খুঁজুন
, ,

ইউরোপে ক্যারিয়ার : বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে ক্যারিয়ার : বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজার ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব শ্রমবাজারের সমীকরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন স্বপ্নের গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইউরোপ।

বিশেষ করে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক তরুণ এখন ইউরোপমুখী হচ্ছেন। এই যাত্রায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা।

কেন ইউরোপ এখন আকর্ষণের কেন্দ্রে?

ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণ শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় তারা এশিয়ার দেশগুলো থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হচ্ছে। জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও মাল্টার মতো দেশগুলো বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসানীতি শিথিল করেছে। ইউরোপে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সেনজেনভুক্ত ২৮টি দেশে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ।

মাল্টা : বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত গন্তব্য

ইউরোপের অনেক দেশে ভাষার জটিলতা এবং কঠোর ভিসা প্রক্রিয়া থাকলেও মাল্টা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সম্প্রতি (১ এপ্রিল) ঢাকায় মাল্টার ভিসা সার্ভিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন এই পথকে আরও সুগম করেছে।

১. হসপিটালিটি খাতে ব্যাপক চাহিদা : মাল্টার পর্যটন ও হোটেল খাতে বর্তমানে জনবলের ব্যাপক সংকট চলছে। বিশেষ করে ওয়েটার, বারটেন্ডার, হাউসকিপিং স্টাফ, বারিস্তা, রিসেপশনিস্ট, ক্লিনার, ডিশওয়াশার এবং শেফ পদে প্রচুর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসব পদের জন্য খুব উচ্চশিক্ষার চেয়ে কাজের অভিজ্ঞতা এবং মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২. আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা : মাল্টায় চাকরির ধরন অনুযায়ী মাসিক আয় ১৪০০ ইউরো থেকে শুরু করে ২৩০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। এর বাইরে ওভারটাইম করার সুযোগ তো থাকছেই। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় মাল্টার জীবনযাত্রার খরচও কিছুটা কম, যা সঞ্চয়ে সহায়ক।

৩. ভাষা ও পরিবেশ : ইউরোপের অনেক দেশে স্থানীয় ভাষা (যেমন- জার্মান বা ইতালিয়ান) না জানলে কাজ পাওয়া কঠিন। কিন্তু মাল্টায় ইংরেজি দাপ্তরিক ভাষা হওয়ায় বাংলাদেশিরা সহজেই কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নিতে পারেন।

ঢাকা থেকেই ভিসা প্রক্রিয়ার সুবিধা

একটা সময় ছিল যখন মাল্টার ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের ভারতের দিল্লিতে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবাল (ভিএফএস গ্লোবাল) থেকেই ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এই সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে, যা সাধারণ কর্মীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি তথ্যে জানা গেছে, আবেদন করার পরবর্তী প্রায় ছয় মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব।

কূটনৈতিক ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মাল্টার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মাল্টার হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকে দুদেশের বাণিজ্য, শিক্ষা ও অভিবাসন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

সচেতনতা ও সতর্কতা

ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈধ পথ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সাহায্যে আবেদন করা উচিত। যেকোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে বেতন, কাজের সময়, থাকার ব্যবস্থা এবং ভিসার ধরন যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক নির্দেশনার জন্য গাইডলাইন

ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়া অনেকেরই স্বপ্ন, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই পিছিয়ে পড়েন কিংবা ভুল পথে পা বাড়ান। আপনি যদি মাল্টাসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে কাজের সুযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ও স্বচ্ছ গাইডলাইন পেতে চান, তবে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিতে পারেন। ইউরোপ যাত্রার প্রতিটি ধাপ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে ভিজিট করতে পারেন https://www.swiftfly.site ঠিকানায়। এই ওয়েবসাইটটি আপনাকে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ইউরোপের শ্রমবাজার এখন বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার নাম। সঠিক প্রস্তুতি আর সঠিক তথ্যই পারে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে।

ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ায় একটি বসতবাড়ির কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কঙ্কালটির পরিচয় ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে মধুখালী থানা পুলিশ।

বাড়ির মালিক মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) জানান, ভোর প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে স্ল্যাবের ওপর দাঁড়ানোর সময় অন্য দিনের তুলনায় অস্বাভাবিক অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে আলী আকবর মণ্ডল নিজে সেখানে গিয়ে স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়।

দুপুর ১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বাথরুমের স্ল্যাব সরিয়ে নিচ থেকে একটি বস্তা উদ্ধার করে। বস্তা খুলে দেখা যায়, ভেতরে এক নারীর কঙ্কাল রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির মাথার খুলি মাঝারি আকারের। কঙ্কালের সঙ্গে দীর্ঘ কালো চুলের অংশ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাড়গুলোর বিভিন্ন জোড়া বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাটিচাপা অবস্থায় ছিল। তবে এটি কতদিন আগের এবং কীভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একটি আবাসিক বাড়ির বাথরুমের নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কঙ্কালের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, থানার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মধুখালী উপজেলায় কোনো নারী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নথিভুক্ত নেই। তাই কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তে আশপাশের এলাকা এবং পুরোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোয়াম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আবেদন জমার শেষ সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা বা বাছাই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এরই মধ্যে রোববার ভোরে কে বা কারা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

সকালে অনেক আবেদনকারী পরীক্ষা দিতে এসে ফিরে যান। আবার অনেকে নতুন সময়সীমার সুযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে দেখা যায়। এ কারণে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, নিয়োগ কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমি এ ধারণা নাকচ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনকারীদের সঙ্গে এ ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আবেদন জমার সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেটি পাওয়ার পর আজ সকাল ৮টার দিকে আমি বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছি। ভাঙচুরের ঘটনায় সমাজসেবা কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আলফাডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী জাকির হোসেন বলেন, “আমি রাতে অফিসে দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।”

অফিস সহকারী আজিজুর রহমান বলেন, “সকাল পৌনে ৯টার দিকে অফিসে এসে দেখি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্যারকে জানাই।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার বলেন, “অফিসে প্রবেশের আগেই খবর পাই দুর্বৃত্তরা আমার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলেছে। বিষয়টি জেলা কার্যালয়কে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই থানায় অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুবিধা চালু থাকলেও ফরিদপুরে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং তাদের আর্থিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

স্মারকলিপিতে ফরিদপুর জেলার সব ধরনের গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতারা জানান।