ফরিদপুরে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই পুরনো ভবনে উঠছে অবৈধ তিনতলা, আতঙ্কে মানুষ
ফরিদপুর শহরের ব্যস্ত কাঠপট্টি এলাকায় পৌরসভার মৌখিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনের ওপর তৃতীয় তলার বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দেয়। নির্দেশনার পর কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও দুপুরের দিকে আবারও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা পুনরায় কাজ শুরু করে এবং তিনতলার দেয়ালের ওপর টিনশেড দিয়ে চাল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির সুযোগে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকার আধুনিক প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই প্রথমে একতলা, পরে দোতলা এবং বর্তমানে তিনতলা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে, নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, সকালে পৌরসভার লোকজন এসে কাজ বন্ধ করতে বললে তারা কাজ বন্ধ রাখেন। তবে পরে দোকান মালিকদের নির্দেশে আবার কাজ শুরু করেন তারা। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মার্কেট নির্মাণের পেছনে দীর্ঘদিনের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে রাতারাতি কিছু অবৈধ দোকান নির্মাণের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটের জায়গা ভাগবাটোয়ারা করা হয় এবং বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এসব পজিশন বরাদ্দ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে পৌরসভার বিভিন্ন মেয়াদের সময় দোতলা ও তিনতলার অংশবিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সর্বশেষ কিছুদিন আগে তিনতলার নতুন করে পজিশন বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত হয়। তবে সম্প্রতি আবারও সেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
মার্কেটের দোতলায় চেম্বার থাকা অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, “এই ধরনের অনুমোদনহীন ও দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মাণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার অফিস এই মার্কেটের সামনে। প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করি। যদি ভবন ধসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় পৌর কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।”
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মেহেরুণ নেসা স্বপ্না বলেন, “এটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী এবং বেআইনি কাজ। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সচিব মো. তানজিলুর রহমান জানান, “রোববার সকালে আমরা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। তারা দ্রুত তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন
Array