খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

হত্যাকাণ্ড ঢাকায় : ফরিদপুরের ব্যবসায়ীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
হত্যাকাণ্ড ঢাকায় : ফরিদপুরের ব্যবসায়ীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা
ফরিদপুরের সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকার বিশ্বজিৎ ঘোষ দিপু(৫৮) একজন পাট ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় বহুল পরিচিত। রাজনীতিক কোন দলের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা কোন সময়ই ছিল না। সারাজীবন তার ব্যবসা ছিল পাট এবং ভূসি মালের। গত ৫ আগস্ট ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফরিদপুর সদর উপজেলার মো. সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারী (২৯)। এই হত্যার ঘটনায় গত ২৯ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
এরপর এক অজানা কারণে এই মামলা কাউকে গ্রেপ্তার শুরু না হলেও হঠাৎ করেই তরিঘরি করে সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখে তার পাটের ব্যবসার দোকান খলিলপুর বাজার থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরপর র‍্যাব তাকে আটক করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে না রাখতে চাইলে তাকে দ্রুত ঢাকার বাড্ডা থানায় পাঠিয়ে দেয় র‍্যাব। সেখানে যাওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। কোনদিন হাজত, জেলখানা চোখে না দেখলেও তার জেল জীবন শুরু হয়। এলাকার মানুষের শত্রুতায় সেই জিনিসটিই তাকে বেছে নিতে হয়। কয়েক মাস জেল খাটাকালীন সময়ে এই কষ্ট সহ্য না করতে পেরে গত ৪ ডিসেম্বর তিনি হার্ট স্টোক করেন। জেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে জানায় হার্ট স্টোক করেছে। জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয় তার। একই সঙ্গে অন্যান্য অসুখও তার সঙ্গে বাসা বাধে। পরে তাকে দ্রুত গত মাসের ১২ জানুয়ারি মেডিকেল ভিসা করে ভারতের কলকাতার টাটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চলছিল তার। চিকিৎসা কালীন অবস্থায় শুক্রবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সাথে তার স্ত্রী করুণা ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। নিহত দিপু ঘোষের ছোট্ট একটি ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।‌
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভারতে একটি হাসপাতালে শুক্রবার সকালের দিকে তার অবস্থা অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে সিসিইউ তে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। এই মুহূর্তে তার পাশে তার স্ত্রী করুণা ঘোষ রয়েছে। তিনি সেখান থেকে চেষ্টা করছেন দ্রুত তার লাশ দেশের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য। লাশ আসার পরে তাদের পারিবারিক শ্মশানের তাকে দাহ করা হবে।
যে মিথ্যা মামলাটি দেয়া হয় সেই মামলায় তার সাথে তার ছোট তিন ভাইকেও আসামি করা হয়। একই পরিবারের চার ভাই এই মামলার আসামি। অন্য তিন ভাই বাড়িঘর ছাড়া বিগত কয়েক মাস। এদের মধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া গোপনে করলেও তেমনভাবে তারা আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না। যারা তাকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তারা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে তাদেরকে আরো হয়রানি ও মামলায় দেয়া হবে বলে প্রতিটি মুহূর্তে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছিল এই সংখ্যালঘু পরিবারকে।
পারিবারিক যত ব্যবসা, জমিজমা যা কিছু ছিল কেউ দেখার নেই। এক বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়িটি। তাদের যে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল সেগুলো সব বন্ধ। ব্যবসা বাণিজ্য দেখার এখন আর কেউ নেই। পুরো পরিবার এখন এলাকা ছাড়া। তাদেরকে এখনো হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে আরো বিভিন্ন মামলায় ঝুলিয়ে দেয়ার।
আর এই ভয়ের কারণেই তারা এখন এলাকায় ফিরতে পারছেন না বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। দিপু ঘোষ এর একটি মেয়ে একটি ছেলে তাদেরও পড়াশোনা এখন বাদ রয়েছে। নিজের স্ত্রী ছোট ছেলে এবং মেয়েকে বাড়িতে একা রেখে চলে যায় স্বামীকে নিয়ে কলকাতায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি অসহায় অবস্থায় দিনপাত করছেন।‌
এ মামলার অপর আসামি তার মেজ ভাই চঞ্চল ঘোষ জানান, আমরা কখনো কোন রাজনীতি করিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করি। নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য করে নিজেদের মতন চলার চেষ্টা করি। এলাকার বহুৎ মানুষকে আমরা এই ব্যবসা বাণিজ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি সবসময়। কিছু লোকজনের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ ছিল। তারা বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা চাইতো। আমরা না দেয়ার কারণে বিরোধ তৈরি হয়। আর এ কারণে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় আমাদের পরিবারের চারটি ভাইকেই আসামি করা হয়। এরপর বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি শুরু হয়। মামলা করার পরে বাড়ি ছাড়ার জন্য। যখন আমরা বাড়ি ছাড়ছিলাম না তখন আমার বড় ভাই দিপু ঘোষকে হঠাৎই র‍্যাব দিয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তখন এই মামলা আটকের কোন সিদ্ধান্ত ছিল না কারো কাছেই। এরপর থেকেই আমরা সবাই এলাকা ছাড়া হয়ে যায়। গত কয়েক মাস যাবত আমরা এলাকা ছাড়া। এর ভিতর আবার আমার ভাই ভারতে মারা গেল। আমাদের পুরো ব্যবসা-বাণিজ্য বলতে কিছুই করতে পারছি ঠিক মতো। না খেয়ে চলার মতন অবস্থা আমাদের তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। পালিয়ে থাকার মতন যে টাকা পয়সা সে টাকা-পয়সাও এখন আর আমাদের হাতে নেই। চলার পথ অনেক ছোট হয়ে এসেছে। আমার ভাই বড় ভাই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর জেলখানায় স্টোক করে। স্টোক করা কালীন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরে হাইকোর্ট থেকে তার জামিন মঞ্জুর হয়। এরপর তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার ১২ই জানুয়ারি ভারতের টাটা হাসপাতালে সে মৃত্যুবরণ করে।
