খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শীতের আগমনী বার্তায়ও ফরিদপুরে কমছে না সবজির বাজার

মফিজুর রহমান শিপন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২২ পিএম
শীতের আগমনী বার্তায়ও ফরিদপুরে কমছে না সবজির বাজার

শীতের আগমনী বার্তার সাথে নেই সবজির বাজার দর কমার খবর। এখনো চড়া বেশিরভাগ সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানেও বাজারে দামের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে ফরিদপুর শহরের সবজির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজার। প্রতিদিন ভোরে এই বাজারে বিভিন্ন প্রকারের সবজি নিয়ে আসে বিক্রেতারা। বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা মধ্যেই।

ফরিদপুরের স্থানীয় চাহিদা পূরনে বেশিরভাগ সবজি আসছে যশোর, মাগুরা অঞ্চল থেকে।

শুক্রবার সকালের হাজী শরিয়াতুল্লাহ পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়, পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১৫-২০ টাকা, প্রকারভেদে বিভিন্ন কচুমুখি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়াও আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে স্থানীয় টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানিকৃত টমেটো ১০০ টাকা, সিম ১৪০ টাকা, ফুলকপি ৯০-১০০ ও ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ২’শ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারে এখনো রয়েছে কাঁচামরিচ অতিরিক্ত ঝাঁজ।

গত সপ্তাহে বাজারে খুচরা ৩০০ টাকার উপরে কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা কমেছে। বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে ।

বিক্রেতারা বলছেন, ধারাবাহিক বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত ক্ষতির মুখে রয়েছে যে কারণে বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে কমে আসবে দাম বলেও জানান তারা।

এ বাজারের সবজি কিনতে আসা রেজাউল কমির বিপুল জানান, এখনো শাকসবজির চড়া দাম। শীতকালিন সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ আসতে মনে হয় আরো সময় লাগবে। তিনি বললেই, এক মুঠা লাল শাক ২০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে, একটি লাউ মাঝারি আকারের কিনতে হয়েছে ৬০ টাকা দিয়ে।

রিক্সসা চালক হাবিব মোল্লা কাঁচা তরকারি কিনে ফেরার পথে জানালেন, বাজার দর এ সময়ে যদি এমন হয় তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো কি ভাবে চলবে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালীন আগাম সবজি সিম টমেটোসহ অনান্যে সবজি আছে সবগুলোর অনেক চড়া দর।

স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, বাজারে যে সকল নতুন সবজি উঠছে তা ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে আমাদের। এখনো কাঁচা মরিচের দাম কমে নাই। যদি দাম কমে তাহলে আমরা সামান্য হলেও কিনতে পারবো এবং সুস্থভাবে চলতে পারবো।

স্থানীয় আরেক ক্রেতা মফিজুর রহমান শিপন জানান, বাজারে শীতকালীন আগাম সবজিগুলো আসছে কিন্তু চাহিদা বেশি দামও অনেক বেশি। এখন তুলনামূলক মানুষের যেখানে এক কেজির প্রয়োজন সেখানে হাফ কেজি বা তারও কম নিয়ে চলছে। যেহেতু উৎপাদন কম যার কারণে দাম বেশি। এর ফলে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়াটা অনেক কষ্টের ব্যাপার।

সবজি বিক্রেতা আবু জাফর শেখ জানান, এখন সবজির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। যদিও শীতকালীন নতুন সবজিগুলো দাম একটু বেশি। এছাড়া বাজারের সরবরাহ যেমন দর-দামও ঠিক তেমন, সরবরাহ না বাড়লে দামের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান বলেন, গত দুই মাসে বেশ কয়েক বার ধারবাহিক বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে যে কারণে এখন বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। আমরা তার পরেও চাষীদের সব সময় সরকারি সহায়তা দিয়ে জাগিয়ে তুলে রাখছি, যাতে হতাশ না হয়ে আবার ক্ষেতে ফিরে আবাদে মনোযোগ দিতে পারে ।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন