খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

মেরামতের নামে প্রহসন, ফাটা পাইপে চলছে নগরকান্দা পৌরসভার পানির অপচয়

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
মেরামতের নামে প্রহসন, ফাটা পাইপে চলছে নগরকান্দা পৌরসভার পানির অপচয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে ফাটা পানির পাইপ দিয়ে অবিরাম পানি অপচয়ের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সমস্যার কারণে একদিকে যেমন বিশাল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ব্রিজের নিচে স্থাপিত সাপ্লাই লাইনের পাইপ ফেটে নিয়মিত পানি বের হয়ে যাচ্ছে। দিন-রাত অবিরাম পানি ঝরার ফলে আশপাশে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হচ্ছে, যা চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সাময়িক সংস্কার কাজ করা হলেও তা টেকসই হয়নি। ফলে কিছুদিন পরপরই একই সমস্যা পুনরায় দেখা দিচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে নাগরিক সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, দায়িত্বে অবহেলা ও নজরদারির অভাবেই সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান রাসেল বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে পাইপ ফেটে পানি অপচয় হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাচ্ছি না, অথচ প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।”

শুধু একটি স্থানেই নয়, কোর্টপাড় বন বিভাগ অফিসের পাশসহ পৌরসভার আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের পানির অপচয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি অপচয় অব্যাহত থাকলে তা শুধু স্থানীয় সংকটই তৈরি করে না, বরং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতা দ্রুত সমাধান না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মালামাল ঢাকায় থেকে সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”

  • এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ এবং নাগরিক ভোগান্তি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

আজকের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার, ফাস্টফুড, তেল-চর্বি বেশি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব- সব মিলিয়ে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নীরব কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

এটি বাড়তে থাকলে ধমনীতে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে। যে কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়; কিন্তু আমরা টেরই পাই না। এতে করে একসময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ বিপদ দেখা দেয়। তবে, এসব বিপদের আগেভাগেই আমাদের শরীর কিছু সংকেত দিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, কোলেস্টেরল বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব সংকেতকে অনেক সময় সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সময়মতো এসব লক্ষণ চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে—

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় বা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারিভাব কিংবা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনির রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ

ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করলে অনেকের বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটি হৃদ্‌রোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হয়, যা অনেক সময় আমরা পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাত-পায়ে অসাড়তা ও ঝিনঝিনি

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা দেয়। সিঁড়ি উঠার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াও একটি সতর্কবার্তা।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সরাসরি সংকেত। এটি বিপদসীমারও বেশি কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র : এবিপি লাইভ