দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি সরকার। আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসেব আমরা করি না। কে কোন দল করে তাও আমরা দেখবো না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পনঃখনন কর্মসুচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। খাল ও নদী-নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করবো। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
শামা ওবায়েদ বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ যা যা প্রয়োজন অবকাঠামো সকল প্রকার উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলা গুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবসত কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।
সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের উপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নিব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, আপনারা পুলিশ প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
তিনি বলেন, যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে দলের হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ, মাহফুজুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান প্রমূখ।

আপনার মতামত লিখুন
Array