খুঁজুন
, ,

পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

প্রোটিন, চর্বি, মিষ্টি এবং অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবার এবং টেটের সময় ব্যায়ামের অভাবের সাথে মিলিত হয়ে অনেক মানুষের পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বদহজম হতে পারে।

বড় খাবারের পর, বিশেষ করে টেট (চন্দ্র নববর্ষ) উদযাপনের সময়, উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পাচনতন্ত্র অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। যখন শরীর দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকে বা শুয়ে থাকে, তখন অন্ত্রের গতিশীলতা হ্রাস পায় এবং পরিপাকতন্ত্রে সহজেই গ্যাস জমা হয়, যার ফলে পেট ফুলে যায়, পেটে ভারী অনুভূতি হয় এবং এমনকি বমি বমি ভাব বা রিফ্লাক্সও হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে হালকা ব্যায়াম সাহায্য করে:

কন্টেন্ট

 ১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 ২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

 ৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

 ৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

 ৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

– অন্ত্রের গতিবিধি উদ্দীপিত করে, খাবারের হজমকে উৎসাহিত করে।

– পেট এবং অন্ত্রে গ্যাস জমা কমায়।

– পরিপাকতন্ত্রে রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে।

– স্নায়বিক উত্তেজনা হ্রাস করুন, যা কার্যকরী হজমের ব্যাধিকে বাড়িয়ে তোলে।

তবে, খাওয়ার পরপরই উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত নয়; পরিবর্তে, ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্বল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন।

চন্দ্র নববর্ষের ছুটিতে বয়স্ক এবং সীমিত শারীরিক পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত ৫টি সহজ, নিরাপদ ব্যায়ামের তালিকা এখানে দেওয়া হল:

১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পেট ফাঁপা কমানোর জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম। হালকা হাঁটা অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপিত করে, অন্যদিকে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস হজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, ডায়াফ্রামকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– সোজা হয়ে দাঁড়ান, জায়গায় হালকাভাবে হাঁটুন অথবা ঘরের চারপাশে হেঁটে যান।

– নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সাথে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ৫-৭ মিনিট ধরে রাখুন।

২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত ক্রাঞ্চ করার পরামর্শ প্রায়শই স্পোর্টস মেডিসিন এবং থেরাপিউটিক যোগব্যায়ামে দেওয়া হয়। এই নড়াচড়া পেটের গহ্বরে মৃদু চাপ প্রয়োগ করে, অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দিতে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– মাদুর বা বিছানায় পিঠের উপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়ুন, এক বা উভয় হাঁটু পেটের দিকে বাঁকুন এবং আলতো করে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।

– ১৫-২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, সমানভাবে শ্বাস নিন।

৫-৮ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

বসার সময় শরীরের উপরের অংশ মৃদুভাবে ঘোরানো বয়স্কদের জন্য বা যারা ব্যায়ামের সাথে অপরিচিত তাদের জন্য উপযুক্ত। এই ব্যায়ামটি হজম অঙ্গগুলিকে আলতো করে ম্যাসাজ করে এবং পেটের গহ্বরে রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– তোমার চেয়ারে সোজা হয়ে বসো, তোমার হাত তোমার উরুতে রাখো।

– ধীরে ধীরে আপনার শরীরের উপরের অংশটি বাম এবং ডানে ঘোরান।

– প্রতিটি পাশে ৮-১০ বার।

৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

এটি একটি ক্লাসিক ভঙ্গি যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। বিড়াল-গরু ভঙ্গি পরিপাকতন্ত্রের কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করে এবং প্রচুর খাবার খাওয়ার পরে পেট ফাঁপা কমায়।

এটা কিভাবে করবেন:

– মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসুন, হাত এবং হাঁটু মেঝেতে রাখুন।

– শ্বাস নিন, আপনার পিঠ নিচের দিকে বাঁকান (গরুর ভঙ্গি)।

– শ্বাস ছাড়ুন, আপনার পিঠ বাঁকান (বিড়ালের ভঙ্গি)।

– ৮-১২টি পুনরাবৃত্তি করুন।

৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

এটি একটি মৃদু ব্যায়াম, টেট (ভিয়েতনামী নববর্ষ) এর সন্ধ্যার জন্য উপযুক্ত। এটি মানসিক চাপ কমাতে, মস্তিষ্ক-অন্ত্রের অক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দক্ষ হজমে সহায়তা করে।

এটা কিভাবে করবেন:

এক হাত পেটের উপর রেখে আরাম করে শুয়ে পড়ুন বা বসুন।

– পেট প্রসারিত না হওয়া পর্যন্ত গভীরভাবে শ্বাস নিন, তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ঘড়ির কাঁটার দিকে পেট ম্যাসাজ করুন।

– এটি ৩-৫ মিনিটের জন্য করুন।

খাবারের পরে পেট ফাঁপা এড়াতে ব্যায়ামের নীতিগুলি:

– সঠিক সময় বেছে নিন: খাবারের প্রায় 30-60 মিনিট পরে ব্যায়াম করুন এবং পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।

– উপযুক্ত সময়কাল: ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী প্রতিটি সেশন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে হজমকে উদ্দীপিত করার জন্য যথেষ্ট।

– নিম্ন থেকে মাঝারি তীব্রতা: এমন একটি স্তরে ব্যায়াম করুন যেখানে আপনি শ্বাসকষ্ট ছাড়াই ব্যায়াম করতে পারবেন এবং ব্যায়াম করার সময় কথা বলতে পারবেন।

– মৃদু ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন: স্ট্রেচিং, পেটের ব্যায়াম এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিন।

– উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন: খাওয়ার পর জোরে জোরে সিট-আপ করবেন না, দ্রুত দৌড়াবেন না বা ওজন তুলবেন না।

– আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন: পেটের সমস্যা, রিফ্লাক্স, বা হৃদরোগের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের খুব আস্তে আস্তে শুরু করা উচিত এবং যদি তারা কোনও অস্বস্তি অনুভব করেন তবে বন্ধ করা উচিত।

– এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে একত্রিত করুন: পেট ফাঁপা এবং বদহজমের ঝুঁকি কমাতে একটি সুষম খাদ্য খান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন।

সূত্র: https://suckhoedoisong.vn/5-bai-tap-tai-nha-giup-giam-day-bung-sau-tiec-tet-169260206143502864.htm

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে, ঠিক সেই সময় নির্বিচারে মাছ ধরায় জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নালা ও নদীর বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”

একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় এ ধরনের অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”