খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

গুম ও আয়নাঘরের একাল সেকাল

এহ্সান মাহমুদ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩৫ এএম
গুম ও আয়নাঘরের একাল সেকাল

আমার জন্মের ১৫ মাস পরের এক সকালে আব্বু নিখোঁজ হয়েছিলেন। আম্মু আর ছোট মামা বরিশালের মুলাদী থানায় এই ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেটি না করতে পেরে ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমার স্কুলশিক্ষক বাবার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তখন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে; এমন সময়ে গ্রামের একজন স্কুলশিক্ষক গুম হয়ে গেলেন।

সেই ঘটনার তিন দশক পর বাংলাদেশ আবারও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা পেল। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শেখ হাসিনা। তারপরই উন্মোচিত হলো আয়নাঘর। আওয়ামী লীগ আমলে গুম হয়ে থাকা কেউ কেউ ফিরে এলেন। অনেকেই ফিরলেন না। যারা ফিরেছেন, তাদের বক্তব্য, পরিবারের সদস্যদের স্বজন ফিরে পাওয়া হাসিমুখের ছবি আমরা টেলিভিশনের পর্দায় ও খবরের কাগজে দেখেছি। বিপরীতে যাদের স্বজন ফিরে আসেনি, তাদের দীর্ঘশ্বাস কি আমরা টের পাচ্ছি? সম্ভবত পাচ্ছি না। যেমনটা পাইনি সাজেদুল ইসলাম সুমনের স্বজনের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস।

সাজেদুল ইসলাম সুমন ছিলেন ঢাকা মহানগরের এক ওয়ার্ড বিএনপির নেতা। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও পাঁচজন। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পরই খবর পায় পরিবার। এর পর আশপাশের থানা, ডিবি অফিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারা। কিন্তু কোনো খোঁজ মেলেনি।
সুমনের দুই মেয়ে। বাবা নিখোঁজের সময় ছোট মেয়ের বয়স ছিল ২ বছর। একজন নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে থানা-পুলিশে গিয়ে যে কাজের কাজ কিছু হয় না, তার প্রমাণ তো আমাদের পরিবার থেকেই পেয়েছিলাম। রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা যে বাহিনী বা সংস্থার, তার কাছেই উল্টো নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা বাধাগ্রস্ত হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিগত আমলে গড়ে ওঠা টর্চার সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সেই পরিদর্শন টিমে রাখা হয়নি সুমনের পরিবারের কাউকে। অথচ আমরা জানি, সুমনের বোনের প্রায় একক চেষ্টায় গড়ে উঠেছিল ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি, যেটি কাজ করে গুম হওয়া পরিবার নিয়ে।
৩০ বছর আগে মফস্বলের একটি থানা মুলাদী কিংবা বর্তমানের রাজধানী ঢাকার টর্চার সেলের সামনে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে। আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো বদল হয় না। তাহলে এত এত শহীদের জীবন, পঙ্গু মানুষের আর্তনাদ কি বৃথা?

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালায় বিনা বিচারে মানুষকে আটকে রাখা হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকে বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটটির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে কমিশন। তাদের ভাষ্য, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার ঢাকার তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন। এগুলো রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় অবস্থিত। বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের একটা নমুনা প্রতিষ্ঠা করে গেছে। আমাকে নতুন করে বলতে হবে না। বর্ণনা দিতে গেলে বলতে হয়– আয়নাঘরের ভেতরে খুবই বীভৎস দৃশ্য। এখানে মনুষ্যত্ববোধের কিছু নেই। যা হয়েছে তা নৃশংস’ (সমকাল, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)।

এ ধরনের নৃশংস ঘটনা থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি না? পরিতাপের বিষয়, সম্ভবত আমরা কেউই শিক্ষা নিতে আগ্রহী না। নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও তাই অধরা রয়ে যায়। এমনকি এই পরিবারগুলোর প্রতি ন্যূনতম যে মানবিক আচরণ করার কথা, সেটাও আমরা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছি।
গুমের শিকার হয়েছেন যারা, তাদের পরিবারগুলোর উদ্দেশে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ‘গুম’ বলতে এখন বোঝানো হয়– সরকারের কোনো বাহিনীর পক্ষ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া। বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের তুলে নেওয়া সাধারণত ‘অপহরণ’ আখ্যা পায়।

গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯২ সালে ৪৭/১৩৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছে, সরকারের কোনো পর্যায় বা কোনো শাখার কর্মকর্তা অথবা সরকারের পক্ষে কিংবা তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন অথবা সম্মতি নিয়ে কোনো বেসরকারি সংগঠিত গোষ্ঠী কাউকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করলে এবং তাঁকে আইনের পরিধির বাইরে রেখে দিয়ে তাঁর অবস্থান জানাতে অস্বীকার করাই হচ্ছে গুম।

কেউ মারা গেলে অথবা কাউকে হত্যা করা হলে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। স্বজনদেরও ধীরে ধীরে কষ্ট কমতে থাকে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা সম্পদের উত্তরাধিকার লাভ করেন। কিন্তু গুমের শিকার হলে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন– শুধু এই তথ্যটুকু না পাওয়া প্রতিমুহূর্তে তাদের যন্ত্রণায় বিদ্ধ করতে থাকে। গুমের ঘটনা খুনের চেয়েও খারাপ অপরাধ। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের গত বছরের আগস্টের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সাতশর বেশি মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

৫ আগস্টের পরে ‘নতুন বাংলাদেশ’ কথাটি বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। আমরা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চাই, এটা সত্যি। তার আগে নিশ্চিত করা দরকার, ইতোমধ্যে ঘটা ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পরিচালিত ফেসবুক পেজে আয়নাঘরের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আয়নাঘরে বন্দিদের কাহিনি এখন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে। দেখা গেল একাধিক বন্দির সাক্ষাৎকার। তিক্ত, ভয়ানক ও রোমহর্ষক ঘটনার যে বিবরণ তাতে উঠে এসেছে এবং এসব বর্ণনাকালে একেকজন বন্দির চোখেমুখে যে আতঙ্ক প্রকাশমান, তা মর্মন্তুদ। ‘নতুন বাংলাদেশে’ আমরা এমন মর্মন্তুদ ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। একই সঙ্গে আগের ঘটনার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এই বার্তা দিতে হবে– মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না। বিচার নিশ্চিত হলেই ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সহজ হবে। ভবিষ্যতের সহজ কাজটির জন্য এখন দরকার একটি যথাযথ আইনি ও বিচার প্রক্রিয়া। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি এই আস্থাটুকু রাখতে চাই।

এহ্‌সান মাহমুদ: সহকারী সম্পাদক, সমকাল; কথাসাহিত্যিক

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর