খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় ফরিদপুরের সালথায় আনন্দ মিছিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় ফরিদপুরের সালথায় আনন্দ মিছিল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণার পর ফরিদপুরের সালথায় আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চন্ডিবর্দী হাইওয়ে সড়কে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, মনিরুজ্জামান হুমায়ুন খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, বল্লভদি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মাষ্টার, যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আউয়াল মুন্সী, ফারুক হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, এনায়েত হোসেন, শাফিকুল ইসলাম, মিরান হোসেন, মামুন চৌধুরী, উপজেলা সেচ্চাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ইসরাইল মাতুব্বর, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি কালাম বিশ্বাস, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ উপজেলা শাখার সভাপতি ইয়াছিন বিশ্বাস প্রমূখ।

এর আগে নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের ডাকা শাটডাউন প্রতিবাদে সকাল থেকে চন্ডিবর্দী সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন।

সমাবেশ ও আনন্দ মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় বক্তারা বর্তমান সরকার অবিলম্বে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে এনে এ রায়কে দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানান।

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফরিদপুরে এক লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে রমা বিশ্বাস (২৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী মনোজিত সরকারকে (৪৩) আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

জরিমানার এই সম্পূর্ণ টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনোজিত সরকার আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তার নামে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার এজাহারভুক্ত অন্য ছয় আসামিকে, যারা প্রত্যেকেই মনোজিতের নিকটাত্মীয়, তাদেরকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেন। তারা হলেন, বিপুল সরকার (৫৩), সরজিৎ সরকার (৪৬), লিটন সরকার (৩৬), বিপ্লব সরকার (৩৩), সবুজ সরকার (৩০) ও দীপালী সরকার (৪৮)।

মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী জেলার মধুখালী উপজেলার জারজাননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। এই দম্পতির নয় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে রমার বিয়ের সময় চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি সোনা এবং ৫০ হাজার টাকার ফার্নিচার যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয় মনোজিতকে। এরপর ধাপে ধাপে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত নগদ আরও এক লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে তাকে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে মনোজিত। এই টাকা দিতে না পারায় ২০ এপ্রিল বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্ত্রীকে হত্যা করে মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন মনোজিত। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছে।

পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় রমাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতান্ত্রিক প্রতিবেদন আসার পর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত ও তার ৬ জন আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করে তার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মধুখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন জামান আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলাটি তদন্ত করেন মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল করিম। তিনি মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর মনোজিত সরকার ও তার ৬ জন আত্মীয়কে অভিযুক্ত করে মোট ৭ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে, এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।

ফরিদপুর রেলস্টেশনের সেই হাজেরা বিবির পঁচে যাচ্ছে পা, মাছি ভনভন করছে পচা ঘায়ে!

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর রেলস্টেশনের সেই হাজেরা বিবির পঁচে যাচ্ছে পা, মাছি ভনভন করছে পচা ঘায়ে!

ফরিদপুর রেলস্টেশন। প্রতিদিন এখানে শত শত মানুষ আসে, ট্রেনে ওঠে, আবার চলে যায়। ব্যস্ততার সেই ভিড়ে একটি মুখ যেন সবার অগোচরেই থেকে যায়। ছোট ছোট পায়ে কুঁজো হয়ে হাঁটা সেই বৃদ্ধা—হাজেরা বিবি। অনেকেই তাকে চেনেন, কেউ কয়েন দেন, কেউ একবেলা খাবার দেন, আবার অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে যান। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, এই স্টেশনই এখন তার ঘর, তার আশ্রয়, তার পৃথিবী।

বয়স ষাট পেরিয়েছে অনেক আগেই। মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই। পরিবার আছে কি নেই, সেই প্রশ্নের উত্তরও যেন সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। দিনের আলো ফুটলে মানুষের কাছে হাত পাতেন, আর রাত নামলে স্টেশনের কোনো এক কোণে শুয়ে পড়েন। এভাবেই কেটে গেছে তার জীবনের কয়েকটি বছর।

সোমবার সকাল। সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। স্টেশনের গোলচত্বরে বসে আছেন হাজেরা বিবি। অন্য দিনের মতো মানুষের দিকে তাকিয়ে নেই তিনি। মুখটা মলিন, চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত। কাছে গিয়ে শুধু জিজ্ঞেস করা হলো, “কেমন আছেন?”