এভাবে মিথ্যা হত্যা মামলাটিতে ফরিদপুরের ৫৯ জন ধনীক শ্রেণীর ব্যক্তিদেরকে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ফরিদপুরের হিন্দু ব্যবসায়ীরা রয়েছে ১৫ জন। তাদের অনেকেই এখন পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
ফরিদপুরের ব্যবসায়ী রাম দত্ত জানান, আমি ঘটনার দিন দোকানে ছিলাম। গন্ডগোলের অবস্থা দেখে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এই মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। আমাদের ফোন চেক করে ট্যাকিং করলে সব বেরিয়ে আসবে।
এই মামলার অপর আসামি বিধান সাহা জানান, আমি ঘটনার দিন বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। এই মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পর অনেকদিন পলাতক ছিলাম দেশে। পরে দেশ ছেড়ে পরিবার পরিজন ফেলে বিদেশে চলে এসেছি।
এই হত্যা মামলায় ফরিদপুরের ৫৯ জনকে আসামি করা নিয়ে দেশের জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নিহতের বাবা শফিকুল জানিয়েছেন লাবলু তাঁর পরিচিত কেউ নয়। তাঁর সঙ্গে কথা না বলেই তিনি বাড্ডা থানায় মামলা করেছেন। তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য শফিকুল গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই আমার অত্যন্ত পরিচিত এবং একই এলাকার। তারা নিরপরাধ এবং আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়। আমি ছেলের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করব। তিনি একটি মামলা দায়ের করে ওই মামলাটি প্রত্যাহার করে এলাকার নির্দোষ আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামায় বলেন, মামলার বাদী লাবলু তাঁর আত্মীয় অথবা পরিচিত নয়। লাবলু ফরিদপুরের অনেক নিরীহ লোকসহ ১১৫ জনকে আসামি করেছেন। লাবলু তাঁর ছেলের লাশ নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় গত ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফরিদপুর সদর উপজেলার মো. সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারী (২৯)। আসামিদের মধ্যে ফরিদপুরের সদর উপজেলার বাসিন্দাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে বেশি।
২৯ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে করা এ মামলার বাদী ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খলিশাডুবি গ্রামের হাসিবুল হাসান লাবলু।
মামলার নথিতে দেখা যায়, এতে নাম উল্লেখ করে ১২০ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ৩০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামি জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মৎস্যমন্ত্রী আবদুর রহমান ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
মামলায় বলা হয়, প্রথম এই সাত আসামির নির্দেশে ৮ থেকে ১২০ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার মিছিলে আক্রমণ করেন। তখন অজ্ঞাত আসামির ছোড়া গুলিতে সিরাজুল ইসলাম নিহত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের ঘটনা রাজধানী ঢাকার হলেও মামলায় নাম থাকা ১২০ জনের মধ্যে অর্ধেকই (৫৯ জন) ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার। তাঁদের কারও কারও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মামলার পরেই নথিপত্র পাঠিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন বাদী।
মো. সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর মৃত্যুর ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাঁর বাবা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জনতা বাড্ডা থানা আক্রমণ করলে পুলিশ গুলি করতে করতে থানা থেকে বের হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সিরাজুল। তার পকেট থেকে ফোন নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি পরিবারকে এ খবর দেয়।
এ ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম। এই মামলার যে বাদী হয়েছেন তিনি নিহতের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে করেছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, হাসিবুল হাসান লাভলু নামে কাউকে তিনি চেনেন না। তিনি বলেন আমরা শুনেছি তিনি মামলা দিয়ে অনেকের কাছে টাকা দাবি করছেন। আমি আমার ছেলের হত্যার ন্যায্য বিচার দাবি করছি। ‌ তবে আমার জেলার মানুষদের নিয়ে যে মামলা দেয়া হয়েছে এবং তাদের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে এটা মেনে নিতে আমার কষ্ট হচ্ছে। আমার ছেলের মৃত্যু নিয়ে কেউ অর্থনৈতিক খেলা খেলুক এটা আমি চাইনা। এটা সরকার অতি দ্রুত বন্ধ করবে এই দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, এই মামলাটি বাড্ডা থানায় হয়েছে। বাড্ডা থানায় ঘটনার তদন্ত করে দেখবে। আমরা শুধু এখানে মামলার আসামিদের নাম ঠিকানা সহ সবকিছু অনুসন্ধান করে তাদেরকে রিপোর্ট প্রদান করবো। এছাড়া আমাদের আসলে কোন কিছুই আমাদের হাতে নেই। তবে এই মামলার আটক সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কাছে আপাতত কোন তথ্য নেই।
এদিকে এই মামলা নিয়ে ফরিদপুরের রাজনৈতিক মহল সহ বিশিষ্ট জনেরা বলছেন, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করে এই মামলাটি করা হয়েছে। এইসব মামলায় এদেরকে আসামি করার কারণে মূল আসামিরা ঘটনার আড়ালেই থেকে যাবেন বলে তারা মনে করছেন। তাই সরকারের উচিত এইসব মামলা যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর ঘটনার প্রকৃত আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করে মামলা করা। নইলে নিরীহ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ ঘোষের মত ব্যক্তিদের মৃত্যুর লাইন আরো দীর্ঘ হতে পারে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।