খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, ‘যদি তাদের অপরাধের বিচার না করা হয়, তাহলে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমা করবে না।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের (ডব্লিউজিএস) এক ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা তাকে (হাসিনা) বিচারের আওতায় আনবো। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আইনের মুখোমুখি করা হবে।’

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশ থেকে পালিয়ে যান। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান হয়। এরপর গতবছর ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ ও শেখ হাসিনার দলের লোকজন প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করে এবং আহত হয় ১১ হাজার। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতকে নোটিশ :

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকার ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার বিপুল পরিমাণ প্রমাণ আছে। যার মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টও অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘ এটিকে নথিভুক্ত করেছে এবং আমাদের কাছে শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের অপরাধের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আশা করছি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ছাত্র আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন :

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুক্তি ও আমিরাতের সাথে সম্পর্ক :

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

 

আন্দোলনের সময় আমিরাতে ৫৩ জন বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের কাছে অনুরোধ জানালে পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকাকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমিরাতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। যখন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলাম, তখন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করি। আমি তাকে ব্যাখ্যা করি যে, তারা শুধু বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ করেছি যে, তিনি যেন তাদের ক্ষমা করে মুক্তি দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা করায় আমি অত্যন্ত খুশি হই। এটি একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ সেটি উদযাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেছেন,  ‘আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, কারণ সেখানে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু :

বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ দৃষ্টি এখন সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি।

এই লক্ষ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চুরি ও পাচার হওয়া সরকারি তহবিল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ যেন প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাবান হন।

জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি :

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতিকে সচল করা। আমরা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনা করছি—কোন সংস্কার এখন বাস্তবায়ন করা হবে, কোনটি ভবিষ্যতে হবে এবং কোন সংস্কার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করতে চান না।’

তিনি বলেছেন, ‘এটাই আমাদের সরকারের কাজের সীমা। এরপর আমরা ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করবো। জনগণ এটিকে উদযাপন করবে এবং আমাদের কাজ শেষ হবে।’

দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমাদের ঐকমত্য কমিশন একটি জাতীয় রূপরেখা প্রস্তুত করছে। বলা যায় আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এগুচ্ছে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার কাজ শেষ হলে, আমি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।’

সূত্র : বাসস

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।