোলাকার, মাথার চুল কালো ও ছোট এবং উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট ও বেগুনি রঙের হাফহাতা গেঞ্জি। বয়স কম হওয়ায় সে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় বলতে পারে না শিশুটি।

মা শারমীন আক্তার বনানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় খুঁজেছি। এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দয়া করে আমাকে (মোবাইল নম্বর ০১৭২৭-৪৬৬৩৫৪) বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন।”

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।