খুঁজুন
, ,

কৃষক কার্ড কী, রয়েছে যেসব সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
কৃষক কার্ড কী, রয়েছে যেসব সুবিধা

পয়লা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য-সংস্কৃতির অংশ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি কৃষকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলা বছরের মাস হিসাব কষে কৃষক ফসল বোনে। সেই দিনেই কৃষকদের জন্য উপহার নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিনটিতে দেশের কৃষকদের কল্যাণে একটি যুগান্তকারী অনন্য উদ্যোগ কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, এর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোসহ কয়েকটি সংস্থা মিলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং এ সংক্রান্ত কার্যপত্রে কৃষক কার্ডের যৌক্তিকতা, সুবিধা, নিরাপত্তা জানা যায়।

কৃষক কার্ডের যৌক্তিকতা

বিএনপি একটি আধুনিকমনস্ক রাজনৈতিক দল, যা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের সনাতনী কৃষি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় এসেছে নতুন কৌশল কৃষক কার্ড। সরকার মনে করে,

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত করা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সংযুক্তিই হচ্ছে কৃষক কার্ড।

কৃষক কার্ড কোনো খয়রাতি কর্মসূচি নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুখে যারা খাবার তুলে দেন, সেই কৃষকের উন্নয়নের জন্য এটি একটি স্মার্ট কৌশল। কৃষক কার্ড প্রকৃতপক্ষে কোনো সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নয়, বরং কৃষকের ন্যায্যঅধিকার আদায়ের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার।

স্বচ্ছতার সাথে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পাশাপাশি কৃষক কার্ড কৃষকের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

কৃষক কার্ডের সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে সরকার জাতীয় কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্ষম হবে।

কার্যপত্র অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার দূরদর্শী চিন্তা থেকে এ দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ‘খাল খনন কর্মসূচি’র মাধ্যমে সেচের সুব্যবস্থা করেছিলেন। খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারে ভর্তুকি প্রবর্তনসহ কৃষকের কল্যাণে নিয়েছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাদের সেই নীতি অনুসরণে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকীকরণের এক নতুন শিখরে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এজন্য সবার আগে সরকার দিতে চায় কৃষকের প্রকৃত মর্যাদা, সম্মান আর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

‘কৃষক কার্ড’ একটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য ও ইউনিক পরিচয়পত্র, এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কৃষক নিজের পরিচয়কে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। তার পরিচয় সংশ্লিষ্ট সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এই তথ্যভান্ডারে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি সেবা প্রদানকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তুলবে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যখনই কোনো সাহায্য বা সহযোগিতা আসবে, তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে, কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন হবে না। এই কর্মসূচির সুবিধা ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে জড়িত সকল প্রকৃত কৃষক পাবেন।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ সেবা

সরকার বলছে, কৃষকরা অর্থনীতির প্রাণ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে ফসল ফলান, তাতেই এ দেশের মানুষের অন্নসংস্থান হয়। যে কার্ডটি কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি অধিকারের দলিল, এটি সমৃদ্ধির সোপান। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যে সুবিধাগুলো পাবেন, তা জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০টি সেবা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে

সরাসরি আর্থিক সহায়তা: এখন থেকে সরকারি নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কৃষকের টাকা কৃষকই পাবেন পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে।

কৃষি উপকরণ: স্বল্প মূল্যে উন্নত মানের সার, বীজ, সেচ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পেতে এই কার্ডটি সহযোগিতা করবে।

আর্থিক ও বিমা সেবা: কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে ‘কৃষি বিমা’র সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এই কার্ডের মাধ্যমেই।

প্রযুক্তিগত পরামর্শ: স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই নিরাময়, আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানতে পারবেন। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি এখন আপনার হাতের মুঠোয়, যা কৃষকের পণ্যের নিরাপত্তা দেবে এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করবে।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরাসরি ডাটাবেজের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হবে, ফলে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন কৃষক।

প্রশিক্ষণ: কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবেন কৃষক। সরকারি এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করতে পারবেন কৃষক।

মন্ত্রণালয় জানায়, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রি-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ২১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ

কেস-১: ডাল, তৈলবীজ ও চিনি আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

কেস-২: কৃষক কার্ড ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু, আম প্রভৃতি উচ্চমূল্য ফসল দ্রুততার সাথে মাঠ থেকে সরাসরি রপ্তানির লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

