খুঁজুন
, ,

কৃষক কার্ড কী, রয়েছে যেসব সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
কৃষক কার্ড কী, রয়েছে যেসব সুবিধা

পয়লা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য-সংস্কৃতির অংশ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি কৃষকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলা বছরের মাস হিসাব কষে কৃষক ফসল বোনে। সেই দিনেই কৃষকদের জন্য উপহার নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিনটিতে দেশের কৃষকদের কল্যাণে একটি যুগান্তকারী অনন্য উদ্যোগ কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, এর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোসহ কয়েকটি সংস্থা মিলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং এ সংক্রান্ত কার্যপত্রে কৃষক কার্ডের যৌক্তিকতা, সুবিধা, নিরাপত্তা জানা যায়।

কৃষক কার্ডের যৌক্তিকতা

বিএনপি একটি আধুনিকমনস্ক রাজনৈতিক দল, যা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের সনাতনী কৃষি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় এসেছে নতুন কৌশল কৃষক কার্ড। সরকার মনে করে,

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত করা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সংযুক্তিই হচ্ছে কৃষক কার্ড।

কৃষক কার্ড কোনো খয়রাতি কর্মসূচি নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুখে যারা খাবার তুলে দেন, সেই কৃষকের উন্নয়নের জন্য এটি একটি স্মার্ট কৌশল। কৃষক কার্ড প্রকৃতপক্ষে কোনো সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নয়, বরং কৃষকের ন্যায্যঅধিকার আদায়ের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার।

স্বচ্ছতার সাথে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পাশাপাশি কৃষক কার্ড কৃষকের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

কৃষক কার্ডের সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে সরকার জাতীয় কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্ষম হবে।

কার্যপত্র অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার দূরদর্শী চিন্তা থেকে এ দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ‘খাল খনন কর্মসূচি’র মাধ্যমে সেচের সুব্যবস্থা করেছিলেন। খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারে ভর্তুকি প্রবর্তনসহ কৃষকের কল্যাণে নিয়েছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাদের সেই নীতি অনুসরণে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকীকরণের এক নতুন শিখরে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এজন্য সবার আগে সরকার দিতে চায় কৃষকের প্রকৃত মর্যাদা, সম্মান আর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

‘কৃষক কার্ড’ একটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য ও ইউনিক পরিচয়পত্র, এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কৃষক নিজের পরিচয়কে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। তার পরিচয় সংশ্লিষ্ট সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এই তথ্যভান্ডারে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি সেবা প্রদানকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তুলবে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যখনই কোনো সাহায্য বা সহযোগিতা আসবে, তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে, কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন হবে না। এই কর্মসূচির সুবিধা ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে জড়িত সকল প্রকৃত কৃষক পাবেন।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ সেবা

সরকার বলছে, কৃষকরা অর্থনীতির প্রাণ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে ফসল ফলান, তাতেই এ দেশের মানুষের অন্নসংস্থান হয়। যে কার্ডটি কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি অধিকারের দলিল, এটি সমৃদ্ধির সোপান। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যে সুবিধাগুলো পাবেন, তা জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০টি সেবা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে

সরাসরি আর্থিক সহায়তা: এখন থেকে সরকারি নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কৃষকের টাকা কৃষকই পাবেন পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে।

কৃষি উপকরণ: স্বল্প মূল্যে উন্নত মানের সার, বীজ, সেচ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পেতে এই কার্ডটি সহযোগিতা করবে।

আর্থিক ও বিমা সেবা: কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে ‘কৃষি বিমা’র সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এই কার্ডের মাধ্যমেই।

প্রযুক্তিগত পরামর্শ: স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই নিরাময়, আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানতে পারবেন। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি এখন আপনার হাতের মুঠোয়, যা কৃষকের পণ্যের নিরাপত্তা দেবে এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করবে।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরাসরি ডাটাবেজের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হবে, ফলে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন কৃষক।

প্রশিক্ষণ: কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবেন কৃষক। সরকারি এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করতে পারবেন কৃষক।

মন্ত্রণালয় জানায়, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রি-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ২১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ

কেস-১: ডাল, তৈলবীজ ও চিনি আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

কেস-২: কৃষক কার্ড ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু, আম প্রভৃতি উচ্চমূল্য ফসল দ্রুততার সাথে মাঠ থেকে সরাসরি রপ্তানির লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

