খুঁজুন
, ,

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ফমেক)-এ সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা যাবে না—এমন দাবি তুলে তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩ মে) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন।

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি ঘটনার ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা হাসপাতালে যান। আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে এক আনসার সদস্য তাদের বাধা দেন এবং দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন। পরে নিজেকে রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে ডা. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, হাসপাতাল এলাকায় কোনো ভিডিও ধারণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

সাংবাদিকরা জানান, তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। পরে উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং পরিচালক ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

একজন সাংবাদিক বলেন, “আমরা রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এমনকি আমাদের বলা হয়—কর্তৃপক্ষ না থাকলে এসে কাজ করতে। এতে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর বাধার সৃষ্টি হয়।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক অনুমতির নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, “আমার জানা মতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। তবে গবেষণা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।”

ঘটনার পরপরই সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে অনুমতির নামে বাধা সৃষ্টি করলে সংবাদ সংগ্রহ ব্যাহত হবে। হাসপাতাল কোনো গোপনীয় প্রতিষ্ঠান নয়—এটি জনসেবামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যেখানে প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যেখানে অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতি—সেখানেই আলোকপাত করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজ করতে না দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ফরিদপুরের সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায়ও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হবে। এমন বাধা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অবিলম্বে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, “এটি মুক্ত সাংবাদিকতার পথে স্পষ্ট বাধা। কোনো প্রকার ‘অঘোষিত আইন’ করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বীকৃত। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার সাংবাদিকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে রোগীর গোপনীয়তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।