খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকট কি কৃত্রিম?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কি কৃত্রিম?

আব্দুল্লাহ রাফি। একজন মোটরসাইকেল রাইডার। গত সোমবার ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরেন। গতকাল মঙ্গলবার তার নিয়মিত পেশা মোটরসাইকেল রাইডিংয়ের জন্য সকাল ৮টায় শ্যামলীর বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৯টায় আসাদগেটে অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষারত এই রাইডারের সঙ্গে কথা হয়।

রাফি জানান, মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি তার তিনজনের সংসার চালান। গতকাল বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলে অল্প পরিমাণ তেল ছিল। সেটা দিয়ে আসাদগেট আসেন তেলের জন্য। এখানে আসার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে পাম্প থেকে বলা হয়, তেল নেই। দুপুর ২টার পর ডিপো থেকে তেল এলে দেওয়া হবে। রাফি জানান, ঈদের আগে থেকেই তেল নিতে পাম্পে পাম্পে ঘুরতে হয়েছে তাকে, এখনো হচ্ছে।

মোটরবাইক রাইডার রাফির সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন সোনার বাংলা পাম্পের সামনে শতাধিক মোটরসাইকেলকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একইভাবে ২০ থেকে ২৫টি প্রাইভেটকার, দুটি মিনি ট্রাক ও একটি বাস তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল।

আব্দুল্লাহ রাফি আরও বলেন, রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পেই তেল থাকে না। তেল সংগ্রহ করতেই পুরো দিন চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তেলের পয়সা তুলে সংসারের খরচের টাকা আয় করা অসম্ভব। সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আর পাম্পে এলে তেল পাই না।

শুধু সোনার বাংলা নয়, বিপরীত দিকে অবস্থিত বন্ধ থাকা তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনেও লম্বা লাইন। বিকেলের দিকে তেল আসবে তার জন্যই অপেক্ষায় অসংখ্য যানবাহন। কারণ লাইন ছেড়ে বেরিয়ে গেলে আর ঢুকতে পারবেন না। অন্য কোনো পাম্পেও তেল নেই। যে কারণে বাধ্য হয়েই পুরোদিন তেলের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিতে হচ্ছে তাদের।

তবে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা (প্যানিক বায়িং) এবং গুজবের কারণে পাম্পগুলোতে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরবরাহের প্রক্রিয়াটা ভেঙে গেছে। সরকারের এই কথার সঙ্গে একমত নন পেট্রোল পাম্পের মালিকরা। তাদের অভিযোগ, ডিপো থেকে চাহিদার বিপরীতে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিক্রির পর আর পাম্পে তেল থাকছে না। যে কারণে রাজধানীর প্রতিটি পাম্পেই জ্বালানি তেলের জন্য লম্বা লাইন লেগেই আছে।

কোনো কোনো পাম্পে তেলের ক্রেতারা উত্তেজিত হয়ে পড়ারও ঘটনা ঘটছে।

রাজধানীর তিনটি জ্বালানি তেলের পাম্প মালিকরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকার ভেতর একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ছাড়া আর সবাই কম তেল পাচ্ছে। ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার। আর সাড়ে ১৩ হাজার লিটারের গাড়িতে দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার। ডিপো থেকে কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এ প্রসঙ্গে উপমা দিয়ে বলেন, আমাদের ডিপোগুলো হচ্ছে ‘হরমুজ প্রণালি’। এগুলো পুরোদমে খুলে দিলেই তেলের সংকট থাকবে না। তিনি বলেন, মাঠের এই সংকট মূলত কৃত্রিম। কৃত্রিম এই সংকটের কারণে ডিপো থেকে তেল কম পাচ্ছি আমরা। একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন তাদের চাহিদার পুরোটাই ডিপো থেকে সরবরাহ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া অন্য পাম্পগুলোতে চাহিদার বিপরীতে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি সরবরাহের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার প্রশ্ন এই বাড়তি সরবরাহ কোথায় যাচ্ছে?

তেলের ক্রেতাদের বিষয়ে সাজ্জাদুল করিম বলেন, যারা আগে দু-তিন লিটার তেল নিতেন, এখন তারা পুরো ট্যাংকি ভরে তেল নিচ্ছেন। এটা বেশি হচ্ছে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে। একটি মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকি ধারণক্ষমতা নিম্ন ৯ লিটার থেকে সর্বোচ্চ ১২-১৩ লিটার। এই হিসাবে সর্বোচ্চ তিনগুণ বেশি তেল কিনছেন তারা। এই চাহিদাটা বেড়েছে ১০-১৫ দিন ধরে। সারা দেশে কোটি খানেক মোটরসাইকেল আছে। এখন হিসাব করেন, হুট করে কী পরিমাণ চাহিদা বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বাইরের তেলের পাম্পগুলোর অবস্থা আরও নাজুক বলে জানান সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি বলেন, ডিপো থেকে এখন যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা থেকে আসা গাড়ির খরচও ওঠে না। এ ছাড়া ডিপো থেকে তেল নিতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক এলাকায় পাম্পের মালিকরা পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো হলে আবার চালু করবেন তারা।