এই একটি প্রশ্ন যেন তার বুকের জমে থাকা সব কষ্ট ভেঙে দিল। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি।

কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, “বাবা, কয়দিন হলো ডান পায়ের গোড়ালিতে বড় ঘা হয়েছে। এখন পা পচে যাচ্ছে। ফুসকুড়ি, পুঁজ, মাছি পড়ে। টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখি, তবুও রক্ষা হয় না। ব্যথায় দাঁড়াতে পারি না। মানুষের কাছে হাত পাততেও যেতে পারি না। বৃষ্টি এলেও নড়তে পারি না। মনে হয় পা-টা বুঝি খসে পড়বে। এই পা দিয়ে আর কোনোদিন হাঁটতে পারব না বাবা…।”

কথাগুলো বলতে বলতে আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একজন অসহায় মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা শুধু ক্ষুধা নয়, অসুস্থ হয়েও চিকিৎসা না পাওয়া। হাজেরা বিবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। হয়তো সময়মতো চিকিৎসা পেলে আজ তার পা এতটা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছাত না। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, হাসপাতালে যাওয়ার মতো মানুষও নেই পাশে। তাই প্রতিদিন ঘা আরও বড় হচ্ছে, সংক্রমণ বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে হয়তো একদিন তার পা কেটে ফেলতে হতে পারে।

তার কাঁপা হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়া হলো। কিন্তু সেই সামান্য অর্থ দিয়ে কি একটি মানুষের চিকিৎসা সম্ভব? কয়েকটি ওষুধ কেনা যেতে পারে, কিন্তু একটি জীবন কি এভাবে বাঁচানো যায়?

হাজেরা বিবির মতো মানুষ আমাদের সমাজে খুব বেশি নেই, কিন্তু একেবারেই নেই তাও নয়। তারা আমাদের চোখের সামনেই বেঁচে থাকেন, অথচ অদৃশ্য হয়ে যান আমাদের ব্যস্ততার ভিড়ে। আমরা হয়তো প্রতিদিন তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কিন্তু তাদের কষ্টের গভীরতা অনুভব করার সময় হয় না।

আজ হাজেরা বিবির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন চিকিৎসক, একটি হাসপাতালের শয্যা, কিছু ওষুধ এবং কয়েকটি সহানুভূতির হাত। হয়তো কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি, কোনো সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে আবারও চিকিৎসা পেতে পারেন তিনি। হয়তো আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে সব সময় লাখ লাখ টাকা লাগে না। অনেক সময় লাগে শুধু একটু মানবতা, একটু দায়িত্ববোধ এবং পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক ইচ্ছা।

হাজেরা বিবি আজ কারও কাছে ভিক্ষা নয়, বেঁচে থাকার সুযোগ চাইছেন। তার চোখের জল যেন আমাদের বিবেককে একবার হলেও প্রশ্ন করে—একজন অসহায় বৃদ্ধা কি চিকিৎসার অভাবে এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাবেন, নাকি আমরা সবাই মিলে তার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাব?

ফরিদপুরে গুনে গুনে ঘুষ নেওয়া সেই ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

মেহেদী সোহেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে গুনে গুনে ঘুষ নেওয়া সেই ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে গুনে গুনে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

রবিবার (২৬ জুলাই) জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি রাত ১১টার দিকে নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস।

জেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারায় বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে একই বিধিমালার ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।

এর আগে রবিবার বিকেলে ইমরান শেখের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজের কার্যালয়ে চেয়ারে বসে এক সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গুনে গুনে রাখছেন। ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিওতে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “উনিও চল্লিশতম বিসিএস, আমিও চল্লিশতম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান শেখ দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা টাকা ঘুষের নয়, বরং ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার সময় ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “অনেকেই আমার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত দেন। এটি তেমনই একটি ঘটনা।”

তবে কার কাছ থেকে তিনি ওই টাকা নিয়েছেন, সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, এর আগেও দাপ্তরিক অনুপস্থিতির কারণে ইমরান শেখকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।