কেস-৩: প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন কৃষকদের বসতবাড়িতে সবজি, মৌসুমী ফল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি পালনের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজড আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেটে এই অর্থের সংস্থান হবে। এই বিনিয়োগ প্রকৃতপক্ষে বহুগুণে ভূমিহীন কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতি এবং সমষ্টিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বসতবাড়িতে নিয়মিত সবজি উৎপাদন ও হাঁস-মুরগি পালন করলে কৃষক পরিবারের অতিরিক্ত আয় ৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। কৃষক পরিবারের নারী সদস্যরা মূলত এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন হলে ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স প্রতিটি ধাপে উন্নতি ঘটে। এভাবেই প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করে যুগান্তকারী কৃষক কার্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কৃষকের তথ্যের নিরাপত্তা

কৃষক কার্ডের জন্য সংগৃহীত তথ্য নির্ধারিত সরকারি ডেটা সেন্টারে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে। তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি জোরদার করা হবে। মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক কার্ড ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি ও লেনদেনের তথ্য দেখতে পারবেন এবং কৃষি কর্মসূচিসহ আর্থিক সেবা সম্পর্কিত ক্ষুদে বার্তা গ্রহণ ও পাঠাতে পারবেন। স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশ্ন-উত্তর জানা, শস্য উৎপাদনে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো জানতে পারবেন। কৃষকরা নির্ধারিত কল সেন্টার নম্বরে বিনামূল্যে ফোনকল করে কৃষক কার্ডের সব সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি: সাধারণ জিজ্ঞাসাবলি

প্রশ্ন: ‘কৃষক কার্ড’ আসলে কী?

উত্তর: কৃষক কার্ড হলো বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল কার্ড। এটি মূলত একটি চিপ-সংবলিত ব্যাংক কার্ড। এ কার্ড একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যেখানে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং অন্যান্য কৃষি সেবা লাভ করবেন।

প্রশ্ন: কী উদ্দেশ্যে এই কৃষক কার্ড প্রচলন করা হয়েছে?

উত্তর: দেশের সব কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্যসমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষক ডাটাবেজ তৈরি এবং এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা স্বচ্ছতার সাথে দ্রুততম সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রশ্ন: কারা এই কৃষক কার্ড পাবেন?

উত্তর: দেশের ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সাথে জড়িত সব প্রকৃত কৃষক এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কী কী সুবিধা পাবেন?

উত্তর: এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি সেবা/সুবিধা পাবেন, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে রোগবালাই পরামর্শ, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি বিমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় সুবিধা।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রম কয়টি এবং কোন কোন উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমটি দেশের আট বিভাগের ১০টি জেলার মোট ১১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলাগুলো সদর উপজেলা (টাঙ্গাইল) শিবগঞ্জ উপজেলা (বগুড়া) সদর উপজেলা (পঞ্চগড়) বোদা (পঞ্চগড়) ইসলামপুর উপজেলা (জামালপুর) শৈলকূপা উপজেলা (ঝিনাইদহ) নেছারাবাদ উপজেলা (পিরোজপুর) জুড়ী উপজেলা (মৌলভীবাজার) সদর আদর্শ উপজেলা (কুমিল্লা) গোয়ালন্দ উপজেলা (রাজবাড়ী) এবং টেকনাফ উপজেলা (কক্সবাজার)।

প্রশ্ন: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম কখন বাস্তবায়িত হয়েছে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৫ দিন মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন কি না?

উত্তর: হ্যাঁ। প্রি-পাইলটিংপর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ এককালীন ২৫শ টাকা সহায়তা পাবেন।

প্রশ্ন: পাইলটিং কার্যক্রম কয়টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: ‘পাইলটিং’ কার্যক্রমটি দেশের ১৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।

প্রশ্ন: কোন সময়ে পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত ১৫টি উপজেলায় পাইলটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

প্রশ্ন: দেশব্যাপী এই কার্যক্রম কোন সময়ে বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরের (৪৮ মাস) মধ্যে সারাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করার সুযোগ আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি ডাইনামিক ডাটাবেজ। কৃষকের জমির পরিমাণ পরিবর্তন হলে বা নতুন ফসল চাষ শুরু হলে বা সুনির্দিষ্ট তথ্য সংযোজন, পরিমার্জন বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলানিউজ

ফরিদপুরের মধুখালীতে গাঁজাসহ আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে গাঁজাসহ আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮)। তিনি মধুখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত ইসকেন্দার হায়দারের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রান্তকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রান্তকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তের বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় পূর্বেও মাদক-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ, বদলে যেতে পারে কৃষির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও আবু নাসের হোসাইন, সালথা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ, বদলে যেতে পারে কৃষির চিত্র

কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। প্রচলিত ধান, পাট, গম কিংবা সবজি চাষের গণ্ডি পেরিয়ে এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায়। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ফরিদপুর অঞ্চলে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের আনারস চাষ আগে দেখা যায়নি। ফলে মিলন ফকিরের এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিকল্প ও লাভজনক ফলচাষের পথ উন্মুক্ত হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যদুনন্দী গ্রামের দুটি পৃথক প্লটে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে হাজার হাজার আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত বাগানজুড়ে চলছে নিয়মিত পরিচর্যা। দূর থেকে দেখলে সবুজের সমারোহে ভরা বাগানটি যে কারও দৃষ্টি কাড়ে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কৃষকরা বাগান পরিদর্শনে আসছেন এবং আনারস চাষের খুঁটিনাটি বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, মিলন ফকির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিপণ্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই দুই বছর আগে তিনি বাড়ির ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান। আশাতীত ফলন ও সফলতা তাকে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর তিনি পরিকল্পিতভাবে আনারস চাষের জন্য জমি নির্বাচন করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।

চলতি বছরে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চল থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ৮ বিঘা জমিতে এসব চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে বাগানের গাছগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে এবং আগামী বছর থেকে ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “প্রথমে শখের বসে বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগিয়েছিলাম। গাছে ভালো ফল আসার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখন মনে হলো, বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই এবার বড় পরিসরে চাষ শুরু করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত, সেচ ব্যবস্থা, সার, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে আগামী বছর ফল সংগ্রহ করা যাবে। তখন প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

মিলন ফকির জানান, শুধু ফল বিক্রিই নয়, ভবিষ্যতে আনারসের উন্নত জাতের চারা উৎপাদন ও বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত আয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরাও সহজে মানসম্পন্ন চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, “আমার এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অনেক কৃষক আনারস চাষে আগ্রহী হবেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আনারসের আবাদ সম্প্রসারণ করবো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালথা এলাকায় এর আগে কখনো এভাবে বাণিজ্যিক আকারে আনারস চাষ হতে দেখা যায়নি। ফলে বাগানটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা সাধারণত ধান, পাট ও সবজি চাষ করি। আনারস চাষের কথা কখনো ভাবিনি। মিলন ফকিরের বাগান দেখে মনে হচ্ছে এটি লাভজনক হতে পারে। ফলন ভালো হলে আমরাও এ ধরনের ফলচাষে আগ্রহী হবো।”

আরেক কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাগানটি দেখতে খুব সুন্দর। প্রতিদিন অনেক মানুষ দেখতে আসছে। সফল হলে এটি এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হবে।”

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আনারস একটি লাভজনক ফল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আনারসের চাষ হয়। বর্তমানে বাজারে আনারসের চাহিদা বাড়ছে এবং ফলটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হজম সহায়ক উপাদান। ফলে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে আনারসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কৃষিতে বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাভজনক ফল ও ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। মিলন ফকিরের এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. রইচ উদ্দিন বলেন, “ফরিদপুরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের জেলায় সাধারণত ধান, পাট, গম ও বিভিন্ন সবজি চাষের প্রচলন বেশি থাকলেও কৃষিতে বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে নতুন নতুন ফল ও ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন। মিলন ফকিরের মতো উদ্যোক্তারা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা বাগানের অবস্থা সন্তোষজনক দেখেছি এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। যদি ফলন ও বাজারজাতকরণ সফল হয়, তাহলে ফরিদপুরের অনেক কৃষক আনারস চাষে আগ্রহী হবেন। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় ফরিদপুর অঞ্চলেও আনারস চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে মিলন ফকিরের এই সাহসী পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই কৃষকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তার স্বপ্ন সফল হলে শুধু একজন উদ্যোক্তার আর্থিক উন্নয়নই নয়, বরং ফরিদপুরে আনারস চাষের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন সম্ভাবনা, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত হবে আয়ের নতুন দিগন্ত।

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

সুস্থ থাকতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে যখন প্রশ্ন আসে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কোন ফলটি বেছে নেবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় দুটি ফল কমলা এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা চিনি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের।

যদিও উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগত গঠন এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) পার্থক্যের কারণে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রায় এদের প্রভাব ভিন্ন হয়।

আজকের ফিচারে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে দেখব, আপনার শরীরের জন্য এই দুটি ফলের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে আপনার শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কে এগিয়ে?

রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় কমলার পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করা হয়। কারণ কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) মাত্র ৩৫, যা বেশ কম। অন্যদিকে, একটি পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৪৮ এর কাছাকাছি থাকে। যেহেতু কমলার জিআই কম, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কলার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির তুলনা: একনজরে

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।

কলার গুণাগুণ: পাকা নাকি আধাপাকা?

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল

আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

৩. পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষকথা

কমলা এবং কলা উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