এদিকে চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আবারও চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকার ও অন্যান্য যানবাহনের তীব্র চাপ দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর গণিবেকারি এলাকায় কিউসি ফিলিং স্টেশন ও ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এসএইচ ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাইক ছাড়াও প্রাইভেট কার, সিএনজি ও ম্যাক্সিমা গাড়িকেও দীর্ঘ লাইনে তেল নিতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় অনেক চালক পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ সংকটের কারণে পরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের অচলাবস্থা। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই পড়েছে এর প্রভাব। নগরজীবনের ব্যস্ত ছন্দের মধ্যে এ জ্বালানি সংকট নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

‘অতিরিক্ত চাহিদায় সরবরাহের প্রক্রিয়াটা ভেঙে পড়েছে’: গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘একটা বিষয় বুঝতে হবে যে, হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পেট্রোল পাম্পে। একটা প্রসেসে পেট্রোল পাম্প চলে। আমরা যেভাবে তেল দিই, সেই নিয়মটা এখন ভেঙে পড়েছে। এত ভিড়, প্রতিদিন পেট্রোল পাম্পের যে তেল দেওয়া হয়, সেটাই থাকে। কিন্তু গ্রাহক তো বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে তেলে লাইন থাকবে।’

সরকার আবার রেশনিংয়ে যাবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন এটা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা মানুষকে বলেছি আপনারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিয়েন না। এতে আমরা সরবরাহ ঠিক রাখতে পারব না। তেল আছে, আপনারা তেল পাবেন।’

মানুষের অতিরিক্ত তেল মজুত রোধে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইল মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের যা যা দায়িত্ব পালন করা দরকার, সেটা আমরা পালন করব।’ দাম বাড়ানোর বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলছি, এখনো তো বাড়াইনি। দাম বাড়ানোর বিষয়টা তো মন্ত্রণালয় দেখে না, সেপারেট এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

তিনি আরও বলেন, ‘চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে যখন গ্যাপ তৈরি হয়, তখন হঠাৎ করে ডিমান্ড বেড়ে যায়। ডিমান্ড বেড়ে গেলে সেখানে তো একটু ক্রাইসিস হবে। সে ক্রাইসিসটা হচ্ছে। এটা তো সাধারণ জ্ঞান। তেলের অভাবে তো ঈদে কোনো গাড়ি বন্ধ ছিল না। ঈদে সবাই বাড়ি গেলো কোনো তো অসুবিধা হয়নি। তেল নিয়ে কোনো অসুবিধা হয়েছে? তাহলে আমার মনে হয়, এখনো কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে অকারণে মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলাপ চলছে—অর্থমন্ত্রী: গতকাল সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ধারণা করছি, জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে। চলমান প্রোগ্রাম পুনর্মূল্যায়ন হবে। তবে, সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে সরকার একা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ হয়নি।

দেশে তেলের মজুত পরিস্থিতি: বিপিসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে ডিজেল মজুতের সক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। গতকাল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। এই মজুত দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। গত ১ মার্চ থেকে গত রোববার পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক গড় বিক্রি প্রায় ১২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল সাড়ে ১২ হাজার টনের কাছাকাছি।

অকটেনের মজুদ ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৬১৬ টন। বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পেট্রোলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ বজায় রাখা যাবে। আর ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। জেট ফুয়েলের মজুত ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৩ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ সম্ভব। এ ছাড়া দেশের একমাত্র শোধানাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন শোধনক্ষমতা বিবেচনায় এই মজুত দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব।

আগামী দুই মাসের পরিকল্পনা: পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য প্রাথমিক আমদানি সূচি তৈরি করেছে বিপিসি। এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। সারা দেশে তাদের ডিপো রয়েছে। এসব ডিপো থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি পাঠানো হয়। মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে ৩ লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চূড়ান্ত মত দেয়নি। এ ছাড়া সরকার বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে রাশিয়া , মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং স্পট মার্কেট থেকে। তবে বিষয়গুলো এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে বন্দরে মোট ২৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ থেকে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি, এলপিজি ও বিভিন্ন ধরনের তেল দেশে এসেছে এবং আরও দুটি জাহাজ ২৫ মার্চ বা আজকের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে নজরদারি দরকার: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনো বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি; কিন্তু অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ আসতে বিলম্ব, সীমিত মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি চাপ একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন কালবেলাকে বলেন, অতিরিক্ত মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা বন্ধে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও সেনাবাহিনীর পোশাকসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ভুয়া সেন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ও সকালে পৃথক স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার ও এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসআরবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। পরে ভবনে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

​পরবর্তীতে একই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অপর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পালানোর চেষ্টাকালে চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে সাফায়েত আহমেদকে আটক করা হয়।

​পরে তার দেওয়া তথ্য মতে বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি সেনাবাহিনীর ক্যাপ, ১টি এপিবিএন-এর ক্যাপ ও ১টি সেনাবাহিনীর কোমর বন্ধনী উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-১০ এর সিপিএসসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো: শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।