খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই পুরনো ভবনে উঠছে অবৈধ তিনতলা, আতঙ্কে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই পুরনো ভবনে উঠছে অবৈধ তিনতলা, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ত কাঠপট্টি এলাকায় পৌরসভার মৌখিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনের ওপর তৃতীয় তলার বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দেয়। নির্দেশনার পর কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও দুপুরের দিকে আবারও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা পুনরায় কাজ শুরু করে এবং তিনতলার দেয়ালের ওপর টিনশেড দিয়ে চাল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির সুযোগে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকার আধুনিক প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই প্রথমে একতলা, পরে দোতলা এবং বর্তমানে তিনতলা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এদিকে, নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, সকালে পৌরসভার লোকজন এসে কাজ বন্ধ করতে বললে তারা কাজ বন্ধ রাখেন। তবে পরে দোকান মালিকদের নির্দেশে আবার কাজ শুরু করেন তারা। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মার্কেট নির্মাণের পেছনে দীর্ঘদিনের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে রাতারাতি কিছু অবৈধ দোকান নির্মাণের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটের জায়গা ভাগবাটোয়ারা করা হয় এবং বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এসব পজিশন বরাদ্দ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে পৌরসভার বিভিন্ন মেয়াদের সময় দোতলা ও তিনতলার অংশবিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সর্বশেষ কিছুদিন আগে তিনতলার নতুন করে পজিশন বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত হয়। তবে সম্প্রতি আবারও সেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

মার্কেটের দোতলায় চেম্বার থাকা অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, “এই ধরনের অনুমোদনহীন ও দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মাণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার অফিস এই মার্কেটের সামনে। প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করি। যদি ভবন ধসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় পৌর কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।”

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মেহেরুণ নেসা স্বপ্না বলেন, “এটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী এবং বেআইনি কাজ। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সচিব মো. তানজিলুর রহমান জানান, “রোববার সকালে আমরা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। তারা দ্রুত তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এস এম ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ভীমপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি একই উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের পূবিলা গ্রামের মঈনুদ্দিনের ছেলে। তিনি দুই বারের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এস এম ফারুক হোসেনের নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

আপনার প্রতিদিনের ক্লান্তি কেবল কাজের চাপ নয়, বরং এর পেছনে থাকতে পারে গভীর কোনো কারণ। বিশ্ববিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ অনেক সময় জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।

নিচে আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির ১২টি প্রধান কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরা হলো:

১. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় শরীর তার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। কেবল কয়েক ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট নয়, ঘুমের মান ভালো হওয়া জরুরি। ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।

২. পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি যাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে আয়রন, ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), নিয়াসিন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব। সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

৩. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মনকে নিস্তেজ করে দেয়। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস থেকে ‘এক্সহশন ডিসঅর্ডার’ বা অবসাদজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৪. অপ্রকাশিত শারীরিক সমস্যা: যদি কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ডিপ্রেশন ক্লান্তির বড় কারণ হতে পারে।

৫. ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস: শরীরের শক্তি বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করিয়ে আপনাকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে।

৬. অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে চাঙা ভাব দিলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্টো ফল দেয়। বেশি ক্যাফেইন ঘুমের সাইকেল নষ্ট করে দেয়, যা পরের দিন আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত করে তোলে।

৭. পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: শরীরের প্রতিটি জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য পানি অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অবসাদ দেখা দেয়।

৮. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা: শরীরের বাড়তি ওজন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯. মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাব: যারা নিয়মিত অ্যালকোহল বা মাদকাসক্ত, তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং অবসাদ বাসা বাঁধে।

১০. শিফট ডিউটি ও অনিয়মিত রুটিন: কাজের প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত শিফট পরিবর্তন করতে হয়, তাদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ব্যাহত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তির অন্যতম কারণ।

১১. অলস জীবনযাপন: সারাদিন বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১২. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রক্তচাপের ওষুধ, স্টেরয়েড বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টের মতো কিছু ওষুধের প্রভাবেও শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকতে পারে।

পরিত্রাণের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লান্তি দূর করতে প্রথমে আপনার ঘুমের পরিবেশ উন্নত করুন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। তবে যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও ক্লান্তি না কমে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না; তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ বাশার মিয়া ওরফে চোরা বাশার (৫৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব বাকপুরা গ্রামে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার বাশার মিয়া পূর্ব বাকপুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে বাশারের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান দিকে গোজা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে জীপারযুক্ত নীল রঙের পলিপ্যাকেটে রাখা কমলা বর্ণের মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১১ গ্রাম। এ সময় মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে বাশার মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ভাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ও আসামীকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।