কেস-৩: প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন কৃষকদের বসতবাড়িতে সবজি, মৌসুমী ফল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি পালনের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজড আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেটে এই অর্থের সংস্থান হবে। এই বিনিয়োগ প্রকৃতপক্ষে বহুগুণে ভূমিহীন কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতি এবং সমষ্টিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বসতবাড়িতে নিয়মিত সবজি উৎপাদন ও হাঁস-মুরগি পালন করলে কৃষক পরিবারের অতিরিক্ত আয় ৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। কৃষক পরিবারের নারী সদস্যরা মূলত এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন হলে ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স প্রতিটি ধাপে উন্নতি ঘটে। এভাবেই প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করে যুগান্তকারী কৃষক কার্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কৃষকের তথ্যের নিরাপত্তা

কৃষক কার্ডের জন্য সংগৃহীত তথ্য নির্ধারিত সরকারি ডেটা সেন্টারে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে। তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি জোরদার করা হবে। মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক কার্ড ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি ও লেনদেনের তথ্য দেখতে পারবেন এবং কৃষি কর্মসূচিসহ আর্থিক সেবা সম্পর্কিত ক্ষুদে বার্তা গ্রহণ ও পাঠাতে পারবেন। স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশ্ন-উত্তর জানা, শস্য উৎপাদনে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো জানতে পারবেন। কৃষকরা নির্ধারিত কল সেন্টার নম্বরে বিনামূল্যে ফোনকল করে কৃষক কার্ডের সব সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি: সাধারণ জিজ্ঞাসাবলি

প্রশ্ন: ‘কৃষক কার্ড’ আসলে কী?

উত্তর: কৃষক কার্ড হলো বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল কার্ড। এটি মূলত একটি চিপ-সংবলিত ব্যাংক কার্ড। এ কার্ড একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যেখানে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং অন্যান্য কৃষি সেবা লাভ করবেন।

প্রশ্ন: কী উদ্দেশ্যে এই কৃষক কার্ড প্রচলন করা হয়েছে?

উত্তর: দেশের সব কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্যসমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষক ডাটাবেজ তৈরি এবং এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা স্বচ্ছতার সাথে দ্রুততম সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রশ্ন: কারা এই কৃষক কার্ড পাবেন?

উত্তর: দেশের ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সাথে জড়িত সব প্রকৃত কৃষক এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কী কী সুবিধা পাবেন?

উত্তর: এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি সেবা/সুবিধা পাবেন, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে রোগবালাই পরামর্শ, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি বিমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় সুবিধা।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রম কয়টি এবং কোন কোন উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমটি দেশের আট বিভাগের ১০টি জেলার মোট ১১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলাগুলো সদর উপজেলা (টাঙ্গাইল) শিবগঞ্জ উপজেলা (বগুড়া) সদর উপজেলা (পঞ্চগড়) বোদা (পঞ্চগড়) ইসলামপুর উপজেলা (জামালপুর) শৈলকূপা উপজেলা (ঝিনাইদহ) নেছারাবাদ উপজেলা (পিরোজপুর) জুড়ী উপজেলা (মৌলভীবাজার) সদর আদর্শ উপজেলা (কুমিল্লা) গোয়ালন্দ উপজেলা (রাজবাড়ী) এবং টেকনাফ উপজেলা (কক্সবাজার)।

প্রশ্ন: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম কখন বাস্তবায়িত হয়েছে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৫ দিন মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন কি না?

উত্তর: হ্যাঁ। প্রি-পাইলটিংপর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ এককালীন ২৫শ টাকা সহায়তা পাবেন।

প্রশ্ন: পাইলটিং কার্যক্রম কয়টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: ‘পাইলটিং’ কার্যক্রমটি দেশের ১৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।

প্রশ্ন: কোন সময়ে পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: প্রি-পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত ১৫টি উপজেলায় পাইলটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

প্রশ্ন: দেশব্যাপী এই কার্যক্রম কোন সময়ে বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরের (৪৮ মাস) মধ্যে সারাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: কৃষক কার্ডের তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করার সুযোগ আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি ডাইনামিক ডাটাবেজ। কৃষকের জমির পরিমাণ পরিবর্তন হলে বা নতুন ফসল চাষ শুরু হলে বা সুনির্দিষ্ট তথ্য সংযোজন, পরিমার্জন বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলানিউজ

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”