খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

রোজ এক গ্লাস কমলার রস খাওয়ার যত উপকারিতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
রোজ এক গ্লাস কমলার রস খাওয়ার যত উপকারিতা

সকালের নাশতায় কি আপনার কমলার রস পছন্দ? অনেকেরই এই অভ্যাস আছে, তবে বছরের কিছু সময় ধরে কমলার রসকে ‘মিষ্টি’ বলে সতর্ক করা হয়। আসলে কমলার রসে থাকা চিনি দ্রুত রক্তে যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এটাই সাধারণ ধারণা।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, যদিও এতে চিনি থাকে, সাপ্তাহিক বা দৈনন্দিন একটি গ্লাস কমলার রস শরীরের জন্য অনেক উপকারী হতে পারে।

কমলার রস নিয়ে ভুল ধারণা
গবেষকরা লক্ষ করেছেন, যারা প্রচুর সাইট্রাস ফল খায়, তারা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে কম থাকে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো ফল খাওয়ার ওপর ভিত্তি করে করা, রস খাওয়ার নয়।

ফল খাওয়া এবং রস খাওয়ার প্রভাব আলাদা। যেমন, দু-তিনটি কমলা খেতে সময় লাগে—চিবানো, গিলে ফেলা; কিন্তু সেই একই পরিমাণ কমলার রস মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায়। ফলে রসের চিনি দ্রুত রক্তে চলে যায়, যেখানে পুরো কমলা খেলে চিনি ধীরে ধীরে শোষিত হয়।

ফলে, স্বাভাবিকভাবে সুস্থ মানুষের জন্য এটি বড় সমস্যা নয়, কারণ শরীর ইনসুলিন ছাড়ে এবং রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য হয়তো বেশি উপকারী নাও হতে পারে।

হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্কের জন্য উপকারিতা
একটি গবেষণা দেখিয়েছে, প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার কমলার রস পান করলে রক্তের শর্করার মাত্রা কমে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ কমে—সবই হৃদরোগ কমানোর জন্য সহায়ক।

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন একটি গ্লাস কমলার রস পান করলে রক্তচাপ কমে এবং ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বেড়ে।

কমলার রস শুধু হৃদরোগের জন্য নয়, মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। এক গবেষণায় ৩০-৪৫ বছরের ২৪ জন পুরুষকে ২৪০ মিলিলিটার কমলার রস খাওয়ানো হয়। পরীক্ষার ফল দেখিয়েছে, কমলার রস খাওয়ার পর তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার পর হ্রাস পেয়েছিল।

বয়স্কদের ক্ষেত্রেও কমলার রস মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। ৬০-৮১ বছর বয়সী ৩৭ জনের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই গ্লাস কমলার রস খাওয়ার পর তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কমলার রসের পুষ্টিগুণ
কমলায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং ত্বকের কলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ফোলেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি১ রয়েছে।

কমলার রসের স্বাস্থ্যগুণের পিছনে মূলত ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো রক্তের প্রবাহ ভালো রাখে, প্রদাহ কমায় এবং কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে কমলায় থাকা হেসপেরিডিন নামক ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক যারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার কমলার রস পান করেছিল, তাদের রক্তের জিনগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে, যা প্রদাহ এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।

কোন কমলার রস স্বাস্থ্যকর?
পুরো কমলা খাওয়া সর্বোত্তম। এতে ফাইবার এবং ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা রসের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে রসই যদি পান করতে হয়, তাহলে তাজা কমলার রস, যা নিজে বা রেস্টুরেন্টে তৈরি, বেশি উপকারী। দোকানে পাওয়া শিল্পজাত রসের তুলনায় তাজা রসের পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।

ডাক্তাররা বলছেন, ১০০% কমলার রস (যেখানে অতিরিক্ত চিনি যোগ নেই) সপ্তাহে তিন-চারবার খাওয়া স্বাভাবিক মানুষের জন্য নিরাপদ।

এক গ্লাস কমলার রস শুধু স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্যেও চমকপ্রদ প্রভাব ফেলে। এটি হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, রক্তচাপ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও পুরো কমলা সবচেয়ে ভালো, তাজা কমলার রসও নিয়মিত এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে আপনাকে সুস্থ রাখবে এবং সকালের নাশতায় আনন্দ যোগ করবে।

সূত্র : বিবিসি

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।