সালথায় দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপির কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণীত একটি সময়োপযোগী, বাস্তবধর্মী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই বাজেট কোনো অবাস্তব বা উচ্চাভিলাষী বাজেট নয়। বরং দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে একটি সুষম ও দায়িত্বশীল বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। বর্তমান বাজেটে জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী।”
মাওলানা করিম ইবনে মছব্বির মদ, তামাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তামাক ও মাদকদ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবার এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে। এর ফলে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় হ্রাস পাবে। একটি সুস্থ, সচেতন ও নৈতিক সমাজ গঠনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। বাজেটে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় সরকার প্রশংসার দাবিদার।”
মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির আশা প্রকাশ করেন যে, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।
পরিশেষে তিনি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এই যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থ উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে মো. মিলন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কথিত ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি’ মন্তব্যটি উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও আব্দুল জলিল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। মিলন এনসিপির আলফাডাঙ্গা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে ভূমি অফিসের বিভিন্ন সেবা, নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এসব কাজে তিনি নিয়মিত উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে একই কার্যক্রম চালিয়ে যান।
অভিযানের সময় মিলন অভিযোগ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্যের তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে বলেন, ‘মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন।’ কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’ এ মন্তব্যের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে নিয়মিত দালালির কার্যক্রমের একাধিক তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তাকে অনেকবার সতর্ক করেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্যের তালিকাও ছিল না। ভোক্তাধিকার আইন অনুযায়ী তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আপনাকে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ফোন করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এনসিপির আলফাডাঙ্গা উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের ব্যাপারে ফোন দিয়েছিলেন। বিচারিক কার্যক্রমে কোনো সুপারিশ বা তদবিরের সুযোগ নেই।
তবে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। মিলন নামে এনসিপির কোনো সদস্য আমার কমিটিতে আছে কি না, সেটাও আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাব। তবে এসিল্যান্ড স্যারকে আমি ফোন করিনি।
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের নীতিমালার পরিপন্থী। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারও করা হবে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮২৫ পিস ইয়াবাসহ সোহেল শেখ (৩১) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (০১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জুঙ্গুরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে নগরকান্দা থানা পুলিশ। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন সোহেল শেখকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৮২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক সোহেল শেখ উপজেলার ছাগলদী গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত রসমত শেখের ছেলে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৮২৫ পিস ইয়াবাসহ সোহেল শেখ নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নগরকান্দা থানা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
Array