খুঁজুন
, ,

গুম ও আয়নাঘরের একাল সেকাল

এহ্সান মাহমুদ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গুম ও আয়নাঘরের একাল সেকাল

আমার জন্মের ১৫ মাস পরের এক সকালে আব্বু নিখোঁজ হয়েছিলেন। আম্মু আর ছোট মামা বরিশালের মুলাদী থানায় এই ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেটি না করতে পেরে ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমার স্কুলশিক্ষক বাবার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তখন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে; এমন সময়ে গ্রামের একজন স্কুলশিক্ষক গুম হয়ে গেলেন।

সেই ঘটনার তিন দশক পর বাংলাদেশ আবারও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা পেল। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শেখ হাসিনা। তারপরই উন্মোচিত হলো আয়নাঘর। আওয়ামী লীগ আমলে গুম হয়ে থাকা কেউ কেউ ফিরে এলেন। অনেকেই ফিরলেন না। যারা ফিরেছেন, তাদের বক্তব্য, পরিবারের সদস্যদের স্বজন ফিরে পাওয়া হাসিমুখের ছবি আমরা টেলিভিশনের পর্দায় ও খবরের কাগজে দেখেছি। বিপরীতে যাদের স্বজন ফিরে আসেনি, তাদের দীর্ঘশ্বাস কি আমরা টের পাচ্ছি? সম্ভবত পাচ্ছি না। যেমনটা পাইনি সাজেদুল ইসলাম সুমনের স্বজনের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস।

সাজেদুল ইসলাম সুমন ছিলেন ঢাকা মহানগরের এক ওয়ার্ড বিএনপির নেতা। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও পাঁচজন। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পরই খবর পায় পরিবার। এর পর আশপাশের থানা, ডিবি অফিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারা। কিন্তু কোনো খোঁজ মেলেনি।
সুমনের দুই মেয়ে। বাবা নিখোঁজের সময় ছোট মেয়ের বয়স ছিল ২ বছর। একজন নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে থানা-পুলিশে গিয়ে যে কাজের কাজ কিছু হয় না, তার প্রমাণ তো আমাদের পরিবার থেকেই পেয়েছিলাম। রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা যে বাহিনী বা সংস্থার, তার কাছেই উল্টো নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা বাধাগ্রস্ত হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিগত আমলে গড়ে ওঠা টর্চার সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সেই পরিদর্শন টিমে রাখা হয়নি সুমনের পরিবারের কাউকে। অথচ আমরা জানি, সুমনের বোনের প্রায় একক চেষ্টায় গড়ে উঠেছিল ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি, যেটি কাজ করে গুম হওয়া পরিবার নিয়ে।
৩০ বছর আগে মফস্বলের একটি থানা মুলাদী কিংবা বর্তমানের রাজধানী ঢাকার টর্চার সেলের সামনে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে। আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো বদল হয় না। তাহলে এত এত শহীদের জীবন, পঙ্গু মানুষের আর্তনাদ কি বৃথা?

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালায় বিনা বিচারে মানুষকে আটকে রাখা হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকে বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটটির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে কমিশন। তাদের ভাষ্য, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার ঢাকার তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন। এগুলো রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় অবস্থিত। বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের একটা নমুনা প্রতিষ্ঠা করে গেছে। আমাকে নতুন করে বলতে হবে না। বর্ণনা দিতে গেলে বলতে হয়– আয়নাঘরের ভেতরে খুবই বীভৎস দৃশ্য। এখানে মনুষ্যত্ববোধের কিছু নেই। যা হয়েছে তা নৃশংস’ (সমকাল, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)।

এ ধরনের নৃশংস ঘটনা থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি না? পরিতাপের বিষয়, সম্ভবত আমরা কেউই শিক্ষা নিতে আগ্রহী না। নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও তাই অধরা রয়ে যায়। এমনকি এই পরিবারগুলোর প্রতি ন্যূনতম যে মানবিক আচরণ করার কথা, সেটাও আমরা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছি।
গুমের শিকার হয়েছেন যারা, তাদের পরিবারগুলোর উদ্দেশে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ‘গুম’ বলতে এখন বোঝানো হয়– সরকারের কোনো বাহিনীর পক্ষ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া। বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের তুলে নেওয়া সাধারণত ‘অপহরণ’ আখ্যা পায়।

গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯২ সালে ৪৭/১৩৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছে, সরকারের কোনো পর্যায় বা কোনো শাখার কর্মকর্তা অথবা সরকারের পক্ষে কিংবা তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন অথবা সম্মতি নিয়ে কোনো বেসরকারি সংগঠিত গোষ্ঠী কাউকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করলে এবং তাঁকে আইনের পরিধির বাইরে রেখে দিয়ে তাঁর অবস্থান জানাতে অস্বীকার করাই হচ্ছে গুম।

কেউ মারা গেলে অথবা কাউকে হত্যা করা হলে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। স্বজনদেরও ধীরে ধীরে কষ্ট কমতে থাকে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা সম্পদের উত্তরাধিকার লাভ করেন। কিন্তু গুমের শিকার হলে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন– শুধু এই তথ্যটুকু না পাওয়া প্রতিমুহূর্তে তাদের যন্ত্রণায় বিদ্ধ করতে থাকে। গুমের ঘটনা খুনের চেয়েও খারাপ অপরাধ। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের গত বছরের আগস্টের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সাতশর বেশি মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

৫ আগস্টের পরে ‘নতুন বাংলাদেশ’ কথাটি বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। আমরা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চাই, এটা সত্যি। তার আগে নিশ্চিত করা দরকার, ইতোমধ্যে ঘটা ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পরিচালিত ফেসবুক পেজে আয়নাঘরের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আয়নাঘরে বন্দিদের কাহিনি এখন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে। দেখা গেল একাধিক বন্দির সাক্ষাৎকার। তিক্ত, ভয়ানক ও রোমহর্ষক ঘটনার যে বিবরণ তাতে উঠে এসেছে এবং এসব বর্ণনাকালে একেকজন বন্দির চোখেমুখে যে আতঙ্ক প্রকাশমান, তা মর্মন্তুদ। ‘নতুন বাংলাদেশে’ আমরা এমন মর্মন্তুদ ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। একই সঙ্গে আগের ঘটনার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এই বার্তা দিতে হবে– মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না। বিচার নিশ্চিত হলেই ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সহজ হবে। ভবিষ্যতের সহজ কাজটির জন্য এখন দরকার একটি যথাযথ আইনি ও বিচার প্রক্রিয়া। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি এই আস্থাটুকু রাখতে চাই।

এহ্‌সান মাহমুদ: সহকারী সম্পাদক, সমকাল; কথাসাহিত্যিক

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”