খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীতে ফরিদপুরের একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে শতাধিক ব্যবসায়ী  তাদের দোকানে যেতে পারছেন না। এতে করে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েড়েছেন তারা, বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সালথা ও বেয়ালমারী উপজেলার দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রতিপক্ষের ভয়ে গত দুই মাস শতাধিক ব্যবসায়ী স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের দোকানে যেতে পারছেন না বলে  জানিয়েছেন। টানা দুই মাস ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় দোকানে  কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে ।  এমন অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে সালথার খারদিয়া গ্রাম ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজার| বাজারে অন্তত এক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের সাথে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক টুলু মিয়া এবং জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।  টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বাড়ি খারদিয়া গ্রামে আর আব্দুল মান্নানের বাড়ি ময়েনদিয়া বাজার এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান চেয়ারম্যান| আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন হান্নান চেয়ারম্যানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। একপর্যায় মান্নান চেয়ারম্যান ও তার নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়| পরে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন টুলু ও জিহাদ মিয়া। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এক নেতার সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসেন মান্নান চেয়ারম্যান। এরপর মান্নান ও তার সমর্থকরা ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সালথার খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। বাজারের গেলেও মান্নানের সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে ও হুমকি ধামকি দেয়। এমন অবস্থায় গত দুই মাস ধরে খারদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখায় তাদের কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ময়েনদিয়া বাজারের মিনহাজ টেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, দুই মাস ধরে ময়েনদিয়া বাজারে থাকার আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। এতে আমার দোকানে সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি একা নয়, আমার মতো শতাধিক ব্যবসায়ী মান্নান চেয়ারম্যান ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের সমর্থকদের ভয়ে বাজারে থাকা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার সম্পদ ও মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ী, আমাদের কোনো দলপক্ষ নেই। তারপরেও বাজারে যেতে দেয়া হচ্ছে না আমাদের।

কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে, কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীদের কি দোষ? আমাদের দোকান কেন খুলতে দিচ্ছে না। কোনো ব্যবসায়ী বাজারে গেলেও তাকে মারধর করা হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পেরে আমরা পথে বসে যাচ্ছি।  আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানানো পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খারদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক ছায়েদুল মুন্সী বলেন, কয়েকদিন আগে আমি ভাড়া নিয়ে ময়েনদিয়া বাজারে গেলে মান্নান চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে বলে, তোরা খারদিয়া গ্রামের কোনো লোকজন ময়েনদিয়া বাজারে আর আসবি না।

ময়েনদিয়া বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া বলেন, আমার বাড়ি খারদিয়া হওয়ায় সংঘর্ষের পর থেকে বাজার থেকে ইজারার টাকা তুলতে দিচ্ছে না মান্নান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আমার লোকজন বাজারে গেলেই তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজার থেকে বের করে দেয়। এমন অবস্থায় বাজার থেকে ইজারার টাকাও তুলতে পারছি না।

শাহিন মিয়া নামে ময়েনদিয়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থেকে বাজারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা নিজেরা ব্যবসা করতে না পারলে অন্যদেরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি  স্বাভাবিক রয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই ময়েনদিয়া বাজারের বাসিন্দা সিদ্দিক মাতুব্বরের ছেলে মো. শাহিন মিয়া বলেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর তার চাচা পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের বাড়িসহ তাদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর তারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

তিনি বলেন, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তার দাবি, বাজারে এখনো স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে এবং অধিকাংশ ব্যবসায়ী নির্ভয়ে দোকান খুলছেন। যারা বাজারে আসতে পারছেন না বা আসছেন না, তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম  বলেন, অনেক আগে থেকেই ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধে বিরোধ চলমান ছিলো, উভয় পক্ষের দায়ের করা একাধীক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪  ফেব্রুয়ারী ময়েনদিয়া ও খারদিয়াবাসীর মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়, বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নজরে রেখছে জেলা পুলিশ বিভাগ।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় আমরা বেশ কিছু আসামিকে ধরতে সক্ষম হয়েছি, আরো কয়েকজনকে খুঁজছি, আশা করি ধরতে সক্ষম হব শীঘ্রই। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপরাধ ব্যবসায়ীরা যাতে বাজার এলাকায় নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে তার নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কোন নিরীহ বা নির অপরাধ লোককে করা হবে না। কেউ কাউকে হুমকি দিলেও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষের কাজকর্ম ও চলাচলে বাধা দিলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আর বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বাইজিদ আহমদ শাহেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শারাফাত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বকুল, জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আব্দুল মতিন বিন আব্দুল বারী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শামসুরের স্ত্রী মেঘলা আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা সম্মান করে বাস্তবায়ন করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তারা অবিলম্বে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেমিনার শেষে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী আলেম মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বিরের মমতাময়ী মা আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম (ব্রিটিশ নাগরিক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট লাঘব করেন—এই দোয়াই সকলের কাছে কামনা করছি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বয়সজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে তাঁর রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত প্রার্থনা করেছেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং একজন মায়ের সুস্থতার জন্য সন্তানের এই আবেদন মানবিকতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির শেষবারের মতো আবারও সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাঁর মায়ের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করেন।

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

‘সবার জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত পরিবার, টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।